Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

পাবলিক পরীক্ষার সময় কোচিং চালু রাখার দাবি

Advertisement

Icon

যুগান্তর রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২০, ০৭:৪২ পিএম

পাবলিক পরীক্ষার সময় কোচিং চালু রাখার দাবি

কোচিং মালিকদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব শ্যাডো এডুকেশন বাংলাদেশ (অসেব)-এর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

পাবলিক পরীক্ষার সময় ফ্রিল্যান্সার কোচিংগুলো খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব শ্যাডো এডুকেশন বাংলাদেশ (অসেব)। 

রোববার রাজধানীতে সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, এসএসসি, এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি, পরিবহন, বিতরনসহ কোনো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের শ্যাডো এডুকেশন সেন্টারের শিক্ষকরা জড়িত নন। 

গত দু'বছর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ১৯০জন চিহ্নিত ও গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের মধ্যে কোনো কোচিং শিক্ষক জড়িত নেই। তাছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা পদক্ষেপে প্রমাণিত হয়েছে, কোনো কোচিং সেন্টার প্রশ্নফাঁসে জড়িত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহবারক মোঃ ইমদাদুল হক। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনটির যুগ্ম-আহবাযক মাহমুদুল হাসান সোহাগ শামসে আরা খান ডলি, মাহবুব আরেফিন, আকমল হোসাইন, পলাশ সরকার প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মত এসএসসি পরীক্ষার সময় সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাহী আদেশে কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। তা আমরা প্রতিপালন করি। কিন্তু দৃশ্যমান ফল হলো- সে বছর বিগত সময়ের মতই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। আবার ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সময় সরকার কোচিং বন্ধ রাখার ঘোষণা করেনি। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোও খোলা ছিল। কিন্তু সেবছর প্রশ্নফাঁস হয়নি। এ থেকে এটি সহজেই অনুমেয়, ফ্রিল্যান্সারদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সাথে প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্পর্ক নেই।

তারা আরও বলেন, আমরা কেউ স্কুল-কলেজের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের হাতে ব্যবহারিকের ও এসবিএ (স্কুলভিত্তিক মূল্যায়ন) নম্বর নেই। আমরা কেউ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করি না, পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করি না। প্রশ্ন মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন বা বিতরণের সঙ্গেও জড়িত নই। অর্থাৎ প্রশ্নফাঁসের সাথে আমাদের সংশ্লিষ্ট থাকার কোনো সুযোগ নেই। বরং; এখন পর্যন্ত ধরা পরা ব্যক্তিদের মধ্যে বিসিএসে নন ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত, ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা বিভিন্ন পেশাজীবী জড়িত। 

এতে বলা হয়, ২০১৯ সালে মহামান্য হাইকোর্ট একটি রিট পিটিশনের রায়ে বলেন, স্কুল কলেজের শিক্ষকগণ প্রতিষ্ঠানে ক্লাসের বাইরে পর্থের বিনিময়ে যে পাঠদান করেন তাহলে কোচিং এবং এটা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধক। স্কুল-কলেজের এ ধরনের কোচিং অবৈধ ও শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য। কিন্তু ফ্রিল্যান্সারদের কোচিং চালাতে বাধা নেই বলেও ঘোষণা দেন হাইকোর্ট।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান। এটি বেকার তরুণ-তরুণীর জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। আমরা সরকারকে নিয়মিত ভাট ট্যাক্স প্রদান করে থাকি, যা সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র হলেও ভূমিকা রাখে। অপরদিকে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সব কোচিং নয়, কোচিং বাণিজ্য খারাপ। তাই কোচিং বাণিজ্য বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা মন্ত্রীর এই ঘোষণার সঙ্গে একমত।

তারা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করে বলেন, বিগত কয়েক বছর আমাদেরকে একটা বিষয় খুব ভুগিয়েছে, সেটা হলো প্রশ্নফাঁস। কয়েক বছর বিভিন্ন ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। 

২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকা ও গণমাধ্যমের
রিপোর্ট অনুযায়ী গ্রেফতার হয়েছে ১৯০ জন। তাদের মধ্যে কোচিংয়ের কোনো পর্যায়ের কেউ নেই। এতে প্রতীয়মান হয় ফ্রিল্যান্সারদের দ্বারা পরিচালিত ছায়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সঙ্গে
প্রশ্নফাঁস হওয়া সম্পর্কযুক্ত নয়। বরং প্রশ্নফাঁস রোধে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পরিবহনে
কাগজের প্যাকেটের পরিবর্তে ফয়েল প্যাকেটের ব্যবস্থা, পরিবহনের সময় গাড়িতে ম্যাজিস্ট্রেট থাকা, পরীক্ষার একঘন্টা পর্ব শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরীক্ষার কেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধি-নিষেধ আরোপ করার মতো সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এবং আমরা গত দুই বছর ধরে প্রশ্নফাসের দুষ্ট চক্র থেকে অনেকটাই রেহাই পেয়েছি।  

তারা শ্যাডো এডুকেশন পরিচালনায় নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়ে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শ্যাডো এডুকেশন সেন্টারগুলো ভূমিকা রাখছে। কেননা, নানান কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীর মূল জানার চাহিদা পূরণ হয় না। তারা ক্লাসের বাইরে ছায়া শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই চাহিদাপূরন করেন। তবে কাউকে তারা জোরপূর্বক আনেন না। তেমন কোনো পন্থাও তাদের নেই। তাছাড়া, মূলধারার শিক্ষার সহায়তাকারী হিসেব জাপান, কোরিয়া, আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী ছায়া শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। আমেরিকায় ছায়া শিক্ষাপরিচালনা কারীদের সরকারি অনুদান দেয়া হয়। জাপানের ছায়া শিক্ষা দানকারী সংস্থা কুমন বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৯টি দেশে পরিচালিত হচ্ছে।

Advertisement

কোচিং প্রাইভেট

Advertisement

আরও পড়ুন

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা যাবে না’

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা যাবে না’

বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন পার্বত্য মন্ত্রীর

বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন পার্বত্য মন্ত্রীর

থার্ড টার্মিনাল চুক্তি: কঠিন ৪ শর্তে দরকষাকষি আটকে দিয়েছে জাপান

থার্ড টার্মিনাল চুক্তি: কঠিন ৪ শর্তে দরকষাকষি আটকে দিয়েছে জাপান

‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, বিএনপি রাজপথের দল’

‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, বিএনপি রাজপথের দল’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম