Logo
Logo
×

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়া

নিজেকে গুটিয়ে রাখার কারণ জানিয়ে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মধুর স্মৃতিচারণ মারুফ কামালের

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

নিজেকে গুটিয়ে রাখার কারণ জানিয়ে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে মধুর স্মৃতিচারণ মারুফ কামালের

মির্জা ফখরুল, ফজলুল হক মিলন ও মারুফ কামাল খান। ছবি: মারুফ কামালের পোস্ট থেকে

Advertisement

লেখক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জীবনে বয়ে যাওয়া ঝড় এবং সেই দুঃসময়ে বিএনপির শুভাকাঙক্ষীদের অনেকের দূরে সরে যাওয়া নিয়ে  নিজের কিছু স্মৃতিচারণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। 

পোস্টে লেখক ও সাংবাদিক মারুফ কামাল খান লিখেছেন— আমার ওপর দিয়ে ঝঞ্ঝা বয়ে গেছে। কেউ খবরও রাখেনি। তাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। সবার থেকে দূরে সরে থাকতাম। ক্যানসার, পারিবারিক বিপর্যয়, প্রকট দারিদ্র্য, দেড় শতাধিক মিথ্যে মামলার হুলিয়া মাথায় করে পলাতক জীবন, তারপর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য চুপিসারে আমেরিকায় পাড়ি জমানো....! এরপর যখন ফিরলাম, চেষ্টা করতাম আবডালেই থাকার।

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে স্মৃতিচারণ নিয়ে তিনি বলেন, একদিন ফজলে এলাহি আকবরের (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল) আমন্ত্রণে তাদের একটা অনুষ্ঠানে গেলাম। সেখানে এলেন চিফ গেস্ট হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দূর থেকে আমাকে দেখেই উঠে এলেন কাছে। দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে হাত মেলালাম। আমার হাত ধরে রেখেই বললেন— আপনি কি আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

আমি ভেতরের জমাটবাঁধা আবেগ সামলাতে পারলাম না। বললাম, কেন এমন চাতুরি করেন ভাই? আপনার মতো মানুষের তো এটা মানায় না। আমার পরম দুঃখের দিনে দীর্ঘকাল আমাকে উপেক্ষা করেছেন আপনারা। আমি তো কোনো কমপ্লেইন করিনি?

ছলছল করে উঠল তার চোখ দুটো। ধরা গলায় বললেন, মাফ করে দিয়েন। পারলে যোগাযোগ রেখেন।

মির্জা ফখরুলের এমন বিনয়ে সব অভিমান মুছে যায় মারুফ কামালের। ‘এরপর কি আর অভিমান করে থাকা যায়? তবে তিনি প্রচণ্ড ব্যস্ত। দল, রাজনীতি, নির্বাচন, তারপর মন্ত্রিত্ব। মাঝে মধ্যে দেখা হয় সভা-সমিতিতে।’

নিজের লেখা বই নিয়ে মারুফ কামাল বলেন, এরই মধ্যে বেরিয়ে গেল আমার লেখা 'রাজনীতির সদরে-অন্দরে' বইটি। সিদ্ধান্ত নিলাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দিয়েই বইটির মোড়ক উন্মোচন করাব। তিনিই হবেন প্রকাশনা অনুষ্ঠানের প্রধান মেহমান। কিন্তু সময় আর তিনি দিতে পারেন না। এভাবেই পেরিয়ে গেল কয়েক মাস।

তিনি আরও বলেন, একদিন দুপুরে ফোন করলাম। আপনি কি আমার বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আসতে চান না? বললেন, (মির্জা আলমগীর) আমি এখন ঠাকুরগাঁয়। কাল ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই অভ্যুত্থানবিষয়ক আলোচনায় থাকব। আপনিও তো আলোচক। ওখানে বসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডায়েরি দেখে একটা ডেট ফিক্স করব।

পর দিন তাই করলেন। এপিএস ইউনুস আলীকে বললেন, কবে ফাঁকা আছে দেখে মারুফ সাহেবকে ডেট দিয়ে দাও। ঠিক হলো ১৮ আগস্ট সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান। আমি প্রাথমিক প্রচার শুরু করলাম। কিন্তু আদপে আমার তো বিধি বাম। খবর রটে গেল মির্জা সায়েব প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। ঘোষণা হয়ে গেল সিডিউলও। এরপর টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক সেমিনারে গেলাম। সেখানেও চিফ গেস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তাকে শুনিয়ে বললাম, আমি এখানে বক্তৃতা করতে আসিনি। রাষ্ট্রাচারের বাঁধনে আমি আমার প্রকাশনা অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট হারিয়ে ফেলি কিনা সেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করতে এসেছি।

আমার কথায় বন্ধু তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বললেন— চিফ গেস্ট পাবার জন্য আপনি  রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বঞ্চিত রাখতে চান?

হেসে বললাম, লাগবে না চিফ গেস্ট। তবু তিনি হোন।

সাংবাদিকরা সবাই আমাকে ছেঁকে ধরল। উনিই কি হচ্ছেন? 

আমি বললাম, আমি কেমন করে বলব?

শেষ পর্যন্ত আমাকে চিফ গেস্ট বদলে প্রকাশনা অনুষ্ঠান সারতে হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় নজরুল ভাই (নজরুল ইসলাম খান) প্রধান অতিথি হয়ে আমাকে অশেষ ঋণে আবদ্ধ করেছেন। আল্লাহর অপার অনুগ্রহে আমার অনুষ্ঠান কল্পনাতীতভাবে সফল হয়েছে। সীমিত আয়োজনে অনেক অভ্যাগত অতিথিকে বসতে দিতে ও আপ্যায়িত করতে পারিনি। আমি তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে এর ব্যয়ভার বহনের জন্য আমি এবি ব্যাংক ও পরম স্নেহাস্পদ ফয়সাল মোরশেদ খানের কাছেও কৃতজ্ঞ।

১৯ তারিখে জানলাম আলমগীর ভাই আমার বইটি চেয়েছেন। আমি বইতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপক একটি বাক্য লিখে দস্তখত করে দিলাম। আমার প্রকাশক সূচিপত্রের সাঈদ বারী মির্জা সাহেবের সরকারি বাসায় গিয়ে বইটি তাকে দিয়ে এসেছেন। আলমগীর ভাই বইটি হাতে করে সাঈদ বারী ও তার সঙ্গী দেলোয়ার হাসানের সঙ্গে ফটো তুলেছেন। বারবার করে বলেছেন, আমি অনুষ্ঠানটি ভীষণ মিস করেছি।

পর দিনই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ধন্যবাদ আলমগীর ভাই। অভিনন্দন। শুভকামনা।

বেদনা ও আনন্দের দিনগুলোর অজস্র স্মৃতি আমাদের দুজনের মনের মণিকোঠায় জমে আছে এবং থাকবে। এর অনেক কিছুই হয়তো কেউ কখনোই জানবে না।

ভালো থাকবেন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঐক্য ও সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঐক্য ও সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

আরও পড়ুন

‘দেশের বাড়ি বলা নিষেধ’ — আইন মন্ত্রণালয়ে সেই নির্দেশের কারণ জানালেন আসিফ নজরুল

‘দেশের বাড়ি বলা নিষেধ’ — আইন মন্ত্রণালয়ে সেই নির্দেশের কারণ জানালেন আসিফ নজরুল

আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের নামে পুরোনো ভিডিও প্রচার

আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের নামে পুরোনো ভিডিও প্রচার

চাকরি পাওয়ার পর আক্ষেপের শেষ নেই তরুণীর! দেখুন ভিডিও

চাকরি পাওয়ার পর আক্ষেপের শেষ নেই তরুণীর! দেখুন ভিডিও

‘মমতাজ আ.লীগেও একটা ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে’

‘মমতাজ আ.লীগেও একটা ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম