বেরসিক স্বামী
jugantor
বেরসিক স্বামী

  জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য  

২২ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিয়ের আগে বুঝিনি! অনিকের ভেতরে আসলে রোমান্টিক ভাবটা একেবারেই নেই। নতুন বিয়ে হওয়া প্রতিটা মেয়েই চায়, বর তাদের সঙ্গে একটু রং ঢং করুক। অনিক এসবের ধারে কাছে নাই।

বিয়ের দু’দিন পর গম্ভীরমুখে অফিসে যাওয়ার জন্য ব্যাগ গোছাচ্ছে। এ সময় ওর মা এসে অবাক হয়ে বললেন, ‘এখন কিসের অফিস?’

অনিক বিরক্ত স্বরে বলল, ‘ইমার্জেন্সি পড়ে গেছে!’

‘দুইটা দিন তুমি অফিস ছাড়া থাকতে পারছ না? নতুন বউ রেখে অফিসে যেতেই হবে?’

‘তো কী করব? নতুন বউ কোলে নিয়ে বসে থাকার সময় আমার নাই!’

বলেই গ্যাটগ্যাট করে বেরিয়ে গেল। আমি লজ্জায় শাশুড়ির চোখের দিকে তাকাতে পারলাম না।

কিছুদিন পার হতেই বুঝতে পারলাম, এ ছেলের কাছ থেকে কিছু আশা করা বৃথা। সে ভ্যালেন্টাইস ডে তে ফুল দেবে না, বার্থডের দিন রাত বারোটায় কেক আনবে না, অফিস থেকে ফেরার পথে বেলি ফুলের মালা নিয়ে এসে মাথায় গুঁজে না দিয়ে ফোন করে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করবে, ‘বাড়িতে কাঁচাবাজার কিছু লাগবে?’

আমার এ বিশ্বাস আরও দৃঢ় হল যেদিন আমি একটু রেগে গিয়ে ওকে বললাম, ‘আজ টেডি ডে, আমার বান্ধবীদের বররা সবাই তাদের টেডি গিফট করেছে, তুমি করো নাই!’

সে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, ‘আমি কীভাবে করবো? তোমার বান্ধবীদের কি আমি চিনি?’

এরপর আমার আর কিছু বলার রইল না। আমি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে কাঁদতে আম্মুকে ফোন দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার দিকের আত্মীয় স্বজনে আমার শ্বশুরবাড়ি ভরে গেল।

আমি কাঁদতে কাঁদতে বিচার দিলাম, ‘অনিক আমাকে ভালোবাসে না। ওকে বাসা থেকে জোর করে বিয়ে না দিলে বিয়েও করত না আমাকে!’

অনিকের অবাক দৃষ্টি উপেক্ষা করে আমার ফুপু এক রাম ধমক দিয়ে বললেন, ‘কেন গো জামাই? আমাদের এত সুন্দর মেয়ে তোমার ভালো লাগে না? পছন্দ না হলে বিয়ে করলে কেন? আমাদের মেয়ের কি ছেলের অভাব হইতো? হইতো না! আমার ননদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার তার সঙ্গে দিতাম।’

অন্যদিক থেকে ফুপা মিনমিন করে বললেন, ‘নিশ্চয়ই অন্য কোনো কাহিনী আছে। আদার লেডি এট্রাকশন! পরকীয়া-টরকিয়া করছে!’

ফুপু হাতে কিল দিয়ে বলল, ‘রাইট! এটাই হবে!’

অনিকের মা দুঃখী দুঃখী গলায় বললেন, ‘এসব কী বলেন বেয়ান! আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই এরকম। একটু কম রোমান্টিক; কিন্তু ছেলের চরিত্র খারাপ না! এত বড় অপবাদ দেবেন না আপনারা।’

আমার আত্মীয় স্বজন কোনো কথাই শুনল না। আমাকে নিয়ে বাড়ি চলে এলো।

এদিকে অনিক রোমান্টিক না হতে পারে; কিন্তু আমি তো ওকে ভালোবাসি! দিনের পর দিন ওকে ছাড়া থাকতে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে সে শুধু একদিন ফোন দিয়েছে।

আমি বাথরুমে ছিলাম। ফোনের আওয়াজ শুনে দৌড়াতে দৌড়াতে এসে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ও গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমার সাদা পাঞ্জাবিটা কোথায় রেখেছ?’

‘কেন, সাদা পাঞ্জাবি দিয়ে কী করবা?’

‘বন্ধুর আকদ! সেখানে যাবো।’

‘বাহ! তুমি তো ভালোই আছো! বন্ধুর বিয়ে খাচ্ছো! আমার কথা একবারও মনে পড়ে না?’

‘মনে না পড়ার কী আছে। মাঝেমধ্যে মনে পড়ে।’

‘মনে পড়লে ফোন দাও না কেন?’

‘আজব তো! মনে পড়লেই ফোন দিয়ে তোমাকে ইনফর্ম করতে হবে যে মনে পড়েছে?’

আমি ফোন রেখে দিলাম। আইফোন না হলে ফোনটা একটা আছাড় দিতাম।

আমাদের কেস কোর্টে উঠেছে। আমি তুলি নাই। আমার ফুপুই দায়িত্ব নিয়ে তুলেছেন। ফুপু আমার ডিভোর্স করিয়ে তার ননদের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেবেন। অনেক কষ্টে ননদকে রাজি করিয়েছেন।

বিচারক গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি ওনার সঙ্গে থাকতে চান না?’

আমি ইতস্তত করে বললাম, ‘চাই! তবে একটু রোমান্টিক হলে!’

বিচারক অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তারপর অনিককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কিছু বলার আছে?’

‘আমি আর কী বলব বলেন! রোমান্টিক কিভাবে হয় আমার জানা নাই। আমার তো কোনো আপত্তি নাই। এখন সে থাকলে থাকবে, আর ডিভোর্স চাইলে ডিভোর্স দেবো!’

আমি চিৎকার করে উঠলাম, ‘এইটাই তোমার সমস্যা! না থাকলে জোর করবা না কেন? আমি তোমার বউ না! হাত ধরে নিয়ে যেতে পারো না?’

‘তুমি কি বাচ্চা নাকি যে হাত ধরে কোলে করে নিয়ে যাব! এডাল্ট মেয়ে থাকতে না চাইলে আটকাবো কেন?’

আমি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে কাঁদতে বিচারকের কাছে বিচার দিলাম, ‘স্যার! আমি চলে গেলে ও আরেকটা বিয়ে করবে!’

এদিকে বিচারক ঠাস ঠাস করে টেবিলে হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিচ্ছেন আর বলছেন, ‘সাইলেন্স! সাইলেন্স!’

তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনার মামলা জোরদার না। একবার বলেন থাকব, একবার বলেন রোমান্টিক না হলে চলে যাবো। আপনারা আরও সময় নিন। যান, বাড়ি যান।’

আমরা বাড়ি চলে এলাম। বাড়ি এসে ফুপুর কাছে অনেক ঝাড়ি খেলাম। আমার দোষে আমরা কেস হারবো, আমার জীবন নষ্ট হবে ইত্যাদি।

এর মধ্যে অনিকের মা ফোন দিয়ে বললেন, ‘মা, তুমি কান্নাকাটি করবে না, আমি আমার ছেলেকে বুঝিয়ে বলছি।’

সারাদিন আমি খাই নাই। দরজা বন্ধ করে কেঁদেছি। সন্ধ্যার পর মা এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলল, ‘অনিক এসেছে। তোকে ডাকে।’

আমার আবার রাগ উঠে গেল। কেমন একটা বর! দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়বে তা না! ড্রয়িংরুমে গিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। অনিক চার-পাঁচটা বড় বড় টেডি এনেছে। পান্ডা, বিড়াল, কুকুর দিয়ে ছড়াছড়ি। সেই সঙ্গে গোলাপ এনেছে শ’খানেক। চকলেট এনেছে, বই এনেছে, মেকআপ আইটেম এনেছে। আমি ঘরে ঢুকতেই আমার হাত ধরে বলল, ‘চলো। টিকিট কাটা আছে, ব্যাগ গোছাও।’

আমি অবাক, ‘কোথাকার টিকিট?’

‘হানিমুন। অফিস থেকে তিনদিনের ছুটি নিয়েছি, এর মধ্যে ঘোরাঘুরি সারবা। আর এই নাও তোমার টেডি-ফেডি যা চাইছিলা। ফেরত চলো, রোমান্টিক তো হইছি-আর কত!’

