এ্যানির গাড়িতে পাওয়া টাকার ব্যাখ্যা দিল বিএনপি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুর–৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রের খরচের জন্য ওই টাকা বহন করা হয়েছিল।
এরআগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেন এ্যানি। ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’ ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমি নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত আছি। শুনতে পেলাম, আমার নির্বাচনি কাজের গাড়ি চেক (তল্লাশি) করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমার নির্বাচনি এজেন্ট সেই গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে আমার যে ব্যয়, তার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা কেন্দ্র ওয়াইজ দেওয়ার জন্য যাচ্ছিল। কর্তৃপক্ষ চেক করেছে। ইতোমধ্যে কোর্ট তাদের রিলিজ (ছেড়ে) করে দিয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ্যানি চৌধুরীর গাড়িতে পাওয়া টাকার ব্যাখ্যা দিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রের খরচের জন্য ওই টাকা বহন করা হয়েছিল। ফলস ভোট চ্যালেঞ্জের জন্য প্রতি অভিযোগের জন্য ১০০ টাকা করে দিতে হয়। ওই-সংক্রান্ত কাজের জন্য টাকাগুলো বহন করা হয়েছিল।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বহু বছর পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের জন্য আমরা দীর্ঘ লড়াই করেছি। আমাদের বহু সাথী জীবন দিয়েছে। গত ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট মাসে আমাদের সাথীরা-সন্তানরাও জীবন দিয়েছে। সেই নির্বাচন আগামীকাল ভোর সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হবে। আমরা খুব আন্তরিকভাবে আশা করছিলাম, যারা এ লড়াইয়ে যুক্ত ছিলাম, নির্বাচনে মূলত তারাই অংশগ্রহণ করছে। ফলে, আমাদের সাথীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে, আন্তরিকতার সঙ্গে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এ নির্বাচনে যুক্ত থাকবেন।
তিনি বলেন, বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা তো সবারই থাকে। কিন্তু সে আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য অনৈতিক পথ গ্রহণ করা, বেআইনি পথ গ্রহণ করা, এটা কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, আজকে সারা দিনে যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি, তাতে আমরা খুবই মর্মান্ত। প্রায় ১২৭টি বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এর বাইরে আরও আছে, সবগুলো আমরা দেখতেও পারিনি। এগুলো আমাদের হতাশ করে।
এই নেতা আরও বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত নেতার কাছে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটা তার ব্যবসার টাকা। কিন্তু মিডিয়ায় এসেছে, তিনি কোনো ব্যবসায়ী না। তার ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় চার লাখ টাকার কিছু বেশি। নীতিকথা ও সৎ কথা যারা সবসময় বলেন তাদের দলের নেতার এমন আচরণ দুঃখজনক।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, পাঁচ লাখ কেন, পাঁচ কোটি টাকা বহন করা কোনো ইস্যু না, নির্বাচন কমিশন সচিবের এমন বক্তব্য মিসকোট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি দলের কাছে এসব কথা বলেন ইসি সচিব। গণমাধ্যমেও এসব কথা বলেছেন তিনি।
এর আগে রাত ৮টার দিকে শহরের ঝুমুর এলাকায় তল্লাশি চৌকিতে এ টাকা উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশির সময় এ্যানির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বদরুল ইসলাম শ্যামলসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আধা ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন ১৫ লাখ টাকা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
