Logo
Logo
×
   

Advertisement

স্মরণীয়-বরণীয়

মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন

Advertisement

Icon

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

অনন্য লোকসংগীত ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, গবেষক এবং সাহিত্যবিশারদ মুহম্মদ মনসুর উদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী ১৯ সেপ্টেম্বর। অবলুপ্তপ্রায় লোকশিল্পকে খুঁজে বের করে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে তিনি এক আজীবন পথিকের ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯০৪ সালে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার মুরারিপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। ছাত্র হিসাবে তিনি খুবই মেধাবী ছিলেন। ১৯২১ সালে প্রবেশিকা এবং ১৯২৬ সালে বিএ পাশ করার পর ১৯২৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। উল্লেখ্য, তিনি প্রথম মুসলিম ছাত্র হিসাবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডিয়ান ভার্নাকুলার্সে এ গৌরব অর্জন করেন। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই মনসুর উদ্দিন লোকসাহিত্য সংগ্রহের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগৃহীত লালন শাহের গান পাঠ করে তিনি লোকসংগীতের প্রতি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রত্যক্ষ স্নেহ ও সান্নিধ্য লাভ করেন। ১৯৩১ সালে ‘স্কুল সাব-ইন্সপেক্টর’ হিসাবে কর্মজীবন শুরু করলেও দীর্ঘদিন বিভিন্ন সরকারি কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন।

বাংলার বাউল-ফকিরদের সঙ্গে তার ছিল খুবই নিবিড় যোগাযোগ। তার আজীবন সাধনার সবচেয়ে বড় ফসল হলো ১৩ খণ্ডে সম্পাদিত লোকসংগীতের অমূল্য সংকলন ‘হারামণি’। এটি বাংলার লুপ্ত ও অবলুপ্তপ্রায় লোকসংগীতের এক মহাকাব্যিক রূপরেখা। এছাড়া তিনি ‘বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা’ (৩ খণ্ড) এবং লোককাহিনির সংকলন ‘শিরণী’সহ প্রায় ৪২টি গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। কবি আসাদ চৌধুরী তার অবদানের মূল্যায়ন করে লিখেছিলেন, ‘যে-গভীর সত্যবাণী নিরক্ষর গীতিকার কবিদের / ঠোঁটে ঠোঁটে কেঁদে উঠেছিলো- / তাকে তুমি ছড়ালে নিখিলে।’ বাংলা সাহিত্য ও শিক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৭৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৪ সালে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কারে’ ভূষিত হন। ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় লোকসংস্কৃতির এই কালজয়ী পুরুষ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম