Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী, বড় শাস্তির শঙ্কায় ম্যান সিটি

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী, বড় শাস্তির শঙ্কায় ম্যান সিটি

Advertisement

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

তবে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্ভাব্য সব ধরনের শাস্তির পথই খোলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে সিটি আপিল করবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, দীর্ঘ তদন্তের পর সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে মাত্র একটিতে তারা দায়মুক্তি পেয়েছে। চার বছর ধরে তদন্ত চালানোর পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবটির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে প্রিমিয়ার লিগ।

তবে ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্লাবটির মুখপাত্র বলেন, প্রিমিয়ার লিগের আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকটি ধাপ বাকি। পুরো বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে থাকায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া ক্লাবের অবস্থানেই তারা অটল।

সিটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের বোর্ড ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে—এই বিশ্বাস থেকেই তারা গত আট বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করে আসছে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ গঠনের পর সিটি জানিয়েছিল, এসব অভিযোগে তারা ‘বিস্মিত’। একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে পর্যাপ্ত ও খণ্ডনাতীত প্রমাণ রয়েছে দাবি করে স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ পর্যালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছিল ক্লাবটি।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে তদন্তের পর মামলাটি একটি স্বাধীন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের নভেম্বরে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের স্পিগেল ম্যানচেস্টার সিটির কিছু ফাঁস হওয়া আর্থিক নথি প্রকাশ করার পর থেকেই বিষয়টি সামনে আসে।

প্রিমিয়ার লিগের অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল সিটির সঠিক আর্থিক তথ্য এবং খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে ব্যর্থতা। পাশাপাশি উয়েফার ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) এবং প্রিমিয়ার লিগের ‘প্রফিটেবিলিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ (পিএসআর) নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ম্যানচেস্টার সিটি।

২০০৮ সালে আবু ধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান শেখ মনসুর ক্লাবটি কিনে নেওয়ার পর থেকে সিটির সাফল্যও উল্লেখযোগ্য। এই সময়ে তারা আটটি প্রিমিয়ার লিগ, চারটি এফএ কাপ, সাতটি লিগ কাপ এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে। এর মধ্যে ছয়টি বড় ট্রফিই এসেছে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আগের সময়ের পর।

এর আগেও ডের স্পিগেলের ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ক্লাবটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৩ কোটি ইউরো জরিমানা করেছিল। তবে পাঁচ মাস পর ক্রীড়া সালিসি আদালত (সিএএস) সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, কয়েকটি অভিযোগের ক্ষেত্রে উয়েফার নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল এবং অন্য অভিযোগগুলোও যথেষ্ট প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সংস্থাটি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম