ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো ক্রিকেটারসহ ৬৫ জন নিষিদ্ধ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স জালিয়াতির দায়ে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু রোহিতই নন, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) একই অপরাধে সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারসহ মোট ৬৫ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) তাদের খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম নথিপত্র যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই বয়সের গরমিল খুঁজে পায়। তারপরই রোহিত যাদবকে অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। চলতি মাসের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে পাঁচটি একদিনের ম্যাচ এবং দুটি দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচ খেলার কথা ছিল তার। সিএবি সূত্রের খবর, বাংলার হয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করা রোহিতের মূল বয়সের সঙ্গে নথির বয়সে প্রায় ২৭ মাসের ব্যবধান পাওয়া গেছে। তার এই শাস্তির কথা বিসিসিআই-অধিভুক্ত সব রাজ্য সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বয়স জালিয়াতির কারণে সিএবি আরও ৬৪ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে। এই তালিকায় থাকা সবচেয়ে বড় নাম রবি কুমার। বাঁহাতি এই পেসার ২০২২ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে দারুণ পারফর্ম করে ভারতের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। সে বছরই বাংলার সিনিয়র দলে অভিষেক হলেও ২০২৩ সালের পর তিনি আর খেলেননি।
যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ৯ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নিয়েছিলেন রবি। ইংল্যান্ডের প্রথম চার ব্যাটারের তিনজনকে ফিরিয়ে ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামিয়েছেন তিনি।
সিএবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবি কুমারের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অভিষেক থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত যাবতীয় রেকর্ড ও পরিসংখ্যান বাতিল বলে গণ্য হবে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে বয়সের তারতম্য ছিল ৪০ মাসেরও বেশি!
বয়স জালিয়াতির এই মারাত্মক প্রবণতা রোধে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) অতীতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেয়। ২০২০ সালে বিসিসিআই একটি ‘ক্ষমা ঘোষণা করুক’ (অ্যামনেস্টি স্কিম) চালু করেছিল। সে সময় বলা হয়েছিল, কোনো নিবন্ধিত খেলোয়াড় যদি নিজে থেকে বয়সের সঠিক তথ্য প্রকাশ করে, তবে সে শাস্তি এড়াতে পারবে। তবে জালিয়াতি ধরা পড়লে নেমে আসবে কঠিন নিষেধাজ্ঞা। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলোয়াড়দের বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্মসনদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সব নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

