বড় দলগুলোর বক্তব্যে জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই : স্বপন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পুরনো বন্দোবস্তের রাজনীতি এবং গতানুগতিক নির্বাচনের ছকেই আটকে আছে। তাদের কাছে এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হলেও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা সেখানে চরমভাবে উপেক্ষিত।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জেএসডির ১০ দফা নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্বপন বলেন, 'আমরা লক্ষ্য করছি, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সেই পুরনো বন্দোবস্তের রাজনীতি এবং পুরনো কায়দার নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত। তারা এ নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে দেখছে। অথচ জুলাই শহীদদের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর আমূল পুনর্গঠন করা, কিন্তু বড় দলগুলোর বক্তব্যে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না'।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিগত ৫৪ বছরের পুরনো ঔপনিবেশিক মানসিকতা এবং দুর্নীতি-লুণ্ঠনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আবার দেশে ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদ ফিরে আসবে। গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে যে বিজয় এনেছেন, তাকে অর্থবহ করতে হলে রাষ্ট্রযন্ত্রের আমূল পরিবর্তন জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে জেএসডির ইশতেহার তুলে ধরেন স্বপন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সহসভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ডা. হেলালুজ্জামান আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান রিজু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস প্রমুখ।
আরো উপস্থিত ছিলেন জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল তারেক, এস এম শামসুল আলম নিক্সন, মোশারেফ হোসেন মন্টু, মোস্তফা কামাল, ইকবাল খান জাহিদ, আবদুল মান্নান মুন্সী, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নুরুল আমিন, জেএসডি কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কবি সাহানা সেলিম, এম. আওয়াল, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন প্রমুখ।
জেএসডির ১০ দফার মূল অঙ্গীকারগুলো হলো-
দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ: নিম্নকক্ষ ৩০০ সদস্য, এলাকা ভিত্তিক নির্বাচিত। উচ্চকক্ষ ২০০ সদস্য: শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত। ৯টি প্রদেশ ও প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা।
জাতীয় ঐকমত্য সরকার: প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে, উপ-প্রধানমন্ত্রী নিকটতম সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে।
প্রার্থী প্রত্যাহার ও জনগণের আইন উদ্যোগ: ১৫শতাংশ ভোটারের লিখিত আবেদনে নতুন আইন প্রণয়নের সুযোগ।
তত্ববধায়ক সরকার: রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত নির্দলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত।
ফেডারেল সরকার ও স্ব-শাসিত উপজেলা: মেট্রোপলিটন সরকার, ৯টি প্রদেশ, নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার, স্থানীয় স্ব-শাসিত প্রশাসন।
জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল: শ্রম, কর্ম ও পেশার প্রতিনিধির মাধ্যমে বাজেট ও নীতি প্রণয়ন সুপারিশ।
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল : রাষ্ট্রপতির অধীনে, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনা-বিমান-নৌ প্রধান।
সাংবিধানিক আদালত: ৭ সদস্যবিশিষ্ট, সাংবিধানিক জটিলতা চূড়ান্তভাবে সমাধান।
স্থায়ী বিচার বিভাগীয় কাউন্সিল: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, হাইকোর্ট ও উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃতি, মানবাধিকার বেঞ্চ।
সংবিধান ও শাসন সংস্কার: প্রধানমন্ত্রীর দুই টার্ম সীমা, ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার, বিচারক নিয়োগ ও ক্ষমতার ভারসাম্য।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন সংস্কার: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন।

-6985c937a1762.jpg)