Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজনীতি

শহিদুল আলমের ফেসবুক পোস্ট

তারেক রহমান ও জাইমাকে নিয়ে ‘অজানা অভিজ্ঞতা’

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

তারেক রহমান ও জাইমাকে নিয়ে ‘অজানা অভিজ্ঞতা’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে এক অজানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন দৃক পিকচার লাইব্রেরি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবিমেলা’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাক্টিভিস্ট শহিদুল আলম।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে এ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তিনি।

পোস্টে শহিদুল আলম ফ্যাসিস্ট আমলের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আমরা গোপনে দেখা করেছিলাম। কারণগুলো ছিল নির্মম বাস্তবতার। তারেক রহমান নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং নির্বাসনে জীবন কাটিয়েছিলেন। নির্যাতনের স্বাদ আমি নিজেও জানি—আল জাজিরাকে কথা বলার মূল্য হিসেবে আমাকেও তা দিতে হয়েছে। এবার আমি আবার লন্ডনে, তাদের আরেকটি সাক্ষাৎকার দিতে। অ্যান্ড্রু ফাইনস্টাইনের সঙ্গে আনস্ক্রিপ্টেড অনুষ্ঠানের দুটি পর্ব—শার্ডের স্টুডিও বি-তে ধারণ করা হয়। সেদিন রাতে আমরা শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের একটি হোটেলে দেখা করি। আমার ঢাকা ফেরার ফ্লাইটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। তারিখ—১৯ মার্চ ২০২৪।   

শহিদুল আলম বলেন, আমার সঙ্গে এসেছিল আমার ভাগ্নি মাওলি। সে আর জাইমা (তারেক রহমানের কন্যা) সঙ্গে সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে, গল্পে ডুবে যায়। তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল নির্মম। শেখ হাসিনা তার তৃতীয় নির্বাচন চুরি করেছিলেন, বাংলাদেশে তার দখল ছিল নিরঙ্কুশ। সাক্ষাৎকারে আমি আবারও সেই শাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছিলাম। আমি ফিরছিলাম ঝড়ের মুখে।     

শহিদুল আলম আরও লেখেন, এরপর যা ঘটল, সবকিছু পাল্টে দিল। হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেন। নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হলো অন্তর্বর্তী সরকার। তারেক রহমান ও জাইমা ফিরে এলেন বাংলাদেশে। আমরা আবার আয়োজন করলাম ছবি মেলা—যে আলোকচিত্র উৎসবটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। জাইমা সেটি দেখতে এসেছিল।   

তারপর থেকে এখন পর্যন্ত, তারেক আর আমার আবার লন্ডনে দেখা হয়েছে। এবার শুধু আমরা দু’জন। নানা বিষয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে—সৃজনশীল অর্থনীতি, শিক্ষা—যেসব ক্ষেত্র আমার হৃদয়ের খুব কাছের। এমন এক সময়ে, যখন সংস্কৃতি অবরুদ্ধ, যখন নারীর অধিকার সবচেয়ে বেশি আঘাতের মুখে, তখন এই তীক্ষ্ণ, প্রখর বুদ্ধির তরুণীকে শিল্পকলা নিয়ে এত গভীরভাবে যুক্ত হতে দেখা আমাকে আশাবাদী করেছে।

শহিদুল আলম বলেন, আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম সে তিনটি গ্যালারিই দেখবে, ছাদের ওপর শিক্ষার্থীদের স্টলটিও ঘুরে দেখবে। কিন্তু জাইমা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গল্পে এতটাই ডুবে গেল যে সময় কোথা দিয়ে চলে গেল টেরই পাওয়া গেল না। বেজমেন্টে অপেক্ষায় থাকা ডোসেন্টরা হতাশ হলো। হয়তো সে আবার ফিরবে। আমি সেই আশাই রাখি।   

এই বিপ্লব চালিয়েছে তরুণরা, শিল্পীরা, সর্বোপরি নারীরা। তারাই স্বৈরাচারকে হটিয়েছে। এখন আমরা তাদের আবার কোণঠাসা হতে দিতে পারি না। বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের রূপান্তর দেখতে চায়, তবে জাইমার প্রজন্ম—জেন জি—কেই নেতৃত্ব দিতে হবে। 

উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তণের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে কন্যা জাইমা রহমানকেও অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। তবে এবার জাইমা একাই দৃক গ্যালারি পরিদর্শন করেছেন। যা তিনি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।  

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জাইমা রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে দৃক গ্যালারি পরিদর্শনের কিছু ছবি শেয়ার করেন। 

এ সময় ফেসবুক পোস্টে জাইমা অভিব্যক্তি প্রকাশ করে লেখেন, দৃক গ্যালারির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাহনুমা আহমেদ এবং শহীদুল আলমকে আন্তরিক ধন্যবাদ। 

জাইমা আরও লেখেন, আমাদের দেশের শিল্পীদের, বিশেষ করে তরুণ নতুন কণ্ঠগুলোর অসাধারণ প্রতিভা আর প্রাণচাঞ্চল্য দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। 

পোস্টের শেষে কেনিয়ার বিশ্বখ্যাত ঔপন্যাসিক, চিন্তাবিদ ও লেখক নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গোর একটি লেখা শেয়ার করেন জাইমা। যেখানে লেখা ছিল- ‘শিল্পবিহীন সংস্কৃতি হলো একটি স্মৃতিহীন সংস্কৃতি’।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম