ঘাস নিয়ে হাঁসফাঁস
jugantor
ঘাস নিয়ে হাঁসফাঁস
মাত্র তিনের ধাক্কা, শতেকে নয় হাজারে নয় কোটির হিসাব পাক্কা।

  কমল আরেফিন  

২২ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ সবুজের দেশ। চারদিকে সবুজের সমারোহ। ফসলের মাঠে, নদীর পাড়ে, বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার ধারে বা খেলার মাঠে যেদিকেই চোখ যায়, দেখা মেলে সবুজ ঘাসের। তাই তো সবুজের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এ ঘাস এ দেশের গরু খায়, ছাগলে খায়, মহিষে খায়। এমনকি পুকুরের মাছও খায়। কত রকমের ঘাস এ দেশের মাটিতে! তালিকা দিতে গেলে বেশ লম্বা হয়ে যাবে।

সেই ঘাসের চাষ শিখতে এবার বিদেশ যেতে হচ্ছে ৩২ সরকারি কর্মকর্তাকে! প্রত্যেকের পেছনে খরচ হবে ১০ লাখ টাকা। মোট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা! ‘প্রাণীপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাসের চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তির হস্তান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পে এ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যে দেশে ডানে তাকালে ঘাস; বামে তাকালে ঘাস; সামনে তাকালে অবারিত সবুজপ্রান্তর- সে দেশের মানুষ ঘাসের চাষাবাদ শিখতে যাবেন বিদেশে! শুনে হাসি পায়। হায়রে! দুনিয়াতে কত কিছুই শেখার আছে! আমরা তার কতটুকুই বা জানি!

ঘাস চাষ শিখতে যে বিদেশ যেতে হবে এসব আমাদের জানা ছিল না। তারা জ্ঞানী-গুণী মানুষ। তাই আরও শিখতে চান। সে ঘাস কাটাই হোক আর বাঁশ কাটাই হোক- শেখার কোনো শেষ নেই। সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে কেউ যদি চা তৈরি বা ডিম সেদ্ধ শিখতে বিদেশ যেতে চান, তাতেও আপত্তির কোনো কারণ থাকবে না। আগেই বলেছি, শেখার কোনো বয়স নেই। শেখার কোনো শেষ নেই। আসুন আমরা যত পারি শিখি।

ঘোড়ার ঘাস কাটার কথা আমরা অনেকে শুনেছি। তাই বলে কারও শেখার ইচ্ছাকে ঘোড়ার ঘাস কাটার সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে তার দায় আমাদের নয়। তবে আমাদের অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর শেখার যে প্রবল প্রবণতা, তার প্রশংসা না করে উপায় নেই! তারা খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ যেতে চান; পুকুর খনন শিখতে বিদেশ যেতে চান; কাজু বাদামের চাষ শিখতে বিদেশ যেতে চান- এমনকি সুউচ্চ ভবন দেখতেও বিদেশ যেতে চান! আহা, শেখার কী প্রবল আকাক্সক্ষা! অথচ নিন্দুকের দল প্রায়ই তাদের কাজে বাগড়া দিয়ে বসে। সমালোচনা করে তাদের উৎসাহটা দমিয়ে দেয়। রাষ্ট্রযন্ত্র নড়েচড়ে বসে। শেষে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খায়।

আমরা একদিকে বলছি ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা। প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে আমাদের ঘরে ঘরে। গুগল ও ইউটিউব দেখে ঘরে বসেই আমরা এখন আমের আঁচার থেকে শুরু করে ভিনদেশি অনেক সুস্বাদু খাবারের রেসিপিও শিখে নিতে পারি যখন-তখন। সেখানে ঘাস চাষের জন্য কেউ যদি বিদেশ বিভুঁইয়ে যেতে চান, তবে কেউ যদি এর সঙ্গে ঘোড়ার ঘাস কাটার তুলনা করেন তবে আমরা আর কী করতে পারি!

‘সরকারকা মাল দরিয়ামে ডাল’ বলে পাকিস্তানি আমলের একটি প্রবাদ ছিল বহুলপ্রচলিত। কারও কারও মতে, ঘাস চাষ শিখতে বিদেশ ভ্রমণ যেন সরকারি অর্থ দরিয়ায় ঢালার-ই নামান্তর।

ডিজিটাল বাংলাদেশে গুগলের পাতা খুলে বিশেষজ্ঞদের ১০ দিনের হোমওয়ার্কের ব্যবস্থাপত্র দিন। ১৫ দিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করুন কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে।

তারপর হিসাব করে দেখুন, কত কোটি টাকা বাঁচে বাংলাদেশ সরকারের।

ঘাস নিয়ে হাঁসফাঁস

মাত্র তিনের ধাক্কা, শতেকে নয় হাজারে নয় কোটির হিসাব পাক্কা।
 কমল আরেফিন 
২২ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ সবুজের দেশ। চারদিকে সবুজের সমারোহ। ফসলের মাঠে, নদীর পাড়ে, বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার ধারে বা খেলার মাঠে যেদিকেই চোখ যায়, দেখা মেলে সবুজ ঘাসের। তাই তো সবুজের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এ ঘাস এ দেশের গরু খায়, ছাগলে খায়, মহিষে খায়। এমনকি পুকুরের মাছও খায়। কত রকমের ঘাস এ দেশের মাটিতে! তালিকা দিতে গেলে বেশ লম্বা হয়ে যাবে।

সেই ঘাসের চাষ শিখতে এবার বিদেশ যেতে হচ্ছে ৩২ সরকারি কর্মকর্তাকে! প্রত্যেকের পেছনে খরচ হবে ১০ লাখ টাকা। মোট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা! ‘প্রাণীপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাসের চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তির হস্তান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পে এ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যে দেশে ডানে তাকালে ঘাস; বামে তাকালে ঘাস; সামনে তাকালে অবারিত সবুজপ্রান্তর- সে দেশের মানুষ ঘাসের চাষাবাদ শিখতে যাবেন বিদেশে! শুনে হাসি পায়। হায়রে! দুনিয়াতে কত কিছুই শেখার আছে! আমরা তার কতটুকুই বা জানি!

ঘাস চাষ শিখতে যে বিদেশ যেতে হবে এসব আমাদের জানা ছিল না। তারা জ্ঞানী-গুণী মানুষ। তাই আরও শিখতে চান। সে ঘাস কাটাই হোক আর বাঁশ কাটাই হোক- শেখার কোনো শেষ নেই। সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে কেউ যদি চা তৈরি বা ডিম সেদ্ধ শিখতে বিদেশ যেতে চান, তাতেও আপত্তির কোনো কারণ থাকবে না। আগেই বলেছি, শেখার কোনো বয়স নেই। শেখার কোনো শেষ নেই। আসুন আমরা যত পারি শিখি।

ঘোড়ার ঘাস কাটার কথা আমরা অনেকে শুনেছি। তাই বলে কারও শেখার ইচ্ছাকে ঘোড়ার ঘাস কাটার সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে তার দায় আমাদের নয়। তবে আমাদের অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর শেখার যে প্রবল প্রবণতা, তার প্রশংসা না করে উপায় নেই! তারা খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ যেতে চান; পুকুর খনন শিখতে বিদেশ যেতে চান; কাজু বাদামের চাষ শিখতে বিদেশ যেতে চান- এমনকি সুউচ্চ ভবন দেখতেও বিদেশ যেতে চান! আহা, শেখার কী প্রবল আকাক্সক্ষা! অথচ নিন্দুকের দল প্রায়ই তাদের কাজে বাগড়া দিয়ে বসে। সমালোচনা করে তাদের উৎসাহটা দমিয়ে দেয়। রাষ্ট্রযন্ত্র নড়েচড়ে বসে। শেষে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খায়।

আমরা একদিকে বলছি ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা। প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে আমাদের ঘরে ঘরে। গুগল ও ইউটিউব দেখে ঘরে বসেই আমরা এখন আমের আঁচার থেকে শুরু করে ভিনদেশি অনেক সুস্বাদু খাবারের রেসিপিও শিখে নিতে পারি যখন-তখন। সেখানে ঘাস চাষের জন্য কেউ যদি বিদেশ বিভুঁইয়ে যেতে চান, তবে কেউ যদি এর সঙ্গে ঘোড়ার ঘাস কাটার তুলনা করেন তবে আমরা আর কী করতে পারি!

‘সরকারকা মাল দরিয়ামে ডাল’ বলে পাকিস্তানি আমলের একটি প্রবাদ ছিল বহুলপ্রচলিত। কারও কারও মতে, ঘাস চাষ শিখতে বিদেশ ভ্রমণ যেন সরকারি অর্থ দরিয়ায় ঢালার-ই নামান্তর।

ডিজিটাল বাংলাদেশে গুগলের পাতা খুলে বিশেষজ্ঞদের ১০ দিনের হোমওয়ার্কের ব্যবস্থাপত্র দিন। ১৫ দিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করুন কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে।

তারপর হিসাব করে দেখুন, কত কোটি টাকা বাঁচে বাংলাদেশ সরকারের।