এবারের বিশ্বকাপে এত গোল হওয়ার রহস্য জানালেন গবেষকরা
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ বিশ্বকাপে এবার গোলের প্রবণতা চোখে পড়ার মতো বেড়ে গেছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে মোট ১৭২টি গোল হয়েছিল, যেখানে প্রতি ম্যাচে গড় গোল ছিল ২.৬৮। কিন্তু এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ৫৪ ম্যাচেই গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬১-এ, ফলে ম্যাচপ্রতি গড় প্রায় তিনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এই গোলবৃদ্ধির পেছনে কেবল আক্রমণভাগের কার্যকর ফিনিশিং নয়, গোলরক্ষকদের একের পর এক ভুলও বড় ভূমিকা রাখছে। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই ম্যাচে পাঁচ গোল হজম করেছেন, যেখানে কিছু শটে বল খুব সামান্য ব্যবধানে তার হাত ছুঁয়ে জালে ঢুকে গেছে। একই ধরনের দুর্বলতা দেখা গেছে সেনেগালের এদুয়ার্দো মেন্দি এবং ইরাকের আহমেদ বাসিলের ক্ষেত্রেও—অনেক ক্ষেত্রেই তারা বল স্পর্শ করলেও শেষ পর্যন্ত গোল ঠেকাতে পারেননি।
এত বেশি গোল হওয়ার কারণ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিসিয়াল বলকে ঘিরে। সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট মনে করছেন, এবারের বল ‘ট্রিওন্ডা’ গোলরক্ষকদের জন্য অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তার মতে, বলটি পা থেকে শট নেওয়ার সময় যেমন গতি থাকে, গোলরক্ষকের কাছে পৌঁছানোর সময় তা আরও বেশি গতিশীল হয়ে ওঠে, যা সঠিকভাবে বিচার করা কঠিন করে দিচ্ছে।আরও পড়ুন
এই বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাও হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের গবেষকরা উইন্ড টানেল পরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, নির্দিষ্ট গতির পর বলের চারপাশের বায়ুপ্রবাহ আচরণ বদলে যায়। ফলে ড্র্যাগ কমে গিয়ে বলের গতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি থেকে যায়। এই ঘটনাকে বলা হচ্ছে ‘ড্র্যাগ ক্রাইসিস’, যা গোলরক্ষকদের পূর্বানুমানকে প্রভাবিত করছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এবারের বলের চার-প্যানেল নকশা এবং গভীর খাঁজের কারণে এই অস্বাভাবিক আচরণ আরও বাড়তে পারে। ২০২২ বিশ্বকাপের বলের তুলনায় এতে প্যানেল সংখ্যা অনেক কম, যার ফলে বায়ুপ্রবাহে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।
এছাড়া শট নেওয়ার ধরন এবং স্টেডিয়ামের উচ্চতাও বলের গতিপথকে প্রভাবিত করছে। উচ্চতা বেশি হলে এই প্রভাব কিছুটা কমে যায় বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।
অ্যাডিডাসের দাবি, বলটি বাজারে আনার আগে বহুবার ল্যাব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে, যাতে এর গতিপথ আরও স্থিতিশীল হয়। তবে বাস্তব মাঠের অভিজ্ঞতা বলছে, গোলরক্ষকদের জন্য এই বল এখনো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, গোলরক্ষকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে—আর এই রহস্যময় গোলবন্যার সমাধান কত দ্রুত আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

