রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা
দল-অঙ্গসংগঠন নিয়ন্ত্রণে বিএনপি-জামায়াতকে টিআইবির আহ্বান
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
একই সঙ্গে দল ও অঙ্গসংগঠনের সহিংস কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, রোববার রাতে রাবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশও ভয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। ছাত্রদলও ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলার শিকার গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী, তাদের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা জনগণের তথ্য জানার অধিকার খর্ব করে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির সুযোগ সংকুচিত করে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব ও পুলিশের ব্যর্থতা দেখিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের সমস্যার সমাধান শুধু হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ক্ষমতাবান দলগুলোর আমূল সংস্কার ও আত্মশুদ্ধি জরুরি।
তিনি বলেন, কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে না। শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে টিআইবি বলেছে, এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, দখলবাজি ও পেশিশক্তির প্রদর্শন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
টিআইবির বলছে, উপাচার্য বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তবে পদত্যাগের দাবি আদায়ে দলীয় প্রভাব, ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হতে হবে আইন ও বিধি অনুযায়ী, দলীয় শক্তির দাপটে নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ব্যর্থতার কারণ উদ্ঘাটন এবং দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে টিআইবি। রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধের সুরক্ষাকবচ না হয় এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

-6ac364f5c0c69.webp)