ইমানি শক্তি বাড়ায় মৃত্যুচিন্তা
jugantor
ইমানি শক্তি বাড়ায় মৃত্যুচিন্তা

  নাঈমুল হাসান তানযীম  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যু। অবশ্যম্ভাবী চির অবধারিত এক সত্য। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর আর দাম্ভিক ব্যক্তিটিও এ সত্যকে উপেক্ষা করতে পারে না। আমাদের প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। এর থেকে রেহাই পাবে না কেউই।

আল্লাহতায়ালা কুরআনে কারিমে বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং কেয়ামতের দিন তোমরা পূর্ণ বদলাপ্রাপ্ত হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে ব্যক্তি হবে সফলকাম। বস্তুত পার্থিব জীবন প্রতারণার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়’ (আলে ইমরান ৩/১৮৫)।

মৃত্যুর ফেরেশতা থেকে কেউই বাঁচতে পারবে না। যখন যার চলে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ঘনিয়ে আসবে তাকে চলে যেতেই হবে। এর থেকে পালাতে পারবে না কেউই। যতই সুরক্ষিত আর মজবুত দুর্গে অবস্থান করুক না কেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যেখানেই তোমরা থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই। এমনকি যদিও তোমরা অবস্থান করো সুদৃঢ় দুর্গে’ (নিসা ৪/৭৮)।

সুতরাং সর্বাবস্থায় আমাদের মৃত্যুর কথা ভাবতে হবে। হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা সব মুহূর্তেই আমাদের স্মরণে রাখতে হবে মৃত্যুর কথা। কারণ কখন যে কার বিদায়ের ডাক চলে আসে কেউই সেটা জানি না। আমাদের কাছে সেটা অজানা থাকলেও তাকদিরে সে ক্ষণ ও মুহূর্ত ঠিকই নির্দিষ্ট করা আছে। অকাল মৃত্যু বলতে কিছু নেই। সবাই তাকদিরে লিখিত সুনির্দিষ্ট সময়েই মৃত্যুবরণ করবে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কারও মৃত্যু হতে পারে না। কেননা, তা সুনির্ধারিত। (সূরা আলে ইমরান : ১৪৫)।

মৃত্যু নিয়ে আমরা যত বেশি চিন্তা ফিকির করব ততই আমাদের ইমান বৃদ্ধি পাবে। মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী জীবন কেমন হবে। কবরে কি কি বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। সৎ হলে কি মিলবে অসৎ হলে কি ভয়ানক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কেমন হবে বিচার দিবসের অবস্থা।

কী পুঁজি নিয়ে দাঁড়াব আল্লাহতায়ালার দরবারে এসব যদি নিত্য ভাবি তাহলে অবশ্যই আমাদের ইমান তাজা হবে। অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে। মানুষের প্রতি অন্যায় আর জোর জুলুমের অনুশোচনা জাগ্রত হবে মনের ভেতর। বেশি বেশি কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করলেও মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়।

বর্ণিত আছে যে, হজরত উসমান গণি (রা.) কবরস্থানে গিয়ে কাঁদতেন। ফলে তার দাড়ি ভিজে যেত। তাকে বলা হলো, জান্নাত-জাহান্নামের কথা শুনে আপনি কাঁদেন না, অথচ কবরে এসে কাঁদেন? জবাবে তিনি বলেন, কবর হলো আখেরাতের প্রথম মনজিল। যদি কেউ এখানে মুক্তি পায়, তাহলে পরের মনজিলগুলো তার জন্য সহজ হয়ে যায়। আর এখানে মুক্তি না পেলে পরের মনজিলগুলো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, কবরের চেয়ে ভীতিকর দৃশ্য আমি আর দেখিনি। (তিরমিযি, ইবনে মাযাহ, মিশকাত)।

এই যে এতসব বাড়ি-গাড়ি, উঁচু উঁচু দালানকোঠা, হাজার কোটি টাকা মৃত্যুর ডাক এলে কী হবে এ সব কিছুর! কয় টাকা নিয়ে যেতে পারব সঙ্গে করে! তখন আপনা আপনিই আমাদের চোখ খুলে যাবে। একটুকরা কাপড় ছাড়া কিছুই তো যাবে না আমাদের সঙ্গে। তারপর কবরে পোকামাকড় খাবে এ দেহ। কোথায় যাবে তখন দুনিয়ার ভোগ বিলাসিতা আর দাম্ভিকতা!

