আর্থিক সংকট কাটিয়ে রাজস্ব আয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
করোনাভাইরাস মহামারির সময় আর্থিক সংকটে পড়া বার্সেলোনা এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া বার্সেলোনা এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি রাজস্ব আয় করেছে কাতালান ক্লাবটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
বার্সেলোনার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্লাবটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরোতে। আগের মৌসুমে এই অঙ্ক ছিল ৯৯৪ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেকর্ড আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু। সংস্কারকাজ চলার কারণে মৌসুমজুড়ে স্টেডিয়ামটি পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। মৌসুমের শুরুতে কিছু ম্যাচ এস্তাদি জোহান ক্রুইফ ও অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার পরও দর্শক ধারণক্ষমতা সীমিত ছিল ৪২ হাজারে।
এসব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের প্রায় পুরোটা রাজস্ব আদায় করতে পারাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ক্লাবটি। বার্সেলোনার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি ছিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল মৌসুম, যেখানে প্রথমবারের মতো এক বিলিয়ন ইউরোর সীমা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।
ক্লাবের মতে, স্টেডিয়াম পরিচালনা ও ম্যাচডে আয়ের বৃদ্ধি এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। ক্যাম্প ন্যু পুরোপুরি চালু হলে ভবিষ্যতে রাজস্ব আরও বাড়বে বলে আশাবাদী বার্সা কর্তৃপক্ষ।
স্টেডিয়াম আয় ছাড়াও পৃষ্ঠপোষকতা খাত এবং ক্লাবের মার্চেন্ডাইজিং প্রতিষ্ঠান বার্সা লাইসেন্সিং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং (বিএলএম) থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব এসেছে। গত মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার সমান।
এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য বার্সেলোনা প্রথম নির্ধারণ করেছিল ২০১৮ সালে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব সেই পরিকল্পনাকে পিছিয়ে দেয়। আট বছর পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে ক্লাবটি।
অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল ছিল বার্সেলোনা। জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্প্যানিশ লা লিগা শিরোপা জিতেছে দলটি।
তবে রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এখনো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের পেছনে রয়েছে বার্সা। গত মৌসুমে রিয়ালের আয় ছিল প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যদিও দুই ক্লাবের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমছে। দল শক্তিশালী করতে গত গ্রীষ্মে খেলোয়াড় কেনার পেছনে বার্সেলোনা ব্যয় করেছে প্রায় ২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয়ের কীর্তি গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সেই মাইলফলক স্পর্শ করা ক্লাবটির পর এবার একই কাতারে নাম লেখাল বার্সেলোনা।

