‘রাজনীতি নাহয় ক্রিকেট, একটা বেছে নিন’, নাকভিকে কড়া বার্তা কাইফের
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সিরিজ চলাকালীনই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দ্বিতীয় টেস্টের পর সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো, দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়া এবং পাঁচ জন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে সরাসরি নিশানা করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মোহম্মদ কাইফ। তার মতে, একই সময়ে রাজনীতি ও ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ দায়িত্ব পালন করা উচিত নয়।
‘একসঙ্গে দুটো কাজ সম্ভব নয়’
ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাইফ বলেন, মহসিন নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং ক্রিকেট বোর্ডের প্রধানের দায়িত্বও পালন করছেন। তার মতে, দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর কারণে ক্রিকেট প্রশাসনে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
কাইফ বলেন, ‘নাকভি রাজনীতিতে আছেন। তিনি ক্রিকেট বোর্ডেরও প্রধান। এটা এভাবে চলতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্বে থাকলে ক্রিকেটের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয়, খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা করলে একজন প্রশাসকের পক্ষে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন কাইফ।
বিসিসিআইয়ের উদাহরণ কাইফের
নিজের বক্তব্যের পক্ষে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) উদাহরণও টেনেছেন কাইফ। তার মতে, ক্রিকেট প্রশাসনে দায়িত্ব নেওয়ার পর একই সময়ে একাধিক বড় দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত।
কাইফ বলেন, হয় আপনি রাজনীতিবিদ, নয়ত ক্রিকেট প্রধান। ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। একটি বিষয়েই মনোযোগ দিতে হবে।
তার যুক্তি, বিশ্বের অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের দিকেও তাকালে একই ধরনের ব্যবস্থা দেখা যায়। বিশেষ করে বিসিসিআইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ক্রিকেট পরিচালনায় পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।
পাকিস্তানে প্রতিভার অভাব নেই
তবে পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রতিভার ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন না কাইফ। তার মতে, দেশটিতে যথেষ্ট প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। সমস্যা মূলত সেই প্রতিভাকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ মানুষের অভাব।
কাইফ বলেন, খেলোয়াড়রা খারাপ নয়। খেলোয়াড় তৈরি করতে পারে এমন মানুষ প্রয়োজন। পাকিস্তানে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে।
অর্থাৎ পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যাকে শুধু ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চান না প্রাক্তন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। তার মতে, প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।
ইংল্যান্ডে ৩-০ হারের পর চাপ
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সে একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই দ্বিতীয় টেস্টের পর বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাঁচ জন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়।
এমন পরিস্থিতিতে পিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকদের সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই নাকভির প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কাইফ।
সমালোচনায় ভয় পান না নকভি
তবে সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি মহসিন নকভি। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি হয়েছে।
সমালোচনা প্রসঙ্গে নাকভি বলেছিলেন, আমি কখনও সমালোচনাকে ভয় পাইনি এবং ভবিষ্যতেও পাব না। যারা বলে আমি আসার পর ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, তারা দায়িত্ব নেওয়ার আগে র্যাঙ্কিং কী ছিল, সেটা দেখুক।
ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন প্রশ্ন বাড়ছে, তখন নাকভি নিজের সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব নিয়ে এখনও আত্মবিশ্বাসী।


