বিওএর নির্বাচন ও পদত্যাগ বিতর্কে ইমরোজ-সাইফুল
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাচন, কাউন্সিলর মনোনয়ন, পদ বণ্টন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কর্মকর্তা নির্বাচন এবং আর্থিক জবাবদিহি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ, মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা ও কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। এর মধ্যে পদত্যাগের ঘটনাও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ক্রীড়া সংস্কারের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি সার্চ কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জোবায়দুর রহমান রানাও সদস্য ছিলেন ইমরোজ আহমেদ। ক্রীড়া ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র, নির্বাচনপদ্ধতি, প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দল পাঠানোর প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করার দায়িত্ব ছিল তাদের। পরে এই দুই ব্যক্তিই বিওএর নির্বাচনে অংশ নেন। এতে সংস্কারপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন ও দায়িত্ব গ্রহণে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেন।
সংস্কার-সুপারিশের পর বিভিন্ন ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়। এসব কমিটির প্রতিনিধিদের অনেকে বিওএর কাউন্সিলর ও ভোটার হন। অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলর তালিকায় এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যারা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের বর্তমান কমিটিতে নেই। এতে ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে বিওএর সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে।অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদ করার দাবী করেছেন।
অলিম্পিক ও নন-অলিম্পিক ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্ধারিত উপমহাসচিব পদে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর আর্চারি ফেডারেশনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আলোকে বিওএর প্রশিক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব করা হয়। সরকারি আদেশে (জিও) নাম না থাকা সত্ত্বেও তাকে এশিয়ান গেমসে পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইমরোজ আহমেদ এশিয়ান বিচ গেমসে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন। এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে শেফ দ্য মিশন সাইফুল ইসলাম প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফেরায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন ইমরোজ।
সাইফুল ইসলামের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা, আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা এবং বিওএর তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়েও জবাবদিহির দাবি করেছেন ক্রীড়া ফেডারেশন ফোরামের নীতিনির্ধারকরা। বিওএর শতকোটি টাকা সাইফুলের হাতে নিরাপদ নয় বলে মনে করেন তারা। কেননা সাইফুল ইসলাম বর্তমানে কোন ফেডারেশনে নেই। সেক্ষেত্রে তার জবাবদিহিতাও নেই।
এদিকে পদত্যাগের ঘটনাগুলোর কারণ ও প্রেক্ষাপট নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। তার কথা, ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিওএ সভাপতির উচিত নির্বাচন, কাউন্সিলর মনোনয়ন, পদ বণ্টন, আন্তর্জাতিক সফরে কর্মকর্তা নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা। সেই সঙ্গে দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’
