শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শ্রমিকের মর্যাদা, ন্যায্য অধিকার ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘একটি দেশের জাতীয় রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে যদি শ্রমিকের মর্যাদা, ন্যায্য অধিকার ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সেই দেশ কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না। শ্রমিককে বঞ্চিত করে কোনো সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে ওঠে না। বরং সেখানে লুটেরা অর্থনীতির জন্ম হয়, সম্পদের বৈষম্য বাড়ে, অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একসময় রাষ্ট্র নিজেই জুলুমবাজ হয়ে ওঠে।’
শ্রমিকদের আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে আসলাম শ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে, তাহলে প্রশ্ন হলো—গত ৫৪ বছরে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কেন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি? কেন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা আজও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের জায়গা পায়নি?’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘শ্রমিকের পেটের ক্ষুধা, ন্যায্য মজুরি আর পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার আকুতিকে রাজনৈতিক ইন্ধনের তকমা দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না। মানুষের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আড়ালে ঠেলে দেওয়া আসলে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার পুরোনো কৌশল।’
শ্রমিকদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিরোধিতা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, শ্রমিকেরা কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নয়। তারা এই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, উৎপাদনের কারিগর এবং আমাদেরই ভাই-বোন, আমাদেরই সন্তান। তাঁদের ঘামেই কারখানা সচল থাকে, অর্থনীতির চাকা ঘোরে, দেশের প্রবৃদ্ধি আসে।’
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘একজন শ্রমিকের পেটে ভাত থাকলে, গায়ে পরার কাপড় থাকলে, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ থাকলে, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা থাকলে—তার জীবন অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ হতো। তখন তার ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ইন্ধনের গল্প বানানোর সুযোগও অনেক কমে যেত।’
পোস্টে তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে রাজনৈতিক ধানাই-পানাই। এখন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করুন। তার পেটে ভাত দিন, গায়ে কাপড় দিন, পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করুন। শুধু উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করুন।’
শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানদের জন্য সমান সুযোগের প্রত্যাশা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা খুব সাধারণ—যে দেশে একজন শ্রমিকের সন্তানও সম্মানের সঙ্গে বাঁচবে, পড়াশোনা করবে, স্বপ্ন দেখবে এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়বে।
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’—এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা শুধু কোনো বিত্তশালী পরিবারের জন্য নয়, বাংলার প্রতিটি শ্রমজীবী পরিবারের জন্যও সত্য হোক।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের অধিকার কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়, এটি তার ন্যায্য পাওনা। শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক, শোষণ ও বৈষম্যের অবসান হোক, সকল জুলুমতন্ত্রের অবসান হোক।’
