ঠাকুরগাঁও-১
জমে উঠছে মির্জা ফয়সল ও দেলোয়ারের লড়াই
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
মির্জা ফয়সল আমিন ও দেলাওয়ার হোসেন। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম জমা দিয়েছেন তিন হেভিওয়েট নেতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন ফরম জমাদানকারী তিন নেতা হলেন—ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদ।
এনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিংয়ের কাছে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দেন মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ ও পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শরীফসহ জেলার শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর কিছু সময় পর অপর দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী ও ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদও নয়াপল্টনে গিয়ে নিজ নিজ মনোনয়ন ফরম জমা দেন।
বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিং জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এই তিন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
তবে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিনই এই আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। আরেকজনকে ডামি প্রার্থী রাখা হবে। যদি দুজনের মনোনয়ন টিকে যায় সেক্ষেত্রে একজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন।
এদিকে বিএনপির প্রার্থীকে লড়াই করতে হবে জামায়াতের সঙ্গে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জমে উঠছে দুই প্রার্থীর লড়াই। তারা হলেন— মির্জা ফয়সাল ও জামায়াতের দেলাওয়ার।
ঠাকুরগাঁও চিনিকলের আখচাষী নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস আলী মনে করেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মির্জা ফয়সাল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে। এই আসনে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হিন্দু ও আদিবাসী ভোটার রয়েছে, যা ভোটের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভিন্ন সুরও রয়েছে। সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের ফজলু হক জানান, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণা জমে উঠলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগের মতো তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। একই এলাকার আবুল কালাম বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন তদবির রক্ষা এবং রাষ্ট্রপতির সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে সচেতন ভোটাররা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষেই রায় দিতে পারেন।
ইতোমধ্যে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সভা সেরে নিয়েছেন মির্জা ফয়সল আমিন। অন্যদিকে বসে নেই জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী প্রায় এক লাখ ভোটে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তিনি মন্ত্রী হন। সম্প্রতি বিএনপি ও মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন সংসদ সদস্য ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২১ আগস্ট আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

-6aae706794ba5.jpg)