আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসির সেরা ১০ জাদুকরি মুহূর্ত
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যেন একের পর এক রূপকথার অধ্যায়। ২১ বছরের পথচলায় ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮ অ্যাসিস্ট—সঙ্গে বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা। এমন বর্ণিল ক্যারিয়ার থেকে সেরা ১০টি মুহূর্ত বেছে নেওয়া যে কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবু মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য কিছু স্মৃতি ফিরে দেখা যাক।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, বিশ্বকাপ ২০২২

কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মেসির নেতৃত্বের আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখা যায়। তিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থের গোলেও অবদান রাখেন। ২-২ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচটি টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের কঠিন চ্যালেঞ্জের জবাব মাঠেই দিয়েছিলেন মেসি।
সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে, বিশ্বকাপ ২০০৬

বিশ্বকাপে মেসির প্রথম গোল এসেছিল সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে। পরবর্তীতে বিশ্বকাপের গোলের রেকর্ডে নিজের নাম লেখালেও তার প্রথম গোলটির বিশেষত্ব আলাদা। সেই গোলই বিশ্বমঞ্চে মেসির অসাধারণ যাত্রার সূচনা করে।
মেক্সিকোর বিপক্ষে, কোপা আমেরিকা ২০০৭

মাত্র ২০ বছর বয়সে মেসি দেখিয়েছিলেন তার অসাধারণ প্রতিভার ঝলক। মেক্সিকোর বিপক্ষে বক্সের বাঁ দিক থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত চিপে করা গোলটি ছিল চোখধাঁধানো। ওই গোলের পরই অনেকের চোখে ভবিষ্যৎ কিংবদন্তি হিসেবে মেসির পরিচয় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মিসরের বিপক্ষে, বিশ্বকাপ ২০২৬

শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে আর্জেন্টিনা। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটির সামনে তখন বিদায়ের শঙ্কা। ম্যাচের শেষ ১২ মিনিটে মেসির জাদু বদলে দেয় পরিস্থিতি। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে দিয়ে গোল করানোর পর নিজেও দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে গোল করেন তিনি। পরে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিশ্চিত হয়। তবে সেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মূল কারিগর ছিলেন মেসি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, কোপা আমেরিকা ২০১৬

শতবর্ষী কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল মেসির ফ্রি-কিক গোল। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মানবদেয়ালের পাশ দিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে তার অসংখ্য ফ্রি-কিক গোলের মধ্যে এটিও অন্যতম স্মরণীয়।
ফ্রান্সের বিপক্ষে, বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২২

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালকে মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি করেন দুটি গোল এবং টাইব্রেকারেও সফল হন। শেষ পর্যন্ত গঞ্জালো মন্তিয়েলের পেনাল্টিতে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠে বসে মেসির উদযাপনের দৃশ্যটি হয়ে যায় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ছবি।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে, বিশ্বকাপ ২০১৪

মাঝমাঠের কাছাকাছি বল পেয়ে একাই এগিয়ে যান মেসি। সামনে থাকা প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অসাধারণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি। গোলটির বিশেষত্ব ছিল আরও একটি কারণে—ম্যাচের বড় একটি সময় মেসিকে তুলনামূলক শান্তভাবে খেলতে দেখা গেলেও হঠাৎ তার সেই বিস্ফোরক মুহূর্তই বদলে দেয় ম্যাচের চেহারা।
ব্রাজিলের বিপক্ষে, অনূর্ধ্ব-২০ কোপা আমেরিকা ২০০৫

জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে মেসির একটি আবেগঘন মুহূর্তও রয়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তার দুই শৈশবের বন্ধু লিয়ান্দ্রো বেনিতেজ ও লুকাস স্কাগলিয়া বলেছিলেন, গোল করলে যেন তিন বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বুকে তিন আঙুল রেখে উদযাপন করেন। ৭৫ মিনিটে গোল করে ঠিক সেই উদযাপনই করেছিলেন মেসি।
মেক্সিকোর বিপক্ষে, বিশ্বকাপ ২০২২

কাতার বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেক্সিকোর রক্ষণভেদ করতে দীর্ঘ সময় ব্যর্থ হওয়ার পর ৬৪ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন মেসি। তার গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে আর্জেন্টিনার হাতে। পরে এনজো ফার্নান্দেজের গোলেও জয় নিশ্চিত হয়।
ইকুয়েডরের বিপক্ষে, বিশ্বকাপ বাছাই ২০১৭

রাশিয়া বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। টানা চার ম্যাচে জয় না পাওয়া দলটির বিশ্বকাপ স্বপ্ন তখন অনিশ্চয়তায়। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে সব শঙ্কা দূর করে দেন মেসি এবং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেন।
