Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

বদলে যাচ্ছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানার মাঠ

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

বদলে যাচ্ছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানার মাঠ

ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়াম।

Advertisement

২০২৭ থেকে পাল্টে যাচ্ছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানার পিচ। এই স্টেডিয়ামের মাঠের বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মাঠের বেহাল দশার কারণে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো ও ফ্লুমিনেন্সের ফুটবলারদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে। সেই তোপের মুখেই অবশেষে ঘাস বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাঠ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ‘ফ্লা-ফ্লু কনসোর্টিয়াম’।

বর্তমান ঘাসের বদলে স্টেডিয়ামে এবার বসানো হচ্ছে আরও আধুনিক প্রযুক্তির ‘সেলিব্রেশন হাইব্রিড’ ঘাস। মূলত ঘনঘন ম্যাচ খেলার ধকল সামলানো এবং আগামী মৌসুমে পিচের স্থায়িত্ব ও টেকসই ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে মারাকানা স্টেডিয়ামে ‘বারমুডা সেলিব্রেশন’ ঘাস ব্যবহার করা হলেও ২০২৭ সালের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে আরও আধুনিক ‘সেলিব্রেশন হাইব্রিড’ ঘাস। এটি প্রচলিত ঘাসের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই এবং পিচ দ্রুত মেরামত ও নিয়মিত পরিচর্যার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। 

আগামী ডিসেম্বরে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ৩৮তম বা শেষ রাউন্ডের খেলা শেষ হওয়া মাত্রই শুরু হবে সংস্কারকাজ। পুরনো ঘাস পুরোপুরি তুলে ফেলে ওই মাসেই নতুন ঘাস রোপণের কাজ শুরু হবে।

তবে মাঠ বদলের এই ধকলের কারণে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকোর বার্ষিক চ্যারিটি ম্যাচ ‘গেম অব স্টার্স’। মাঠ প্রস্তুত না থাকায় এবার বড়দিনের সপ্তাহে প্রথাগত এই জমকালো ইভেন্টটি আয়োজন করা যাচ্ছে না। আয়োজকরা এখন নতুন কোনো তারিখের খোঁজে ব্যস্ত—হয়তো লিগ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচটি মাঠে গড়াবে, নতুবা ঘাস রোপণ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী বছরে!

মারাকানা স্টেডিয়ামের বেহাল দশার পেছনে মাঠ রক্ষণাবেক্ষণের পাঁচটি মূল বিষয়কে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চারটিরই মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে আবহাওয়া ও ঠাসা সূচি থেকে। ম্যাচের দিন বা খেলা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ম্যাচ খেলার হার এক লাফেই ২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে পরপর দুটি ম্যাচের মধ্যকার বিরতিও কমে গেছে। ফলে মাঠে ঘাসের প্রাকৃতিক ঘনত্ব ও সজীবতা আশঙ্কাজনকভাবে নষ্ট হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর তুলনামূলক কম ম্যাচ হলেও অস্বাভাবিক আবহাওয়া পিচের ওপর বড় আঘাত হেনেছে। অস্বাভাবিক গরম শীতকাল এবং ভারী বর্ষণের যৌথ প্রভাবে ঘাসের আস্তরণ পাতলা ও অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। আর ক্ষয়ক্ষতি সামলে ঘাস আবার স্বাভাবিক হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় পিচের গুণমান পুরোপুরি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবোকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারাকানার সিইও ফ্রেড নান্তেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পিচ পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নারী বিশ্বকাপের সাথে সম্পর্কিত নয়—যদিও টুর্নামেন্টটির ৯টি ম্যাচ আয়োজিত হবে এই মারাকানাতেই। তার মতে, মাঠের ঘাস বদলানোর প্রক্রিয়ায় নারী বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটির কোনো ভূমিকা ছিল না।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম