Logo
Logo
×

Advertisement

রাজনীতি

মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

Advertisement

রাজধানীর মিরপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। সম্প্রতি রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় আসার পর বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। 

এর মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এক নাটকীয় মোড় নিল। তবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘ সংগ্রামের রাজনৈতিক ও পারিবারিক ইতিহাস।

মিষ্টির ভাই ছিলেন বিএনপির প্রয়াত নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে তার মৃত্যু হয়। মূলত বড় ভাই পিন্টুর অনুপ্রেরণায় ছাত্রদলে মিষ্টির রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয় বলে জানা গেছে।

১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বাবা হাজী মো. নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং মা হাজী মোছা. হোসনে আরা আহমেদ। পেশাগত জীবনে মিষ্টি একজন ব্যবসায়ী।

মিষ্টির রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা হয়েছিল ছাত্রদলের হাত ধরে। শিক্ষাজীবনে ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় তিনি সরাসরি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। 

কলেজ শাখা ছাত্রদলের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার একপর্যায়ে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন। ছাত্র রাজনীতির এই নেতৃত্বই মূলত তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দেয়।

রাজনৈতিক পরিবার ও পরিমণ্ডলেই মূলত মিষ্টির অবস্থান আরও পোক্ত হয়। অন্যদিকে, তার স্বামী সাইদুর রহমান নিউটনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। 

নিউটন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০২ সালের ১০ মে ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজার সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 

নিউটনের মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মূলত পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড তার রাজনৈতিক পথচলাকে মসৃণ করেছিল।

মিষ্টি মিরপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন। ২০১৯ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তিনি একই ওয়ার্ডে বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের ১৭ বছর কিছুটা ব্যাকফুটে থাকতে হয় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। 

২০১৫ থেকে ২০১৮ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইনে অন্তত সাতটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছিল তাকে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সুবাদে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। 

সর্বশেষ ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন (আসন-২৩) থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তিনি স্থানীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

হঠাৎ ছন্দপতন ও পদত্যাগ: ছাত্রদলের কর্মী থেকে কাউন্সিলর, মহানগর নেতা এবং সবশেষ এমপি—এমন বর্ণিল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থাকলেও সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় সব ওলটপালট হয়ে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার নাম জড়ায়। 

যদিও তিনি এই হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও বিতর্কের জেরে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ-সদস্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

সংরক্ষিত নারী আসনটিতে কীভাবে হবে উপনির্বাচন

মিষ্টির পদত্যাগ সংরক্ষিত নারী আসনটিতে কীভাবে হবে উপনির্বাচন

আ.লীগ নেতাকে কারামুক্ত করতে প্রত্যয়ন বিএনপি নেতাদের

আ.লীগ নেতাকে কারামুক্ত করতে প্রত্যয়ন বিএনপি নেতাদের

কপাল পুড়ল টুঙ্গিপাড়া বিএনপি নেতার

কপাল পুড়ল টুঙ্গিপাড়া বিএনপি নেতার

পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

পদত্যাগ করলেও পরবর্তী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না মিষ্টি

অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করলেও পরবর্তী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না মিষ্টি

স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে পদত্যাগের প্রশ্নে যা বললেন মিষ্টি

স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে পদত্যাগের প্রশ্নে যা বললেন মিষ্টি

আরও পড়ুন

মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে

মিষ্টির রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে

মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল, পদ হারালেন এনসিপি নেতা

মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল, পদ হারালেন এনসিপি নেতা

ধর্মকে ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্র চালানো যায় না: গয়েশ্বর

ধর্মকে ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্র চালানো যায় না: গয়েশ্বর

সাংগঠনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, আইনিভাবে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে: জামায়াত আমির

সাংগঠনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, আইনিভাবে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে: জামায়াত আমির

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম