মেসির অবসরের পর আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ কী? অতীত থেকে মিলছে যে শিক্ষা
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মেসির পর আর্জেন্টিনার কী হবে?
কিছু খেলোয়াড় শুধু দলের হয়ে মাঠে নামেন না। তারা হয়ে ওঠেন দলের পরিচয়। পেলে যেমন ব্রাজিলের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি তেমনি আর্জেন্টিনার আত্মা হয়ে গিয়েছিলেন।
এমন একজন খেলোয়াড় যখন বুট খুলে রাখেন, তখন শুধু একটা ক্যারিয়ার শেষ হয় না। একটা বড় প্রশ্ন তৈরি হয় — এরপর কী? পেলে ১৯৭০ বিশ্বকাপ জেতার পর ব্রাজিলকে আবার শিরোপার জন্য ২৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ম্যারাডোনার যুগ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনাকেও সেই একই দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে গিয়ে তারা আবার শিরোপা জেতে। এখন মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে সেই একই অনিশ্চয়তা আবার উঁকি দিচ্ছে।
ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা ছিল নাটকীয়। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তিনি শেষবার আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন। দলে ফিরেই তিনি প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। গ্রিসের বিরুদ্ধে ৪-০ জয়ের পর নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টের শীর্ষ দাবিদার হয়ে উঠেছিল।
বিশ্বকাপের আগে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা আমাকে চাইবে।’ সেই ডাক এসেছিল। কলম্বিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারের পর কোচ আলফিও বাসিলে তাকে ডেকেছিলেন এবং তিনি সাড়া দিয়েছিলেন। দলে তখন ডিয়েগো সিমিওনে, ফার্নান্দো রেডোন্দো, ক্লদিও কানিজিয়া ও গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার মতো উঠতি তারকা ছিলেন। সেই দল ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকাও জিতেছিল।
কিন্তু বিশ্বকাপে এসে ম্যারাডোনার পুনরুত্থান হঠাৎ থেমে যায়। নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহারের দায়ে তিনি বাদ পড়েন। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি দল। রাউন্ড অব ১৬-তে রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। এটাই ছিল ম্যারাডোনার শেষ বিশ্বকাপ।
ম্যারাডোনার পর দশ নম্বর জার্সির ভার পড়ে রিভার প্লেটের তারকা আরিয়েল অর্তেগার কাঁধে। কিন্তু ১৯৯৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে একটাই মুহূর্তে তার ক্যাম্পেইন শেষ হয়ে যায়। ডাচ গোলকিপার এডউইন ভ্যান ডার সারকে মাথা দিয়ে গুঁতো মেরে লাল কার্ড দেখেন তিনি। আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
ম্যারাডোনার পরের বছরগুলোতে সমস্যা ছিল শুধু দশ নম্বর জার্সির নয়। দলে একজন দীর্ঘমেয়াদী নেতার অভাব ছিল, যিনি মাঠে ও ড্রেসিংরুমে একইসঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারেন। ১৯৯৮ সালে সিমিওনে অধিনায়ক হন। ২০০২ বিশ্বকাপে হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন ও বাতিস্তুতা দায়িত্ব ভাগ করে নেন। ২০০৬-এ হুয়ান পাবলো সোরিন এবং ২০১০-এ হাভিয়ের মাশ্চেরানো অধিনায়কত্ব পান। অধিনায়কের বাহুবন্ধনি এভাবে এক হাত থেকে অন্য হাতে ঘুরতেই থাকে।
২০০৬ বিশ্বকাপে কোচ হোসে পেকারম্যানের পছন্দের দশ নম্বর ছিলেন হুয়ান রোমান রিকেলমে। আর এক কিশোর মেসি ১৯ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমে দুনিয়াকে প্রথমবার দেখাচ্ছিলেন তার জাদু।
২০১০ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন আসে। ম্যারাডোনা নিজেই তখন কোচ। আর মেসির গায়ে উঠে আসে সেই আইকনিক দশ নম্বর জার্সি। ক্লাবে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর মেসির কাঁধে চাপে জাতীয় দলেও একই কীর্তি গড়ার প্রত্যাশা। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় হলেও সেই বিশ্বকাপই ছিল মেসি যুগের সত্যিকার সূচনা।
এখন একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। আর্জেন্টিনা এখনও ভালো ফুটবলার তৈরি করে। কিন্তু সেই একই পুরনো চ্যালেঞ্জ আবার এসে দাঁড়িয়েছে। এমন একজনকে ছাড়া মানিয়ে নেওয়া, যাকে একসময় অপরিহার্য মনে হয়েছিল। ম্যারাডোনার পরের বছরগুলো একটা পথ দেখায়। আর্জেন্টিনা হয়তো আরেকজন মেসি পাবে না। কিন্তু ইতিহাস বলছে, তারা মূল তারকা ছাড়াও নিজেদের নতুনভাবে গড়তে পারে।

