Logo
Logo
×

স্মরণীয়-বরণীয়

শাহ আবদুল করিম

Icon

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শাহ আবদুল করিম ছিলেন লোকসংগীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার। তিনি ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ইব্রাহিম আলী এবং মাতার নাম নাইওরজান বিবি। শাহ আবদুল করিমের পিতা ছিলেন একজন দরিদ্র কৃষক। শাহ আবদুল করিম বাল্যকালে শিক্ষালাভের সুযোগ পাননি। বারো বছর বয়সে তিনি নিজ গ্রামের এক নৈশবিদ্যালয়ে কিছুকাল পড়াশোনা করেন। সেখানেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরে নিজের চেষ্টায় তিনি স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠেন। কৈশোরকাল থেকেই গণসংগীতের প্রতি শাহ আবদুল করিমের আকর্ষণ ছিল। সম্ভবত জীবনের বাস্তবতা তাকে গণসংগীত রচনায় উদ্বুদ্ধ করে।

তার জীবনের প্রথম পর্বে সংগীতের দীক্ষা ঘটেছিল বাংলা ভাবসাধক ও বাউল পরিমণ্ডলে। প্রথম জীবনে তিনি বাউল, ভক্তিমূলক, জারি, সারি, রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পালাগান গেয়েছেন। কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি গণসংগীত রচনা ও পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন। সংগীত জীবনের একদিকে তিনি ছিলেন গণচেতনার সংগীত রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক, অন্যদিকে ছিলেন বাউল-আঙ্গিকের সংগীতশিল্পী। একপর্যায়ে তিনি সাধক দুর্বীণ শাহের সঙ্গে বৃহত্তর সিলেট জেলার বিভিন্ন গ্রামে ‘মালজোড়া গান’ পরিবেশন করে বেশ খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তিনি বাউলশিল্পী কামালউদ্দিনসহ বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় গণসংগীত পরিবেশন করে সুনাম অর্জন করেন।

সরকারি সহায়তায় তিনি সংগীত পরিবেশনের জন্য বেশ কয়েকবার লন্ডন গমন করেন। ১৯৫৪ সালে শাহ আবদুল করিম প্রণীত গণসংগীত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত অন্যান্য গানের সংকলন হলো আফতাব সংগীত, কালনীর ঢেউ, ভাটির চিঠি, ধলমেলা, কালনীর কূলে।

তার প্রায় সব গ্রন্থেই তত্ত্বগানের পাশাপাশি গণচেতনার গান মুদ্রিত হয়েছে। তার রচিত তত্ত্বগানের পাশাপাশি গণচেতনার গান এতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, তিনি কিংবদন্তিতে পরিণত হন। অথচ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তার গণচেতনার মূল পরিচয়কে বাদ দিয়ে তাকে ‘বাউলসম্রাট’ নামে অভিহিত করা হয়। তবে বাংলা একাডেমি প্রণীত ও প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের লোকসংগীত’ গ্রন্থে শাহ আবদুল করিমের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বহু আগেই তার গণশিল্পী পরিচয়কেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

শাহ আবদুল করিম ২০০০ সালে আবদুর রউফ চৌধুরী কর্তৃক ‘দ্রোহী কথাসাহিত্যিক’ সম্মানে ভূষিত হন। তিনি তার সংগীত প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি সিলেটে মারা যান।

Takeover: SMC
Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম