ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করল ফ্রান্স
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে এবার আর সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
ফ্রান্সের অবস্থান বদলের ফলে ইউরোপীয় ফুটবলে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া মতবিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ পেল। এর আগে গত জুনে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিল এফএফএফ। তখন তিনিই ছিলেন নির্বাচনের একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী।
পরবর্তী সময়ে ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা সামনে আসার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বিক্রির প্রস্তাব ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
ফ্রান্সের সমর্থন প্রত্যাহারের অন্যতম কারণ হিসেবে ফিফার পরিচালনব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকটের কথা তুলে ধরেছেন এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো। তিনি বলেন, ‘ফিফা সভাপতির ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছিল, তা ভেঙে গেছে। বিশ্ব ফুটবল কীভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি, সেটির সঙ্গে এখন যেভাবে তা পরিচালিত হচ্ছে, তার আর মিল নেই।’
ইনফান্তিনোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ফিফার সদস্য ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ও তথ্য বিনিময় না হওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। এফএফএফের অবস্থান হলো, বিশ্ব ফুটবলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতা এবং সদস্যদের সম্মিলিত আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।
ফিফার প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগও নিতে চায় ফ্রেঞ্চ ফেডারেশন। এ লক্ষ্যে কনফেডারেশন, জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন, খেলোয়াড়, সমর্থক এবং সুশাসন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করেছে তারা। এর মাধ্যমে ফিফার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ানো, হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সংস্থাটির স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
দিয়ালোর মতে, শুধু সমালোচনা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি কার্যকর বিকল্পও তুলে ধরতে হবে। তিনি মনে করেন, পরবর্তী ফিফা নেতৃত্বের জন্য উয়েফার একটি সুস্পষ্ট কর্মসূচি তৈরি করা উচিত। একই সঙ্গে যথাসময়ে এমন একজন প্রার্থীকে সামনে আনতে হবে, যিনি নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে চ্যালেঞ্জ করে জয় পাওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
ফ্রান্সের আগেই ইংল্যান্ড, ইতালি, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসসহ ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। শুধু উয়েফাই নয়, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফও ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল ও আফ্রিকার সিএএফ এখনো ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে।
এদিকে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে এখনো আছেন ইনফান্তিনো। আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর ২০২৬। ফলে নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোবিরোধী পক্ষ কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে এবং তার বিপরীতে শক্তিশালী কোনো প্রার্থী দাঁড় করাতে পারে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

