‘প্রজেক্ট ২০৩০’: স্কালোনির গোপন ছক, কী আছে এতে?
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিভিয়াকে হারিয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ার প্রথম ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। এই দলটির সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল নতুন খেলোয়াড়রা যেন দলটির দর্শন বুঝতে পারে। সে জয়ের পর এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, নতুনরা সেটা বুঝতে, সে অনুযায়ী খেলতে প্রস্তুত।
ভিত্তিটা আগেই গড়া হয়ে গিয়েছিল। লিওনেল মেসি চিরদিন থাকবেন না। সে ভাবনা ভেবেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। আর্জেন্টিনাও প্রস্তুত হচ্ছিল। সে প্রস্তুতিরই এখন ফল দেওয়ার সময়।
অক্টোবরের এই উইন্ডোয় ডাক পাওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ১৯ জন স্কালোনির শুরুর দিন থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন। এই পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। তখন দিয়েগো প্লাসেন্তে ও পাবলো আইমার যুব কাঠামোতে কোচ হিসেবে যোগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া দলের বড় অংশ ছিল দলটির বয়সভিত্তিক দল থেকে আসা খেলোয়াড়রা। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জেতা দলের ভিত্তি তো বটেই, বড় পারফর্মাররাও এসেছিলেন বয়সভিত্তিক দল থেকে। যেমন, হুলিয়ান আলভারেজ ২০২২ সালে এসেছিলেন ২০১৯ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে। তখন কোচ ছিলেন ফের্নান্দো বাতিস্তা। বাতিস্তা এনজো ফার্নান্দেজকেও কোচিং করিয়েছেন, ২০২০ সালে তার অধীনে এনজো খেলেছেন তিনটি প্রীতি ম্যাচ। এমনকি আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও তিয়াগো আলমাদাকেও কোচিং করিয়েছেন তিনি, তাদের নিয়ে গিয়েছিলেন প্রাক-অলিম্পিক ও টোকিও ২০২১ অলিম্পিকে।
২০২৬ বিশ্বকাপে সে সংখ্যাটা আরও বাড়ে। বাতিস্তার অধীনে বয়সভিত্তিক দল থেকে ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস গনসালেসরা বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে আসেন।
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে যাওয়া দলের ৩৮.৬ শতাংশ খেলোয়াড় অন্তত একটি বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। ছোটবেলা থেকেই তারা পেকারমানের ধাঁচে বড় হয়েছেন। এবারের ডাকে সেই হার ৫১ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
নতুন ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মূল অংশ অবশ্য এসেছে যারা হাভিয়ের মাসচেরানোর অধীনে অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলেছেন তাদের মধ্য থেকে। ডাক পাওয়াদের মধ্যে নয়জন ছিলেন ‘ছোট বস’ মাসচেরানোর সময়ের। পরে দিয়েগো প্লাসেন্তের তত্ত্বাবধানেও তারা ছিলেন। তাদের অনেকেই দক্ষিণ আমেরিকার অনূর্ধ্ব-২৩ বা আর্জেন্টিনায় হওয়া বিশ্বকাপে ডাক পেয়েছিলেন। নিকো পাজ বাছাইপর্বের দলে ছিলেন। তার সঙ্গে আছেন আগুস্তিন গিয়াই। তিনি প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার আগের সফরেও খেলেছেন। আরও আছেন ভালেন্তিন গোমেজ, যিনি ওই দলের অধিনায়ক ছিলেন। এ ছাড়া আছেন ভালেন্তিন বার্কো, রোমান বেগা ও মাতিয়াস সোলে।
মাচেরানোর সঙ্গে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের তরুণ ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, ইকি ফার্নান্দেজ ও সান্তিয়াগো কাস্ত্রোও যুক্ত ছিলেন। তার উত্তরসূরি প্লাসেন্তে ২০২৫ সালের ফিফা প্রতিযোগিতায় আন্দ্রাদা ও জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নিকে বিবেচনায় রেখেছিলেন।
মেসি ও ওতামেন্দির অধ্যায় শেষের পথে, দি মারিয়া আগেই বিদায় নিয়েছেন। পারেদেস, লো সেলসো ও দি পলও ধীরে ধীরে সরে যাবেন, ফলে দলে নতুন জায়গা খুলবে। স্কালোনি জানিয়েছেন, তারা সিস্টেমের চেয়ে খেলোয়াড়দের বেশি পরখ করবেন। কারণ সিস্টেম তো আগে থেকেই ছিল, এবার শুধু জায়গায় জায়গায় খেলোয়াড়দের থিতু করার পালা। সেটা ঠিকঠাক করে ফেলতে পারলেই সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরিতে এগিয়ে যাবে স্কালোনি-আর্জেন্টিনার ‘প্রজেক্ট ২০৩০’।
তবে স্কালোনির হাতে বড় তাস হলো অতীতের সাফল্য ও তার জাতীয় দলে তার ওজন। এমন অতীত অভিজ্ঞতা আর বর্তমানের উপস্থিতি থাকলে ভবিষ্যত পরিকল্পনায় সফল হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় বহুগুণে। আর্জেন্টাইনরাও নিশ্চয়ই এই তিনের মেলবন্ধনই চাইবেন।
