Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

বার্ধক্য ঠেকাতে এআইয়ের সহায়তায় তৈরি ওষুধে আশার আলো

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

বার্ধক্য ঠেকাতে এআইয়ের সহায়তায় তৈরি ওষুধে আশার আলো

ফাইল ছবি

Advertisement

মানুষের বার্ধক্য ঠেকানো বা অন্তত এর গতি কমানোর চেষ্টা দীর্ঘদিনের। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি একটি ওষুধে জৈবিক বার্ধক্য কমার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। গবেষকদের দাবি, কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসায় কিছু রোগীর জৈবিক বয়স নির্দিষ্ট কিছু ‘এজিং ক্লক’-এ সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত কমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

‘নেচার বায়োটেকনোলজিতে' প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় আলোচিত ওষুধটির নাম ‘রেন্টোসার্টিব’। দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগের চিকিৎসার জন্য ওষুধটি তৈরি করেছে ইনসিলিকো মেডিসিন। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি- একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করে রেন্টোসার্টিবের সঙ্গে বার্ধক্যের বিভিন্ন জৈবিক সূচকের পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

চীনে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পরিচালিত ফেজ-২এ ট্রায়ালে ৪২ জন অংশগ্রহণকারীর বার্ধক্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ছয়টি পৃথক ‘এজিং ক্লক’ ব্যবহার করা হয়েছে। ইনসিলিকোর তথ্য অনুযায়ী, রেন্টোসার্টিব গ্রহণকারী ব্যক্তিদের চিকিৎসার পর অনুমান করা জৈবিক বয়স কমেছে। বিপরীতে প্লাসিবো বা কোনো চিকিৎসা না পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ছিল খুব সামান্য; কারও কারও জৈবিক বয়স একই ছিল বা বেড়েছে।

জৈবিক বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত এসব ‘এজিং ক্লক’ মানুষের প্রকৃত বয়স নয়, বরং শরীরের কোষ, টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কতটা ভালোভাবে কাজ করছে, তার বিভিন্ন রাসায়নিক ও প্রোটিনগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে। গবেষণায় ইনসিলিকো, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছয়টি এজিং ক্লক ব্যবহার করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ১২ সপ্তাহ চিকিৎসার পর ছয়টি ক্লকেই অংশগ্রহণকারীদের অনুমান করা জৈবিক বয়স কমেছে। তবে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাব দেখা যায় আরও আগে। ইনসিলিকোর দাবি, প্রথম ডোজ দেওয়ার চার সপ্তাহ পর একটি এজিং ক্লকে রেন্টোসার্টিব গ্রহণকারীদের গড় জৈবিক বয়স সর্বোচ্চ ছয় বছর কমে যায়।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ছাড়া এ ওষুধ মানুষের আয়ু বাড়ায় বা সুস্থ মানুষের বার্ধক্য কমায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। এখনো সুস্থ মানুষের ওপর রেন্টোসার্টিবের বার্ধক্যবিরোধী প্রভাব পরীক্ষা করা হয়নি।

এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই রেন্টোসার্টিব তৈরি করা হয়েছে। ইনসিলিকো মেডিসিন এক দশকের বেশি সময় ধরে এআই ব্যবহার করে রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রোটিন শনাক্ত এবং নতুন ওষুধের অণু তৈরির কাজ করছে।

রেন্টোসার্টিবের ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি রোগীদের চিকিৎসার জন্যও ওষুধটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম