২৫ বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটাচ্ছেন অ্যান্ডারসন
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ল্যাঙ্কাশায়ার। এর ফলে শৈশবের প্রিয় ক্লাবটির সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটতে যাচ্ছে ৪৪ বছর বয়সি এই পেসারের। তবে ক্লাবের এমন সিদ্ধান্তে হতাশা গোপন করেননি অ্যান্ডারসন।
ল্যাঙ্কাশায়ারের নতুন ক্রিকেট পরিচালক পল ফারব্রেস ও প্রধান নির্বাহী রিচার্ড কেনিয়নের সঙ্গে গত সোমবার বৈঠক করেন অ্যান্ডারসন। সেখানেই তাকে জানানো হয়, ২০২৭ মৌসুমের জন্য নতুন চুক্তি দেওয়া হবে না। দলের পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
তবে ল্যাঙ্কাশায়ার ছাড়লেও অ্যান্ডারসনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার এখনই শেষ হচ্ছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আগামী মৌসুমেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা রয়েছে তার। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে কয়েকটি কাউন্টি ক্লাব।
ব্যক্তিগত সাফল্যেও বদলায়নি ক্লাবের সিদ্ধান্ত
এবারের মৌসুমে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন অ্যান্ডারসন। মাত্র ১৭.৬৮ গড়ে নিয়েছেন ৫০ উইকেট। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্লাবের বর্ষসেরা চ্যাম্পিয়নশিপ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।
তবে অ্যান্ডারসনের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেনি। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে ল্যাঙ্কাশায়ার। ক্লাবটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল।
বার্নলিতে জন্ম নেওয়া অ্যান্ডারসনের ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে অভিষেক হয় ২০০১ সালে। এর পরের বছরই ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট দল থেকে সরে দাঁড়ান এই কিংবদন্তি পেসার। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লর্ডসে খেলেন নিজের শেষ টেস্ট। ১৮৮ টেস্টে ২৬.৪৫ গড়ে তার শিকার ৭০৪ উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের পরও খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অ্যান্ডারসন। কঠিন সময় পার করা নিজের শৈশবের ক্লাবকে সহযোগিতা করাই ছিল তার অন্যতম উদ্দেশ্য।
গত মৌসুমের মাঝপথে ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্বও নেন তিনি। গত বছরের নভেম্বরে চুক্তি নবায়নের পর ২০২৬ মৌসুমে পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেন।
ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১২ ম্যাচে ৪৪৩ উইকেট নিয়েছেন অ্যান্ডারসন। এ ছাড়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৬১ ম্যাচে ৮৩টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৪০ ম্যাচে ৫০টি উইকেট পেয়েছেন তিনি। ক্লাবটির সঙ্গে অ্যান্ডারসনের গভীর সম্পর্কের আরেকটি নিদর্শন রয়েছে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ২০১৭ সালে মাঠটির প্যাভিলিয়ন প্রান্তের নামকরণ করা হয় ‘জেমস অ্যান্ডারসন এন্ড’।
‘আমার ইচ্ছায় শেষ হলে এমনটা হতো না’
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্লাবের সিদ্ধান্তে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন অ্যান্ডারসন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই ল্যাঙ্কাশায়ারের সমর্থক ছিলেন এবং ক্লাবটির হয়ে ২৫ বছর খেলতে পারা তার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রতিবার মাঠে নামার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালনসহ এই মাঠে তার অনেক স্মৃতি রয়েছে।
নিজের বিদায় প্রসঙ্গে অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আমার ইচ্ছায় শেষ হলে এমনটা হতো না।’ তবে সিদ্ধান্তটি মেনে নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি।
দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনায় বিদায় অ্যান্ডারসনের
অ্যান্ডারসনের বিদায় নিশ্চিত করে ল্যাঙ্কাশায়ারের ক্রিকেট পরিচালক পল ফারব্রেস তাকে ক্লাব ও ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, জিমি নিঃসন্দেহে ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা সর্বকালের সেরা বোলারদের একজন।
ফারব্রেস জানান, দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে ফিরে আসা এবং আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই ল্যাঙ্কাশায়ারের লক্ষ্য। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে অ্যান্ডারসনের চুক্তি নবায়ন না করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্লাবের হয়ে মাঠে এবং মাঠের বাইরে অ্যান্ডারসনের অবদানেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ফারব্রেস।
দীর্ঘ ২৫ বছরের সম্পর্কের এমন সমাপ্তির পর এখন অ্যান্ডারসনের সামনে নতুন ক্লাবে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী মৌসুমে কোন দলের হয়ে মাঠে নামবেন এই কিংবদন্তি পেসার, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

