ঘুমের আগে ফোন স্ক্রলিং করে যে বিপদ ডেকে আনছেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডিজিটাল প্রযুক্তির এই সময়ে স্মার্টফোন যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। দিনের ব্যস্ততার পর ঘুমাতে যাওয়ার আগেও অনেকেই ফোনে সামাজিক মাধ্যম, খবর কিংবা বিভিন্ন ভিডিও দেখতে থাকেন। তবে প্রতিদিন রাতে দীর্ঘ সময় ধরে ফোন স্ক্রল করার এই অভ্যাস মস্তিষ্ক ও ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
উদ্বেগ তৈরি করে এমন খবর বা কনটেন্ট একের পর এক দেখার অভ্যাসকে বলা হয় ‘ডুমস্ক্রলিং’। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রাতে এভাবে ফোন ব্যবহারের ফলে মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে, ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে এবং পর দিন কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।
ভারতের নিউরোলজিস্ট ও এপিলেপ্টোলজিস্ট ডা. শ্রীলক্ষ্মী এন হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ডুমস্ক্রলিং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
কীভাবে ক্ষতি করে ডুমস্ক্রলিং?
সারাদিন মস্তিষ্ক নানা ধরনের তথ্য গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে। ঘুমানোর সময় এগুলো থেকে বিরতি নিয়ে মস্তিষ্কের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঘুমের ঠিক আগ পর্যন্ত ফোনে স্ক্রল করতে থাকলে সেই বিশ্রামের সুযোগ কমে যায়।
বিশেষ করে দ্রুত পরিবর্তনশীল, উত্তেজনাপূর্ণ বা নেতিবাচক কনটেন্ট মস্তিষ্ককে দীর্ঘ সময় সতর্ক অবস্থায় রাখতে পারে। পাশাপাশি রাতে ফোনের স্ক্রিন থেকে আসা আলো, বিশেষ করে নীল আলোর সংস্পর্শ, ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ঘুম আসতে দেরি হওয়ার পাশাপাশি ঘুমের মানও কমে যেতে পারে।
পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে তার প্রভাব পড়ে স্মৃতি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মন-মেজাজ ও চিন্তাশক্তিতে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা, কোনো বিষয় মনে রাখতে সমস্যা, বিরক্তি কিংবা কাজে মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই ধরনের মানসিক ঝাপসা বা অস্পষ্ট অনুভূতিকেই সাধারণভাবে ‘ব্রেন ফগ’ বলা হয়।
রাতে নেতিবাচক খবর কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট দেখতে থাকলে মস্তিষ্ক আরও সক্রিয় হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে স্ক্রিনের আলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেললে পরদিন ক্লান্তি ও বিরক্তি বাড়তে পারে। আবার এই অস্বস্তি থেকেই রাতে আরও বেশি সময় ফোন ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে ফোনে কিছুক্ষণ স্ক্রল করা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সমস্যা তখনই, যখন এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়ে ঘুম, মনোযোগ বা মানসিক সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
ডুমস্ক্রলিং কমাবেন যেভাবে
ডুমস্ক্রলিং কমানোর জন্য পুরোপুরি ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার প্রয়োজন নেই। বরং ফোন ব্যবহারে কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
খবর দেখার নির্দিষ্ট সময় রাখুন: বারবার খবরের আপডেট দেখার পরিবর্তে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে খবর পড়ার অভ্যাস করুন। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফোন হাতে নেওয়ার প্রবণতা কমবে।
ঘুমের আগে ফোন থেকে দূরে থাকুন: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন, ট্যাব বা অন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করুন। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পাবে।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন: বিভিন্ন অ্যাপের ঘন ঘন নোটিফিকেশন অনেক সময় অজান্তেই ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করে। তাই প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।
ঘুম ও বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দিন: মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, বিশ্রাম এবং পরিবার-পরিজন বা অন্য মানুষের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোও গুরুত্বপূর্ণ।
ফোন ব্যবহারের কারণে যদি নিয়মিত ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, মাথাব্যথা, স্মৃতি বা মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয় এবং তা দৈনন্দিন জীবন ও কাজকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

