ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ৬ জন কারাগারে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় থেকে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেফতার ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানের আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন-সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল মো. নুরুজ্জামান, মো. মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান, জিয়াউল ইসলাম এবং আনসার সদস্য সোহেল রানা। এর মধ্যে সার্জেন্ট আল মামুন ও ল্যান্স কর্পোরাল নুরুজ্জামান ডিজিএফআইয়ের হেড কোয়াটারে কর্মরত।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত স্বার্থে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার ৬ জনকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে সোহেল রানা ভুক্তভোগী ব্যাবসায়ীর প্রতিবেশী। তার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্ত অন্যদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে আসামি সোহেল তাকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের রোড নম্বর ৬-এর ১৭ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলার ২৩ নম্বর ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর সোহেল ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ওই বাসায় প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে আটকে রাখেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দেন। তবে অভিযুক্তরা তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে মারধর করেন। তারা ১০ লাখ টাকাই দাবি করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরদিন ২৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তদের কয়েকজন ভুক্তভোগীকে ওই বাসা থেকে নামিয়ে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারে তোলেন। এরপর তাকে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে গাড়িতে আটকে রাখা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা চা খেতে গাড়ি থেকে নামলে ভুক্তভোগী পুলিশের গাড়ি দেখে লাফ দিয়ে নামের এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। তখন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। এ সময় অভিযুক্ত জিয়াউল ইসলামের চালিত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়। পরে ২৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন আল্লাহকরিম মসজিদের সামনে থেকে আনসার সদস্য সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা গ্রেফতার : চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মাসুম খান রাজেশ নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার রাত আটটার দিকে রায়েরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ডিবি সূত্র বলছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৈরি করা চাঁদাবাজদের তালিকায় মাসুম খান রাজেশের নাম রয়েছে। মোহাম্মদপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজির ঘটনায় তার নাম এসেছে।
