বুকায়ো সাকার ‘বড় জুতো’ তবে ঠিক মাপেরই ছিল!
Advertisement
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ এএম
‘সক্রেটিস’ পুরস্কার হাতে বুকায়ো সাকা। ছবি-ফ্রান্স ফুটবল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফুটবলারের জুতোর কথা উঠলে চোখে কী ভাসে? ঘাসের ওপর ছুটে চলা একজোড়া বুট, বলে লাথি পড়ছে তার, তার তোড়ে জাল কাঁপছে, গ্যালারিতে গর্জনের জন্ম দিচ্ছে। এই তো?
এবার একটু অন্যরকম ভাবা যাক চলুন। সেই জুতোর মাপ যদি বড় হয়? আদতে ফুটবলারদের জুতোকে হতে হয় একেবারে নিখুঁত, একটু এদিক ওদিক হলে খেলোয়াড় হুমড়ি খেয়ে পড়বেন মাঠে; লাখো পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার যখন হবে বিষয়টা, তখন প্রস্তুতকারকদের বাজারদর পড়বে চোখের পলকে। না, ভুল বলা হলো বোধ হয়। জুতোর মাপ বড় হলে তার বিপরীতও হতে পারে। মাপে বড় সে ‘জুতো’ কারো জীবনও গড়ে দিতে পারে।
নাইজেরিয়ার বহু শিশুর জন্য সে ‘বড় জুতো’ এসেছিল একেবারে অন্য চেহারায়। সে জুতো তাদের নিয়ে গেছে অস্ত্রোপচারের টেবিলে, দিয়েছে নতুন জীবন, সেটাই তাদের নতুন পথচলার শুরু।
এই ‘বড় জুতোর’ গল্পের নায়ক আর্সেনালের উইঙ্গার বুকায়ো সাকা। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তিনি জিতেছেন ‘সক্রেটিস’ পুরস্কার। তবে তা গোলের জন্য নয়। ‘বড় জুতো’ বা ‘বিগ শু’র জন্য।
ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন আর ‘পিস অ্যান্ড স্পোর্ট’ সংস্থা ২০২২ সালে এই সক্রেটিস পুরস্কার চালু করে। নাম এসেছে প্রয়াত ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি সক্রেটিসের নামে, যিনি সামাজিক অবস্থান আর গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়ালের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি তার খ্যাতি আর সম্পদকে কাজে লাগিয়েছিলেন সমাজের কাজে। তার পথ ধরে যারা হেঁটে যাবেন বহু দূর, ছাপ ফেলবেন সাধারণ মানুষের জীবনে, এই পুরস্কারটা তাদের জন্য।
তালিকাটাও দেখার মতো। প্রথম বছর, ২০২২ সালে পেয়েছিলেন সেনেগালের সাদিও মানে, নিজের গ্রাম বাম্বালিতে হাসপাতাল আর স্কুলের জন্য। ২০২৩ সালে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, শিশুদের শিক্ষা আর বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের জন্য। ২০২৪ সালে স্পেনের জেনি এরমোসো, নিপীড়ন আর বৈষম্যের প্রশ্নে সরব থাকার স্বীকৃতিতে। ২০২৫ সালে লুইস এনরিকের পরিবারের ‘শানা’ ফাউন্ডেশন, গুরুতর অসুস্থ শিশু আর তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। সাকা সে সারিতে পা রেখেছিলেন বহু আগেই, এবার পেলেন ‘স্বীকৃতি’।
তার কাজটা কী? জার্মান দাতব্য সংস্থা ‘বিগশু’-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি নাইজেরিয়ায়, মানে তার বাবা-মায়ের দেশে, শিশুদের অস্ত্রোপচারের খরচ জুগিয়েছেন। তার সহায়তায় হয়েছে ১২০টি অস্ত্রোপচার। হার্নিয়া থেকে ব্রেন টিউমার, কোনোটাই ছোট ব্যাপার নয়।
বাংলায় বলে, ‘বড় জুতোয় পা গলানো’ সহজ কাজ নয়। দায়িত্বের মাপ সেখানে পায়ের মাপের চেয়ে বড়। অথচ সাকা সেই জুতোয় পা গলিয়েছেন নিঃশব্দে, ক্যামেরার আড়ালে।
মাঠের বুট গোল করে। কিন্তু এই জুতো কাউকে দাঁড়াতে শেখায়। বুকায়ো সাকার সে ‘বড় জুতো’ ঠিক মাপেরই ছিল, তাই না?

