মেসিকে আটকানোর দায়িত্ব তারই ভক্ত তরুণের
jugantor
মেসিকে আটকানোর দায়িত্ব তারই ভক্ত তরুণের

  স্পোর্টস ডেস্ক  

১৪ আগস্ট ২০২০, ১৫:০১:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

লিসবনে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হচ্ছে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা শেষ দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের। আর পরিষ্কার আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামছে বার্সেলোনা! 

সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় বিধ্বংসী বায়ার্নের বিপক্ষে নড়বড়ে বার্সা। এর পরও মেসিতে তটস্থ জার্মানির সেরা ক্লাবটি।

মেসিকে আটকে রাখতে দলটি ব্যবহার করবেন তাদের সেরা অস্ত্র ডেভিসকে। আর তা হওয়ারই কথা। বিশ্বের সেরা লেফটব্যাকের তালিকায় ডেভিসের নামই উচ্চারিত হচ্ছে।

অথচ সেই ডেভিসই স্বপ্নের নায়ক হিসেবে মানেন বার্সা অধিনায়ক আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে। মেসিকে আইডল মেনেই ফুটবলে পা ছোঁয়ান এই বায়ার্ন তারকা।  

সে কথা ইতিমধ্যে অকপটে স্বীকার করেছেন ডেভিস। মেসির ছন্দকে রুখে দেয়ার দায়িত্ব তার ঘাড়ে, যা ভাবতেই বিস্ময়বোধ করেন ডেভিস।

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় মেসির একটা খেলাও বাদ দিতাম না। সব খেলা দেখতাম। আর এখন আমিই তাকে আটকানোর জন্য রক্ষণ করব। পুরোপুরি ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা হতে চলেছে আমার।’

তবে আইডলকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না বলেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ডেভিস। 

তিনি বলেন, মেসিতে মুগ্ধ আমি। তাকে দেখেই ফুটবলকে ভালোবাসা। কিন্তু আমার কাছে এটা শুধুই আরেকটা ম্যাচ। যে ম্যাচে আমি আমার মতোই খেলে যাব। আমার পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখব না। আমি চাইব মেসির বিপক্ষে সেরাটা উজাড় করে দিতে। ও অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। ওকে আটকাতে পারাটাই আমার সর্বোচ্চ সাফল্য।

ক্লাবটির প্রধান কার্ল হেঞ্জ রুমেনি বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি ১৯ বছর বয়সী ডেভিসের পক্ষে মেসিকে ‘দেখে রাখতে’ তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

ডেভিসের উত্থানটা সিনেমার কাহিনির মতো। তার বাবা-মা আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ লাইবেরিয়ার। গৃহযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে উদ্বাস্তু শিবির থেকে তারা পাড়ি জমান ঘানায়। সেখান থেকে উন্নত জীবনের লক্ষ্যে চলে আসেন কানাডার এডমন্টোনে। কানাডাতেই বেড়ে উঠেন ডেভিস। ছোটবেলা থেকেই লিওনেল মেসির খেলা মুগ্ধ হয়ে দেখতেন। একদিন তিনিও এমন তারকা ফুটবলার হবেন স্বপ্ন বুনতেন। 

কিন্তু সেই স্বপ্নে বাধ সাধত অর্থ। ফুটবল কেনার অর্থটাও জোগাড় করতে কষ্ট হতো তার। অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার মতো পছন্দের ক্লাবে ভর্তি হওয়ার ক্ষমতা ছিল না। 

তবে একদিন চলে আসে সুবর্ণ সুযোগ। গরিব শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা লিগ আয়োজিত হয় সেখানে। আর সে লিগেই দুর্দান্ত পারফরম করে সবার নজরে আসেন ডেভিস। বিনে পয়সাতেই সুযোগ পান কানাডার ক্লাব ভ্যানকুভার হোয়াইটক্যাপসে।

সেই ডেভিস এখন জার্মানির সবচেয়ে সেরা দল বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলছেন। 

অন্যতম অস্ত্র তিনি। এই মৌসুমে যেভাবে খেলছেন, অনেকেই অনায়াসে তাকে বিশ্বের সেরা এক বা দুটি লেফটব্যাকের তালিকায় রাখছেন। 

বায়ার্ন মিউনিখ দলটিও ভরসা রেখেছে ডেভিসের ওপর।

তথ্যসূত্র: স্পোর্টস বাইবেল, ইউরো স্পোর্টস
 

মেসিকে আটকানোর দায়িত্ব তারই ভক্ত তরুণের

 স্পোর্টস ডেস্ক 
১৪ আগস্ট ২০২০, ০৩:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

লিসবনে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হচ্ছে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা শেষ দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের। আর পরিষ্কার আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামছে বার্সেলোনা!

সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় বিধ্বংসী বায়ার্নের বিপক্ষে নড়বড়ে বার্সা। এর পরও মেসিতে তটস্থ জার্মানির সেরা ক্লাবটি।

মেসিকে আটকে রাখতে দলটি ব্যবহার করবেন তাদের সেরা অস্ত্র ডেভিসকে। আর তা হওয়ারই কথা। বিশ্বের সেরা লেফটব্যাকের তালিকায় ডেভিসের নামই উচ্চারিত হচ্ছে।

অথচ সেই ডেভিসই স্বপ্নের নায়ক হিসেবে মানেন বার্সা অধিনায়ক আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে। মেসিকে আইডল মেনেই ফুটবলে পা ছোঁয়ান এই বায়ার্ন তারকা।

সে কথা ইতিমধ্যে অকপটে স্বীকার করেছেন ডেভিস। মেসির ছন্দকে রুখে দেয়ার দায়িত্ব তার ঘাড়ে, যা ভাবতেই বিস্ময়বোধ করেন ডেভিস।

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় মেসির একটা খেলাও বাদ দিতাম না। সব খেলা দেখতাম। আর এখন আমিই তাকে আটকানোর জন্য রক্ষণ করব। পুরোপুরি ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা হতে চলেছে আমার।’

তবে আইডলকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না বলেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ডেভিস।

তিনি বলেন, মেসিতে মুগ্ধ আমি। তাকে দেখেই ফুটবলকে ভালোবাসা। কিন্তু আমার কাছে এটা শুধুই আরেকটা ম্যাচ। যে ম্যাচে আমি আমার মতোই খেলে যাব। আমার পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখব না। আমি চাইব মেসির বিপক্ষে সেরাটা উজাড় করে দিতে। ও অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। ওকে আটকাতে পারাটাই আমার সর্বোচ্চ সাফল্য।

ক্লাবটির প্রধান কার্ল হেঞ্জ রুমেনি বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি ১৯ বছর বয়সী ডেভিসের পক্ষে মেসিকে ‘দেখে রাখতে’ তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

ডেভিসের উত্থানটা সিনেমার কাহিনির মতো। তার বাবা-মা আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ লাইবেরিয়ার। গৃহযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে উদ্বাস্তু শিবির থেকে তারা পাড়ি জমান ঘানায়। সেখান থেকে উন্নত জীবনের লক্ষ্যে চলে আসেন কানাডার এডমন্টোনে। কানাডাতেই বেড়ে উঠেন ডেভিস। ছোটবেলা থেকেই লিওনেল মেসির খেলা মুগ্ধ হয়ে দেখতেন। একদিন তিনিও এমন তারকা ফুটবলার হবেন স্বপ্ন বুনতেন।

কিন্তু সেই স্বপ্নে বাধ সাধত অর্থ। ফুটবল কেনার অর্থটাও জোগাড় করতে কষ্ট হতো তার। অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার মতো পছন্দের ক্লাবে ভর্তি হওয়ার ক্ষমতা ছিল না।

তবে একদিন চলে আসে সুবর্ণ সুযোগ। গরিব শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা লিগ আয়োজিত হয় সেখানে। আর সে লিগেই দুর্দান্ত পারফরম করে সবার নজরে আসেন ডেভিস। বিনে পয়সাতেই সুযোগ পান কানাডার ক্লাব ভ্যানকুভার হোয়াইটক্যাপসে।

সেই ডেভিস এখন জার্মানির সবচেয়ে সেরা দল বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলছেন।

অন্যতম অস্ত্র তিনি। এই মৌসুমে যেভাবে খেলছেন, অনেকেই অনায়াসে তাকে বিশ্বের সেরা এক বা দুটি লেফটব্যাকের তালিকায় রাখছেন।

বায়ার্ন মিউনিখ দলটিও ভরসা রেখেছে ডেভিসের ওপর।

তথ্যসূত্র: স্পোর্টস বাইবেল, ইউরো স্পোর্টস