চব্বিশের চেতনা থাকলে হাসিনা দেশে আসতে পারবে না: মীর হেলাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চব্বিশের চেতনা থাকলে হাসিনা দেশে আসতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, ‘তখন আমাদের ছাত্র-জনতা সবার মধ্যে আন্দোলনের যে উদ্যম ছিল আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করেও সেটা দমাতে পারেনি। অনেকে প্রত্যক্ষভাবে জুলাই অভ্যুত্থানে ছিলেন না। কিন্তু আমাদের নানাভাবে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা দিয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৫ সালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষণা হয়েছে, সেটার আলোকে বিএনপি সরকার সব সংস্কার বাস্তবায়ন করবে বলেও আশ্বাস দেন মীর হেলাল।
বুধবার দুপুরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসন ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি ও এর অঙ্গ সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় নগরীর লালদিঘি মাঠে গণভোজের আয়োজন করে।
এখানে গরিব-দুঃখী শত শত মানুষকে দুপুরের খাওয়ার খাওয়ানো হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ ও সাঈদ আল নোমান, সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু প্রমুখ।
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, নানা সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, নিউমার্কেট মোড় দখলে নিতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে যারা আহত হয়েছেন, তামাকুমুন্ডি লেনের ব্যবসায়ীরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। এই যে আন্দোলনের নানাভাবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, ঐক্যবদ্ধ থাকা এটাই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট। এই স্পিরিট আমাদের ধরে রাখতে হবে। তাহলে শেখ হাসিনা জীবনেও আর বাংলাদেশে আসতে পারবে না।
তিনি আরও বলেছেন, কিছু মতানৈক্য দেখতে পাচ্ছি। এটা স্বাভাবিক। পথ চলতে গেলে থাকবেই। সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করুন। কিন্তু দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে আমরা সবাই যেন জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারি। বিনা বিচারে দেশবিরোধী শক্তি যেন আবার রাজনীতি করার দুঃস্বপ্ন না দেখে, সেই দুঃসাহস যেন তাদের না হয় সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
চসিক : ৫ আগস্ট বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বিভিন্ন বিভাগীয় ও শাখা প্রধান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান হবে তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনকে আমার আন্দোলন নয়, আমাদের আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি রক্ষার মধ্য দিয়েই শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধ করা সম্ভব।
সিএমপি : দিবসটি উপলক্ষে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), ডিসি (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, ডিসি (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
হেফাজত : যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করেছে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ। বুধবার নগরীর দুই নম্বর গেটে হেফাজতের মহানগর প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইকবাল খলিলের সঞ্চালনায়, মহানগর সদস্য সচিব জামিয়া দারুল মারিফের মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক মাদানীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী।