সুতরাং, চিরস্থায়ী কল্যাণ লাভ আর প্রকৃত সফলতার জন্য অবশ্যই আমাদের মৃত্যুর আগে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। বেশি বেশি ভাবতে হবে মৃত্যু নিয়ে। এ জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি তা নিয়ে।

লেখক : মাদ্রাসা শিক্ষার্থী

ইমানি শক্তি বাড়ায় মৃত্যুচিন্তা

 নাঈমুল হাসান তানযীম 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যু। অবশ্যম্ভাবী চির অবধারিত এক সত্য। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর আর দাম্ভিক ব্যক্তিটিও এ সত্যকে উপেক্ষা করতে পারে না। আমাদের প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। এর থেকে রেহাই পাবে না কেউই।

আল্লাহতায়ালা কুরআনে কারিমে বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং কেয়ামতের দিন তোমরা পূর্ণ বদলাপ্রাপ্ত হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে ব্যক্তি হবে সফলকাম। বস্তুত পার্থিব জীবন প্রতারণার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়’ (আলে ইমরান ৩/১৮৫)।

মৃত্যুর ফেরেশতা থেকে কেউই বাঁচতে পারবে না। যখন যার চলে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ঘনিয়ে আসবে তাকে চলে যেতেই হবে। এর থেকে পালাতে পারবে না কেউই। যতই সুরক্ষিত আর মজবুত দুর্গে অবস্থান করুক না কেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যেখানেই তোমরা থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই। এমনকি যদিও তোমরা অবস্থান করো সুদৃঢ় দুর্গে’ (নিসা ৪/৭৮)।

সুতরাং সর্বাবস্থায় আমাদের মৃত্যুর কথা ভাবতে হবে। হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা সব মুহূর্তেই আমাদের স্মরণে রাখতে হবে মৃত্যুর কথা। কারণ কখন যে কার বিদায়ের ডাক চলে আসে কেউই সেটা জানি না। আমাদের কাছে সেটা অজানা থাকলেও তাকদিরে সে ক্ষণ ও মুহূর্ত ঠিকই নির্দিষ্ট করা আছে। অকাল মৃত্যু বলতে কিছু নেই। সবাই তাকদিরে লিখিত সুনির্দিষ্ট সময়েই মৃত্যুবরণ করবে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কারও মৃত্যু হতে পারে না। কেননা, তা সুনির্ধারিত। (সূরা আলে ইমরান : ১৪৫)।

মৃত্যু নিয়ে আমরা যত বেশি চিন্তা ফিকির করব ততই আমাদের ইমান বৃদ্ধি পাবে। মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী জীবন কেমন হবে। কবরে কি কি বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। সৎ হলে কি মিলবে অসৎ হলে কি ভয়ানক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কেমন হবে বিচার দিবসের অবস্থা।

কী পুঁজি নিয়ে দাঁড়াব আল্লাহতায়ালার দরবারে এসব যদি নিত্য ভাবি তাহলে অবশ্যই আমাদের ইমান তাজা হবে। অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে। মানুষের প্রতি অন্যায় আর জোর জুলুমের অনুশোচনা জাগ্রত হবে মনের ভেতর। বেশি বেশি কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করলেও মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়।

বর্ণিত আছে যে, হজরত উসমান গণি (রা.) কবরস্থানে গিয়ে কাঁদতেন। ফলে তার দাড়ি ভিজে যেত। তাকে বলা হলো, জান্নাত-জাহান্নামের কথা শুনে আপনি কাঁদেন না, অথচ কবরে এসে কাঁদেন? জবাবে তিনি বলেন, কবর হলো আখেরাতের প্রথম মনজিল। যদি কেউ এখানে মুক্তি পায়, তাহলে পরের মনজিলগুলো তার জন্য সহজ হয়ে যায়। আর এখানে মুক্তি না পেলে পরের মনজিলগুলো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, কবরের চেয়ে ভীতিকর দৃশ্য আমি আর দেখিনি। (তিরমিযি, ইবনে মাযাহ, মিশকাত)।

এই যে এতসব বাড়ি-গাড়ি, উঁচু উঁচু দালানকোঠা, হাজার কোটি টাকা মৃত্যুর ডাক এলে কী হবে এ সব কিছুর! কয় টাকা নিয়ে যেতে পারব সঙ্গে করে! তখন আপনা আপনিই আমাদের চোখ খুলে যাবে। একটুকরা কাপড় ছাড়া কিছুই তো যাবে না আমাদের সঙ্গে। তারপর কবরে পোকামাকড় খাবে এ দেহ। কোথায় যাবে তখন দুনিয়ার ভোগ বিলাসিতা আর দাম্ভিকতা!

সুতরাং, চিরস্থায়ী কল্যাণ লাভ আর প্রকৃত সফলতার জন্য অবশ্যই আমাদের মৃত্যুর আগে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। বেশি বেশি ভাবতে হবে মৃত্যু নিয়ে। এ জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি তা নিয়ে।

লেখক : মাদ্রাসা শিক্ষার্থী

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন