ভোটে হেরেও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললেন এনসিপির প্রার্থী জামিল হিজাযী
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী, বালিয়াকান্দি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী কবি জামিল হিজাযী শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। তবে ভোটে হারলেও আল্লাহর প্রশংসা করেছেন এনসিপির এই প্রার্থী।
শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে জামিল বলেন, নির্বাচনে হেরেও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললাম। কারণ আমি বিশ্বাস করি, জয় পরাজয়ের ফয়সালা আসে আল্লাহর কাছ থেকে। আমি ভোট পেয়েছি ৬৭২৯৯টি। আমার আসনে জোট ফাংশন করে নাই। পাংশা উপজেলা জামায়াতের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত আমার বিপক্ষে থেকেছে। ভোটের আগের দিন তারা পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়েছে যে আমি নির্বাচন থেকে সরে গেছি। এতো কিছুর পরও প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়েছি এটাই আমার জন্য অনেক।
বালিয়াকান্দি এবং কালুখালী জামায়াত নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের আন্তরিক সহযোগিতা আমি চিরকাল স্মরণ রাখবো।
বিএনপি জোটের প্রার্থী হারুন-অর-রশিদকে অভিনন্দন জানিয়ে জামিল বলেন, অভিনন্দনের পাশাপাশি তাকে এটাও জানাতে চাই যে, পাংশা উপজেলাতে ভোট সুষ্ঠু হয় নাই। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আমার পিতা ভোট দিতে দেখেন তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। বাহাদুরপুরের প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি হয়েছে। বেলা ১২টার পর থেকে পুরো আসনে ভোটের পরিবেশ খারাপ হয়ে যায়। যার বহু এভিডেন্স আমার কাছে এসেছে। হয়তো হারুন ভাইও তার কিছু কিছু চিত্র দেখেছেন।
সবকিছু ভুলে তাকে পুনরায় অভিনন্দিত করছি। তিনি বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন। আশা করি তিনি আগামী ৫ বছর জনগণের আস্থার মূল্য দেবেন। আল্লাহ তার মঙ্গল করুন।
‘পরাজয়ে ডরে না বীর। আমি পরাজিত হয়েছি। আমি লজ্জিত নই। ৬৭২৯৯ জন ভোটার আমার ওপর আস্থা রেখেছে যাদের আস্থার প্রতিদান আমি প্রতিদিনই দিতে চাই। পাশাপাশি আমার আসনের সকল জনগণের পাশে আমি সর্বাত্মকভাবে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি’, যোগ করেন এনসিপির এই তরুণ প্রার্থী।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে আমি নতুন। পার্টি লাইনের রাজনীতিতে আমার বয়স মাত্র ১০ মাস। এরই মধ্যে নির্বাচন করেছি। অভিজ্ঞতার ঘটতি হারে হারে টের পেয়েছি। আমার নির্বাচনকালীন টিমও ছিল নতুন এবং আনকোরা। ফলে প্রচারণাও হয়েছে অপ্রতুল। এর মধ্যে পাংশা উপজেলা জামায়াতের মীর-জাফরির কারণে পাংশাতে ভোটই চাইতে পারি নাই। পাংশাতে ভোট না-চেয়েও ২০ হাজারের অধিক ভোট পেয়েছি। পাংশাবাসীর কাছেও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমার নির্বাচনকালীন টিমের সদস্যদের প্রতি। তারা সর্বাত্মকভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন শেষ দিন পর্যন্ত।
রাজবাড়ী জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন এমপি না হয়েও সে লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেন জানিয়েছেন জামিল হিজাযী।
ভোটরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজবাড়ী-২ আসনের সম্মানিত ভোটারবৃন্দ, আমার জন্য দোয়া করবেন। রাজনীতির ভেতর দিয়ে আপনাদের সঙ্গে আমার যে যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে তা গতিশীল থাকবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনাদের সবার মঙ্গল করুন এই শুভ কামনা।
