রম্য রচনা
কলা থেকে কলাভবনে
Advertisement
শায়ের খান
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আমার ‘শব্দ নিয়ে জব্দ’ লেখাটি পড়ে সুমি বাসায় চলে এসেছে। সুমি আমার চাচাতো বোন। সুন্দরী ও শব্দ মেশিন। মানে ভোরে গলা সাধার শব্দে তার দিন শুরু হয়। কারো সাধাসাধির ধার না ধেরেই গলা সাধে। সেধে সেধেই সাধে। বিকট সে আওয়াজে তাদের সার্কিট হাউজ রোডের অ্যাপার্টমেন্টের লোকজন দু’বার পুলিশে আর একবার ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়েছিল। এ ধরনের আকাশ ফাটা চিৎকারে পুলিশে খবর দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যেবার ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়েছিল, সেবার লোকজন ভেবেছিল অ্যাপার্টমেন্টের মূল গ্যাস লাইন বিস্ফোরিত হয়েছে!
কিছুটা ফ্যাসফ্যাসে ছিল শব্দটা। সুমি অবশ্য পরে তার ব্যাখ্যা দেয়। গলা বসা ছিল সেদিন তার। সবাই অনুরোধ করে, এরপর থেকে যেন লাইভে এসে ও গলা সাধে। তাতে অন্তত পরিস্থিতি বুঝতে পারবে সবাই।
বসে বসে লিখছিলাম। ট্রেতে গোটা চারেক বিশালাকৃতির সাগর কলা আর দুই গ্লাস লাচ্ছি নিয়ে ঢোকে সুমি। সাগর কলার এ সুঘ্রাণ বহুদিন পাইনি। বলি, ‘পেলি কোথায় রে?’
সুমি : নরসিংদী থেকে দিয়ে গেছে। তোদের জন্যও এক কাঁদি নিয়ে এসেছি।
লাফ দিয়ে দেড় ফুটি এক কলা ছিলতে থাকি। সুমি খুশি হয়।
সুমি : এই কলা নিয়ে কিছু ভেবেছিস? মানে কলা শব্দ নিয়ে?
আমি : আসলে শব্দকলা নিয়ে ভেবেই পাগল হচ্ছি। কলার শব্দ নিয়ে এখনো ভাবিনি।
সুমি : কলার শব্দ নিয়ে ভাবতে বলিনি। কলা’র কোনো শব্দ থাকে? কলার তো শার্টে থাকে! আমি তোকে গাছের কলার কথা বলছি। যেটা খাচ্ছিস।
আমি : ভেবেছি। তুই কি স্পেশাল কিছু ভেবেছিস?
সুমি : হুম ভেবেছি। এই যে ধর পাকা কলাগুলো খাচ্ছি, এগুলো ফ্রুটস। কিন্তু কাঁচাকলা ভেজিটেবলস কেন?
আমি : তাতে তোর অসুবিধা কী?
সুমি : আছে। কাঁচাকলাকে তো কাঁচকলা বানিয়ে গালি দেওয়া হয়। টিজ করে বলে ‘কাঁচকলা’ বুঝো। কেন?
আমি : শুধু কাঁচকলাকেই বলে না, কচুকেও বলে। বলে ‘কচু বুঝো’। কলাকে কিন্তু সম্মানিতও করা হয়েছে।
সুমি : কেমন?
আমি : চারুকলা-কারুকলা দিয়ে। চারু-কারুতেও কলা আছে। অবশ্য সেটা আর্টের কলা।
সুমি : হার্টেরও।
আমি : হার্টের কলা?
সুমি : যাদের হৃদয় আছে, তারাই এই কলা জানে। মন উজাড় করে এই কলা ভালোবাসে ওরা।
লাচ্ছির স্ট্রতে টান দিয়ে একটা শূন্যতার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কম বয়সে পালিয়ে বিয়ে করা চিকনা চালাক স্বামী হিমেলের কথা মনে হয় ওর।
সুমি : আচ্ছা, কলাবতী মানে কী রে?
আমি : ওরে বাবা। ডেঞ্জারাস! কলাবতী মানে সেই সুন্দরী যে চৌষট্টি কলা জানে। ঘিরিংগি কলা।
সুমি : আমি তো জানি জেলা চৌষট্টি।
আমি : কলাবতীর কলাও চৌষট্টি।
সুমি : আমি তো জানতাম মেয়েদের থাকে আটকলা।
আমি : ওটা অঙ্কের ভুল। আট আটে চৌষট্টি হবে। বাঙালি মেয়েরা গুণ করতে পারেনি। চৌষট্টি কলা-ই করেছে। বলেছে আটকলা। কলার বাকি অঙ্কটাও বেশ ইন্টারেস্টিং।
সুমি : কেমন?
আমি : যেমন ষোলোকলা। কিছু পূর্ণ হলেই বলে ষোলোকলা পূর্ণ। আট দু’গুণে ষোলো। আসলে আটকলা সব কলার বেসিক নাম্বার। নারে, উঠি। যেতে হবে একটু। কলা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না।
সুমি : কোথায় যাচ্ছিস?
আমি : ইউনিভার্সিটি। হালকা কাজ আছে কলাভবনে। এই যাহ, ভবনেও কলা গিয়ে বসে আছে দেখছি।
সুমি : তো যাবে না? আচ্ছা, ভবনেও কলা কেন? এখানেও কি আট কলা?
আমি : না না, আর্ট কলা। এটা আর্টস বিল্ডিং। বাংলায় কলাভবন। আসলে চাইলেই আমরা কলা ছেড়ে যেতে পারছি না।
সুমি : যাবি কীভাবে? এক্স গার্লফ্রেন্ডের ছলাকলা দেখতেই তো যাচ্ছিস। তোর জন্য তো ছলাকলা ভবন!
আমি : কী বলছিস যা-তা? আমার একটা চারিত্রিক সার্টিফিকেট আনতে...।
সুমি : আরে রাখ তোর চরিত্র! জানি না? হাকিম চত্বর, ক্যাম্পাস শ্যাডোতে দুইজন বন্ধুত্বের ছলা কলার পর ঢুকবি কলাভবনে।
আমি : ওই তো লাইনে এলি শেষমেশ। কলাভবনেই সার্টিফিকেটের ষোলকলা পূর্ণ হবে আমার।
