জিয়াউর রহমানের স্বপ্নবিজড়িত কাশাদহ খাল পুনরায় খনন শুরু
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির পুনরায় খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদী ঘেঁষা কাশাদহ খাল খননের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম হয় সেদিন। সেটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা নয়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর এক প্রত্যক্ষ উদ্যোগ। চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজও সেই খাল বহন করছে স্বপ্নের স্মৃতি।
সেই খালকে ঘিরেই গড়ে ওঠে কাশাদহ সেচ প্রকল্প। যমুনা নদী থেকে পাম্পের মাধ্যমে সরাসরি পানি তুলে শিবালয় উপজেলার ১২টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার কৃষক ইরি-বোরো আবাদ করে আসছেন। প্রায় ১২শ বিঘা বা ৩৯৬ একর জমিতে গত ৪৬ বছর ধরে স্বল্প খরচে বোরো চাষ সম্ভব হয়েছে। আয়রনমুক্ত নদীর পানি জমির উর্বরতা বজায় রেখেছে, কমেছে সেচ ব্যয়। প্রথমদিকে ২০টি পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি তোলা হত। বর্তমানে তিনটি পাম্প দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে প্রকল্পটি।-69a0776728045.jpg)
কিন্তু এ বছর দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। আরিচা খালপাড়ে যমুনা নদীর তীরে প্রকল্পের পানির হাউজের পশ্চিম পাশে বিশাল চর জেগে উঠেছে। মূল নদী সরে গেছে দূরে। ফলে ক্যানালে পানির প্রবাহ কমে গেছে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। চর না কাটলে পাম্পে পানি তোলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এমন পরিস্থিতিতে কাশাদহ খালের পুনঃখননে স্বপ্ন বুনছেন সুবিধাভোগীরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির পুনরায় এ উদ্যোগ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সেচ প্রকল্পের সভাপতি মো. সফিউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা রাণী কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম, জেলা বিএনপি আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য সত্যেনকান্ত পন্ডিত ভজন, জেলা যুবদলের আহ্ববায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, উপজেলা বিএনপি সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।
এ সময় বক্তারা বলেন, একটি খালের পানিপ্রবাহ শুধু যমুনা থেকে ইছামতিকে সংযুক্ত করে না, এটি কৃষিকে অর্থনীতির সঙ্গে, জীববৈচিত্র্যকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে। যে স্বপ্ন নিয়ে একদিন কোদাল চালানো হয়েছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। নাব্যতা ফিরলে কাশাদহ খাল আবারও কৃষিতে নতুন গতি আনতে পারে। যমুনা ও ইছামতির পাড়ের মানুষ তাই অপেক্ষায়—স্বপ্নের সেই খাল আবার প্রাণ ফিরে পাক। তৎসময়ে হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার পুরো মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে রাত্রীযাপনও করেছিলেন। কাশাদহ খাল খনন কর্মসূচি বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যেও রয়েছে।-69a0777568422.jpg)
জানা গেছে, খাল খননের প্রথম বছরেই ১ হাজার ৫০০ একর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ হয়েছিল। দীর্ঘদিনে খালের বিভিন্ন অংশ পলি পড়ে ভরাট হয়েছে, কমেছে পানি ধারণক্ষমতা। ২০০৪ সালের ৯ আগস্ট কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতায় প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল পুনঃখনন, পাকা ড্রেন, স্লুইস গেট ও পানির হাউস নির্মাণ করা হয়। তবু নদীতে চর পড়ায় আবারও সংকটে পড়েছে পানির উৎস।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আওরঙ্গজেব বলেন, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক প্রকল্প। যমুনার চর না কাটলে সেচ কার্যক্রম অচল হয়ে পড়বে।
শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা রাণী কর্মকার বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
