Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

এআইয়ের তৈরি ওষুধে ৪ সপ্তাহেই বয়স কমবে বয়স, যা বলছে গবেষণা

Advertisement

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

এআইয়ের তৈরি ওষুধে ৪ সপ্তাহেই বয়স কমবে বয়স, যা বলছে গবেষণা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি একটি ওষুধ নিয়ে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা।

Advertisement

বয়স বৃদ্ধির গতি ধীর করার উপায় খুঁজতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা বহুদিনের। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি ওষুধ নিয়ে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের দাবি, ওষুধটি ব্যবহারের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শরীরের জৈবিক বয়স কমার ইঙ্গিত মিলেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নেচার বায়োটেকনোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ‘রেন্টোসার্টিব’ নামের ওষুধটির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ওষুধটি তৈরি করেছে ইনসিলিকো মেডিসিন। তবে পরীক্ষার সময় বয়স-সংশ্লিষ্ট কিছু জৈবিক পরিবর্তনের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

২০২৩ ও ২০২৪ সালে চীনে পরিচালিত দ্বিতীয় ধাপের প্রাথমিক পরীক্ষায় ৪২ জন অংশগ্রহণ করেন। গবেষকেরা ছয় ধরনের ‘এজিং ক্লক’ ব্যবহার করে তাদের জৈবিক বয়সের পরিবর্তন মূল্যায়ন করেন। এসব এজিং ক্লক মানুষের প্রকৃত বয়স নয়; বরং শরীরের কোষ, টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, তার ভিত্তিতে জৈবিক বয়সের ধারণা দেয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, রেন্টোসার্টিব গ্রহণকারীদের জৈবিক বয়সের পূর্বাভাস কমেছে। বিপরীতে প্লাসিবো গ্রহণকারী বা কোনো চিকিৎসা না পাওয়া অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। চার সপ্তাহ পর একটি এজিং ক্লকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেন্টোসার্টিব গ্রহণকারীদের গড় জৈবিক বয়স প্রায় ছয় বছর পর্যন্ত কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।    

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফলকে বার্ধক্য প্রতিরোধের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, সুস্থ মানুষের মধ্যে বার্ধক্য কমানোর উদ্দেশ্যে রেন্টোসার্টিব এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের আয়ু বাড়াতে সক্ষম কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে বড় পরিসরে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

রেন্টোসার্টিব তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় এআই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রথমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে রোগ-সংশ্লিষ্ট প্রোটিন শনাক্ত করা হয়। পরে সেই প্রোটিনের গঠন ও অন্যান্য অণুর সঙ্গে এর পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে নতুন ওষুধের অণু ডিজাইন করা হয়।

গবেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু বার্ধক্যবিষয়ক গবেষণাতেই নয়, ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রেও এআইয়ের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে রেন্টোসার্টিব এখনো অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। চিকিৎসায় ব্যবহার উপযোগী হতে এর আরও কয়েক বছর গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

ফলে আপাতত রেন্টোসার্টিবকে বার্ধক্যের গতি ধীর করার সম্ভাবনাময় একটি গবেষণার ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে নয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম