Logo
Logo
×
   

রাজনীতি

কার কতটুকু বুকের পাটা, আমরা জানি: জামায়াত আমির

Icon

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

কার কতটুকু বুকের পাটা, আমরা জানি: জামায়াত আমির

ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য রাখছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: যুগান্তর

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইবে, তাদের মোকাবিলায় ইনশাআল্লাহ সাড়ে ১৫ বছর সময় লাগবে না। আমরা তাদের চিনি। আমরা এই মাটির সন্তান, এখানেই একসঙ্গে অনেকের সঙ্গে চলেছি। কার কতটুকু বুকের পাটা, আমরা জানি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফ্যাসিবাদকে দেশ থেকে বিদায় করতে জনগণকে সাড়ে ১৫ বছর অনেক সংগ্রাম, লড়াই ও যুদ্ধ করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, এ আন্দোলনে সাড়ে তিন হাজারের কম মানুষ জীবন দেননি। শুধু জুলাই আন্দোলনেই ১৪শ’র বেশি মানুষ জীবন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে এখন নানা ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। অথচ সাড়ে ১৫ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা কোথায় ছিল? সরকারের অনুগ্রহ নিয়ে একটি পারমিশন নিয়ে রাস্তায় দু-চারজন মানুষ নামানোর সাহসও তারা দেখাতে পারেনি। এখন তারাই বড় বড় কথা বলছে।

জামায়াত আমির বলেন, এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলব, লড়াই করব। আমরা কারও জন্য নয়, শুধু আল্লাহর জন্য লড়াই করব।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারি দলের নেতাকর্মীরা দেশের কোথাও নির্যাতন-নিপীড়ন চালালে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। আমরা ছয় মাস সময় দিয়েছি। এরপরও যদি ১১ দলের কোনো নেতাকর্মীর গায়ে হাত তোলা হয়, তাহলে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, আঘাত করলে পাল্টা আঘাত আসবে—এটা মনে রাখতে হবে। যারা আঘাত করবে, তাদেরও পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আজকের লংমার্চ থেকে আমাদের স্পষ্ট বার্তা—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের সমাধান করতে হবে। অন্যথায় ক্ষমতার গদিতে থাকা যাবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণ কাউকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়নি দুর্নীতি করার জন্য। মন্ত্রীরা দুর্নীতি করবেন, আর দেশের মানুষের ঘরে ঘরে গ্যাস-বিদ্যুৎ থাকবে না—এটা ১১ দল থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে চলা এ পথসভা ১ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ রওনা দেয় লংমার্চ।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, হাসিনা চলে গেছে, কিন্তু হাসিনার স্টাইলে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে- এমন পরিস্থিতি আমরা কোনোভাবেই হতে দেব না। এ কারণেই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে আমরা দেশের প্রতিটি জেলায় যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমান যখনই আন্দোলনের ডাক দেবেন, তখন ঘরে কেউ বসে থাকবেন না। সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। আমাদের দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন- সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, গ্যাস কার্ড, বিদ্যুৎ কার্ড ও সার কার্ড দেওয়ার কথা বলেছে। তবে জনগণের হাতে থাকা সবচেয়ে বড় কার্ড হচ্ছে ‘লাল কার্ড’।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে যদি তামাশা করা হয়, গণভোটকে অবৈধ ঘোষণার পাঁয়তারা করা হয় কিংবা গণভোটের রায়কে গচ্ছা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে লাল কার্ড দেখাবে—ইনশাআল্লাহ।

পথসভায় জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালি উল্যাহ মানিকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম