শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে শেষ চারের পথ কঠিন করল বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি ব্যাটাররা। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পর শেষ পর্যন্ত বোলারদের লড়াইও কাজে আসেনি।
শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরে নারী এশিয়া কাপের শেষ চারে ওঠার পথ কঠিন করে ফেলেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১১৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
এই হারে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয়ধারা আরও দীর্ঘ হলো। টানা সাত ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতেছে লঙ্কানরা। ২০২৩ সালের মে মাসের পর থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আর জয় পায়নি বাংলাদেশ। দুই দলের ১৭ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার জয় এখন ১৪টি।
টানা তিন ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে বাংলাদেশের শেষ চারে ওঠা এখন নির্ভর করছে পরের ম্যাচের ওপর। আগামী মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে জ্যোতিদের।
১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান শ্রীলঙ্কার ইমেশা দুলানি। তবে প্রথম ওভার শেষ হওয়ার আগেই চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দেন মারুফা আক্তার। পরের ওভারের শেষ বলেও দারুণ ডেলিভারিতে দুলানিকে বোল্ড করেন এই পেসার।
পাওয়ার প্লের শেষ বলে সঞ্জনা কাভিন্দিকে ফেরান সুলতানা খাতুন। এরপর শ্রীলঙ্কার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। নবম ওভারে এসে উইকেটের দেখা পান রিতু মনি। পরের ওভারে সরাসরি থ্রোয়ে কাভিশা দিলহারিকে রানআউট করেন ফাহিমা খাতুন।
এক পর্যায়ে মাত্র ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচে বেশ চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ান হর্শিতা সামারাবিক্রমা ও নীলক্ষ্মী ডি সিলভা। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৩৮ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
১৭তম ওভারে আবার আক্রমণে ফিরে নীলক্ষ্মীকে বোল্ড করেন মারুফা। ১৮তম ওভারের শুরুতে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হর্শিতা। রিতু মনির ওভারের প্রথম তিন বলেই একটি চার ও একটি ছক্কাসহ ১২ রান তুলে নেন তিনি। পুরো ওভার থেকে আসে ১৬ রান, ফলে সমীকরণ নেমে আসে দুই ওভারে ১৩ রানে।
১৯তম ওভারের শেষ বলে নাহিদা আক্তারের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে শ্রীলঙ্কার জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন হর্শিতা। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ২ রান তুলতে কোনো সমস্যাই হয়নি লঙ্কানদের।
৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৮ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান হর্শিতা। বাংলাদেশের হয়ে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মারুফা আক্তার।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম চার ওভারে কোনো উইকেট হারাননি দুই ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা ও দিলারা আক্তার দোলা। তবে পঞ্চম ওভারে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে উইকেট হারান জয়িতা। তিন চারে ১০ বলে ১৪ রান করেন তিনি।
পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর আউট হন দিলারাও। চারটি চারের সাহায্যে ২৬ বলে ২৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। চার নম্বরে নেমে ৯ বলে মাত্র ৪ রান করে ফেরেন তিনি।
চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা আক্তার ৪০ বলে ৪১ রানের জুটি গড়ে দলকে সাময়িকভাবে সামলে নেন। এই জুটিতে মূল ভূমিকা ছিল সোবহানার। ২০ রানে জীবন পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। চারটি বাউন্ডারিতে ৪১ বলে ৩৪ রান করেন সোবহানা।
স্বর্ণার ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ৯ রান। শেষ ওভারে পরপর রিভার্স সুইপ ও প্যাডেল সুইপে দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাংলাদেশের স্কোর কিছুটা লড়াইয়ের পর্যায়ে নিয়ে যান ফাহিমা খাতুন।
শ্রীলঙ্কার হয়ে চামুদি প্রবোদা ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। সুগন্ধিকা কুমারি ৪ ওভারে একটি মেডেনসহ ২২ রান খরচ করে নেন ২ উইকেট।