বেরসিক স্বামী

 জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য 
২২ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিয়ের আগে বুঝিনি! অনিকের ভেতরে আসলে রোমান্টিক ভাবটা একেবারেই নেই। নতুন বিয়ে হওয়া প্রতিটা মেয়েই চায়, বর তাদের সঙ্গে একটু রং ঢং করুক। অনিক এসবের ধারে কাছে নাই।

বিয়ের দু’দিন পর গম্ভীরমুখে অফিসে যাওয়ার জন্য ব্যাগ গোছাচ্ছে। এ সময় ওর মা এসে অবাক হয়ে বললেন, ‘এখন কিসের অফিস?’

অনিক বিরক্ত স্বরে বলল, ‘ইমার্জেন্সি পড়ে গেছে!’

‘দুইটা দিন তুমি অফিস ছাড়া থাকতে পারছ না? নতুন বউ রেখে অফিসে যেতেই হবে?’

‘তো কী করব? নতুন বউ কোলে নিয়ে বসে থাকার সময় আমার নাই!’

বলেই গ্যাটগ্যাট করে বেরিয়ে গেল। আমি লজ্জায় শাশুড়ির চোখের দিকে তাকাতে পারলাম না।

কিছুদিন পার হতেই বুঝতে পারলাম, এ ছেলের কাছ থেকে কিছু আশা করা বৃথা। সে ভ্যালেন্টাইস ডে তে ফুল দেবে না, বার্থডের দিন রাত বারোটায় কেক আনবে না, অফিস থেকে ফেরার পথে বেলি ফুলের মালা নিয়ে এসে মাথায় গুঁজে না দিয়ে ফোন করে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করবে, ‘বাড়িতে কাঁচাবাজার কিছু লাগবে?’

আমার এ বিশ্বাস আরও দৃঢ় হল যেদিন আমি একটু রেগে গিয়ে ওকে বললাম, ‘আজ টেডি ডে, আমার বান্ধবীদের বররা সবাই তাদের টেডি গিফট করেছে, তুমি করো নাই!’

সে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, ‘আমি কীভাবে করবো? তোমার বান্ধবীদের কি আমি চিনি?’

এরপর আমার আর কিছু বলার রইল না। আমি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে কাঁদতে আম্মুকে ফোন দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার দিকের আত্মীয় স্বজনে আমার শ্বশুরবাড়ি ভরে গেল।

আমি কাঁদতে কাঁদতে বিচার দিলাম, ‘অনিক আমাকে ভালোবাসে না। ওকে বাসা থেকে জোর করে বিয়ে না দিলে বিয়েও করত না আমাকে!’

অনিকের অবাক দৃষ্টি উপেক্ষা করে আমার ফুপু এক রাম ধমক দিয়ে বললেন, ‘কেন গো জামাই? আমাদের এত সুন্দর মেয়ে তোমার ভালো লাগে না? পছন্দ না হলে বিয়ে করলে কেন? আমাদের মেয়ের কি ছেলের অভাব হইতো? হইতো না! আমার ননদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার তার সঙ্গে দিতাম।’

অন্যদিক থেকে ফুপা মিনমিন করে বললেন, ‘নিশ্চয়ই অন্য কোনো কাহিনী আছে। আদার লেডি এট্রাকশন! পরকীয়া-টরকিয়া করছে!’

ফুপু হাতে কিল দিয়ে বলল, ‘রাইট! এটাই হবে!’

অনিকের মা দুঃখী দুঃখী গলায় বললেন, ‘এসব কী বলেন বেয়ান! আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই এরকম। একটু কম রোমান্টিক; কিন্তু ছেলের চরিত্র খারাপ না! এত বড় অপবাদ দেবেন না আপনারা।’

আমার আত্মীয় স্বজন কোনো কথাই শুনল না। আমাকে নিয়ে বাড়ি চলে এলো।

এদিকে অনিক রোমান্টিক না হতে পারে; কিন্তু আমি তো ওকে ভালোবাসি! দিনের পর দিন ওকে ছাড়া থাকতে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে সে শুধু একদিন ফোন দিয়েছে।

আমি বাথরুমে ছিলাম। ফোনের আওয়াজ শুনে দৌড়াতে দৌড়াতে এসে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ও গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমার সাদা পাঞ্জাবিটা কোথায় রেখেছ?’

‘কেন, সাদা পাঞ্জাবি দিয়ে কী করবা?’

‘বন্ধুর আকদ! সেখানে যাবো।’

‘বাহ! তুমি তো ভালোই আছো! বন্ধুর বিয়ে খাচ্ছো! আমার কথা একবারও মনে পড়ে না?’

‘মনে না পড়ার কী আছে। মাঝেমধ্যে মনে পড়ে।’

‘মনে পড়লে ফোন দাও না কেন?’

‘আজব তো! মনে পড়লেই ফোন দিয়ে তোমাকে ইনফর্ম করতে হবে যে মনে পড়েছে?’

আমি ফোন রেখে দিলাম। আইফোন না হলে ফোনটা একটা আছাড় দিতাম।

আমাদের কেস কোর্টে উঠেছে। আমি তুলি নাই। আমার ফুপুই দায়িত্ব নিয়ে তুলেছেন। ফুপু আমার ডিভোর্স করিয়ে তার ননদের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেবেন। অনেক কষ্টে ননদকে রাজি করিয়েছেন।

বিচারক গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি ওনার সঙ্গে থাকতে চান না?’

আমি ইতস্তত করে বললাম, ‘চাই! তবে একটু রোমান্টিক হলে!’

বিচারক অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তারপর অনিককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কিছু বলার আছে?’

‘আমি আর কী বলব বলেন! রোমান্টিক কিভাবে হয় আমার জানা নাই। আমার তো কোনো আপত্তি নাই। এখন সে থাকলে থাকবে, আর ডিভোর্স চাইলে ডিভোর্স দেবো!’

আমি চিৎকার করে উঠলাম, ‘এইটাই তোমার সমস্যা! না থাকলে জোর করবা না কেন? আমি তোমার বউ না! হাত ধরে নিয়ে যেতে পারো না?’

‘তুমি কি বাচ্চা নাকি যে হাত ধরে কোলে করে নিয়ে যাব! এডাল্ট মেয়ে থাকতে না চাইলে আটকাবো কেন?’

আমি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে কাঁদতে বিচারকের কাছে বিচার দিলাম, ‘স্যার! আমি চলে গেলে ও আরেকটা বিয়ে করবে!’

এদিকে বিচারক ঠাস ঠাস করে টেবিলে হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিচ্ছেন আর বলছেন, ‘সাইলেন্স! সাইলেন্স!’

তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনার মামলা জোরদার না। একবার বলেন থাকব, একবার বলেন রোমান্টিক না হলে চলে যাবো। আপনারা আরও সময় নিন। যান, বাড়ি যান।’

আমরা বাড়ি চলে এলাম। বাড়ি এসে ফুপুর কাছে অনেক ঝাড়ি খেলাম। আমার দোষে আমরা কেস হারবো, আমার জীবন নষ্ট হবে ইত্যাদি।

এর মধ্যে অনিকের মা ফোন দিয়ে বললেন, ‘মা, তুমি কান্নাকাটি করবে না, আমি আমার ছেলেকে বুঝিয়ে বলছি।’

সারাদিন আমি খাই নাই। দরজা বন্ধ করে কেঁদেছি। সন্ধ্যার পর মা এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলল, ‘অনিক এসেছে। তোকে ডাকে।’

আমার আবার রাগ উঠে গেল। কেমন একটা বর! দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়বে তা না! ড্রয়িংরুমে গিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। অনিক চার-পাঁচটা বড় বড় টেডি এনেছে। পান্ডা, বিড়াল, কুকুর দিয়ে ছড়াছড়ি। সেই সঙ্গে গোলাপ এনেছে শ’খানেক। চকলেট এনেছে, বই এনেছে, মেকআপ আইটেম এনেছে। আমি ঘরে ঢুকতেই আমার হাত ধরে বলল, ‘চলো। টিকিট কাটা আছে, ব্যাগ গোছাও।’

আমি অবাক, ‘কোথাকার টিকিট?’

‘হানিমুন। অফিস থেকে তিনদিনের ছুটি নিয়েছি, এর মধ্যে ঘোরাঘুরি সারবা। আর এই নাও তোমার টেডি-ফেডি যা চাইছিলা। ফেরত চলো, রোমান্টিক তো হইছি-আর কত!’