Logo
Logo
×
   

খেলা

পাকিস্তান ক্রিকেটকে কটাক্ষ করে যা বললেন ডি ভিলিয়ার্স

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

পাকিস্তান ক্রিকেটকে কটাক্ষ করে যা বললেন ডি ভিলিয়ার্স

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একের পর এক পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা নতুন নয়। তবে দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় থেকে ক্রিকেটাররাও যে পুরোপুরি মুক্ত নন, সেটিই স্পষ্ট করে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। ইংল্যান্ড সফরে টানা দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তানের ব্যাটিং নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, এই দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতি এখন সাহস ও লড়াইয়ের মানসিকতায়।

ইংল্যান্ড সফরের শুরুটাই হয়েছে পাকিস্তানের জন্য হতাশাজনকভাবে। হেডিংলি ও লর্ডসে প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। চার ইনিংসের একটিতেও ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি পাকিস্তান। প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র তিন দিনে। দ্বিতীয় টেস্ট চতুর্থ দিন পর্যন্ত গড়ালেও সেটির বড় কারণ ছিল বৃষ্টি।

এমন পারফরম্যান্সের পর বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটে পিসিবি। সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, দলে সুযোগ দেওয়া হয় বেশ কয়েকজন তরুণকে। একই সঙ্গে টেস্ট কোচের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়। সরফরাজ আহমেদের জায়গায় দায়িত্ব পান সাদা বলের কোচ মাইক হেসন।

তবে ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, পাকিস্তানের সমস্যা কেবল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়; মাঠে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যেও ঘাটতি রয়েছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন,

‘বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটে পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে সেই বাড়তি পরিশ্রম করার মানসিকতা আমি দেখি না। তাদের যথেষ্ট সাহস নেই, সেই লড়াইও নেই।’

ডি ভিলিয়ার্সের চোখে টেস্ট ক্রিকেট কেবল দক্ষতার পরীক্ষা নয়, এটি একজন ক্রিকেটারের চরিত্রেরও পরীক্ষা। সেই জায়গাতেই বর্তমানে পাকিস্তান পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘সব সময় সুন্দর ক্রিকেট খেলতে হবে এমন নয়। কখনও কখনও ব্যাপারটা কদাকার হতে পারে, দেখতে খুব খারাপও লাগতে পারে। কিন্তু আপনাকে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।’

নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণও টেনেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই অধিনায়ক। তার কাছে ক্রিকেট ব্যক্তিগত রেকর্ড অর্জনের চেয়ে মাঠে নিজের চরিত্র ও মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশের বিষয় ছিল।

‘আমি যদি নিজের অহংকারের জন্য খেলতাম, তাহলে হয়ত অন্য রকম ক্রিকেটার হতাম। আমার কাছে বরং গুরুত্বপূর্ণ ছিল- আজ মাঠে আমি কতটা ক্যারেক্টার দেখাতে পারি।’

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো ব্যক্তিগত নেতৃত্ব পাকিস্তান দলে এখন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, ‘আমি সব সময় মনে করতাম, টেস্ট ক্রিকেট আপনার ক্যারেক্টারের পরীক্ষা। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের হয়ত সেটাই নেই- একটু চরিত্র, একটু লড়াই।’

এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দলের চার-পাঁচজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সামনে থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু অধিনায়কের ওপর নেতৃত্বের ভার ছেড়ে না দিয়ে সিনিয়রদেরই তরুণদের সামনে উদাহরণ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন ডি ভিলিয়ার্স, ‘চার-পাঁচজন খেলোয়াড় একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিক- আমরাই নেতা হব, আমরাই উদাহরণ তৈরি করব। তরুণদের দেখাব, টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি জিততে কী করতে হয়।’

তবে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক দুর্দশার জন্য শুধু ক্রিকেটারদের দায়ী করেননি ডি ভিলিয়ার্স। পিসিবির দীর্ঘদিনের ‘চপিং অ্যান্ড চেঞ্জিং’ সংস্কৃতিকেও তিনি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন।

গত কয়েক বছরে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক, কোচ ও নেতৃত্ব কাঠামোয় একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। জেসন গিলেস্পি ও গ্যারি কারস্টেনের মতো কোচও নানা টানাপোড়েনের পর দায়িত্ব ছেড়েছেন।

এরই মধ্যে আবার নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরেছেন বাবর আজম। ডি ভিলিয়ার্সের প্রত্যাশা, এবার অন্তত বাবরকে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘বাবর আবার ফিরেছে। আশা করি, এবার সে দীর্ঘ সময় সুযোগ পাবে, ফিট থাকবে ও আমরা যে বাবরকে চিনি, সেভাবেই রান করবে। তার সতীর্থদেরও সেই নেতৃত্ব অনুসরণ করতে হবে।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম