জান্নাতের অমিয় সুধা শারাবান ত্বাহুরা
jugantor
জান্নাতের অমিয় সুধা শারাবান ত্বাহুরা

  মো. আবদুল গনী শিব্বীর  

২৫ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জান্নাত পরম সুখের জায়গা। সেখানে কেবল অনাবিল শান্তি আর শান্তি। প্রেম সোহাগ আর ভালোবাসায় ভরপুর সেখানকার সব বাসিন্দার হৃদয়। হাসি-খুশি আর পরম আনন্দে কাটবে জান্নাতিদের জীবন। এ জীবনের শুরু আছে, তবে শেষ নেই।

জান্নাতিরা যখন যা চাইবে তৎক্ষণাত তা হাজির হয়ে যাবে। হৃদয়ের সুখানুভূতির চূড়ান্ত স্বাদ কেবল জান্নাতে রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সবরের প্রতিদানে তাদের দেবেন জান্নাত ও রেশমি পোশাক। তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। তার বৃক্ষছায়া তাদের ওপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলগুলো তাদের আওতাধীন রাখা হবে।

তাদের পরিবেশন করা হবে রুপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মতো পানপাত্রে। রুপালি স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। তাদের সেখানে পান করানো হবে ‘যানজাবিল’ মিশ্রিত পানপাত্র। এটা জান্নাতস্থিত ‘সালসাবিল’ নামক একটি ঝরনা। তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা। আপনি তাদের দেখে মনে করবেন যেন, বিক্ষিপ্ত মণিমুক্তা। আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন।

তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদের পরিধান করোনো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকন এবং তাদের পালনকর্তা তাদের পান করাবেন ‘শারাবান ত্বাহুরা’। এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি লাভ করেছে। (সূরা ইনসান : আয়াত : ১২-২২)।

শারাবান ত্বাহুরার পরিচয়

‘শারাবান ত্বাহুরা’ জান্নাতবাসীদের বিশেষ পানীয়। এ পানীয় জান্নাতিদের প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, মূল্যবান প্রতিদান। জান্নাতবাসীরা জান্নাতে নিজেদের ইচ্ছানুসারে খাবে, পান করবে। জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশকালে জান্নাতের প্রবেশমুখে তাদের জন্য প্রথম পানীয় হিসাবে যে পানীয় দেওয়া হবে, সে পানীয়ই হলো ‘শারাবান ত্বাহুরা’। আলী (রা.) বলেন, ‘জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশের প্রাক্কালে দেখতে পাবে জান্নাতের প্রবেশমুখে একটি সুন্দর বৃক্ষ, উক্ত বৃক্ষের নিচ থেকে দুটি ঝরনা প্রবহমান রয়েছে।

ঝরনা দুটির প্রথমটি থেকে যখন তারা পানি পান করবে, তখন তাদের মনে পরম আনন্দের দোলা পরিলক্ষিত হবে। তাদের পরম আনন্দের আর কখনো পরিবর্তন হবে না, তাদের সুখে কখনো বিন্দু পরিমাণ ঘাটতি হবে না। প্রথম নহরের পানি পানে জান্নাতিরা ‘নদরাতুন নাঈম’ নামক নেয়ামত লাভে ধন্য হবে। এরপর তারা দ্বিতীয় ঝরনা থেকে পানি পান করবে, এ পানি পান করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অন্তর পবিত্র হয়ে যাবে।

তাদের অন্তরে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ, জিঘাংসা, কুটিলতা, প্রতিশোধপরায়ণতা ইত্যাদি বদ স্বভাব থাকবে না। এমনকি এ পানি পানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পেট এতই বিশুদ্ধ হয়ে যাবে যে, চিরদিনের জন্য পায়খানা ও পেশাবের আর প্রয়োজন হবে না। জান্নাতিরা জান্নাতের খাবার শেষে যখন ‘শারাবান ত্বাহুরা’ পান করবেন, তখন তাদের খাবার হজম হয়ে দেহে একপ্রকার ঘাম দেবে যেটি খুবই সুঘ্রাণ।’ (তাফসিরে কুরতুবি)।

এ প্রসঙ্গ পবিত্র হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতি লোকেরা সেখানে পানাহার করবে। তবে তারা পায়খানা করবে না এবং নাকও ঝাড়বে না, পেশাবও করবে না। তাদের (ঐ) খাদ্য (নিঃশেষ হয়ে যাবে) মিশকের সুঘ্রাণ বিচ্ছুরণের মতো ঢেঁকুর (দ্বারা)। (সহিহ মুসলিম : হাদিস : ৬৮৯১)।

তাদের জন্য ‘শারাবান ত্বাহুরা’ ছাড়া আরও পানীয় রয়েছে, এ সম্পর্কে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘পরহেজগারদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপ: তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্য আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। (সূরা মুহাম্মদ : আয়াত : ১৫)।

জান্নাতিরা যেসব পানীয় পান করবে

সালসাবিল নামক পানীয় : জান্নাবাসীরা সালসাবিল নামক পানীয় পান করবে। এ পানির বৈশিষ্ট্য হলো ইহা একেবারে স্বচ্ছ, সুমিষ্ট ও শীতল। জান্নাতবাসীরা এ পানি পান করার সময় গলনালিতে মিষ্টতা অনুভব করবে। এ পানি যখন পেটে গিয়ে পৌঁছবে, তখন নিদারুণ স্বাদ আস্বাদন করবে। মুফাসসিররা বলেন, সালসাবিল নামক এ সুপেয় পানির উৎস হলো ‘জান্নাতুল আদন’। এ পানি জান্নাতের সব স্তরে পাওয়া যায় বিধায় এ পানিকে সালসাবিল বলা হয়।

কাফুরমিশ্রিত পানীয় : পবিত্র কুরআন মাজিদে বর্ণিত ‘আবরার’ খ্যাতি লাভকারী পুণ্যবান জান্নাতিদের জন্য বিশেষায়িত পানীয় হলো কাফুরমিশ্রিত পানীয়। এ পানির বৈশিষ্ট্য হলো ইহা অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত। মুফাসসিরদের মতে, এ পানির গুণাগুণ বর্ণনাতীত। এ পানি পানের পর জান্নাতিদের মুখ থেকে এমন এক ধরনের সুঘ্রাণ ছড়াবে, যাতে অপরাপর জান্নাতিরা বিমোহিত হয়ে যাবে। এ ধরনের আবহ সব নেককার জান্নাতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তাসনীম নামক পানীয় : তাসনীম হলো জান্নাতের একটি বিখ্যাত ঝরনা। আরশে পাক থেকে উৎসারিত এ ঝরনার পানীয়কে ‘তাসনীম’ হিসাবে পবিত্র কুরআন বর্ণনা করেছে। এ ঝরনার পানির বৈশিষ্ট্য হলো জান্নাতের অন্য সব ঝরনার পানির চোয়েও শ্রেষ্ঠতর। এ পানি পানের সৌভাগ্যবান কেবল ‘মুর্কারাবিন’খ্যাত বান্দারা। যেসব বান্দা নেক আমল করার মধ্য দিয়ে আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভ করেছেন তাদের মুকাররাবিন বলা হয়।

খামর নামক পানীয় : জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহপাক ‘খামর’ নামক বিশেষ পানীয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন। দুনিয়াবি খামর-এর মধ্যে নেশার প্রভাব বিদ্যমান। খামর পানকারী ব্যক্তি নেশার প্রভাবে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, ভালো মন্দ কোনোটিই বুঝতে পারে না। জান্নাতের ‘খামর’ বৈশিষ্ট্য হলো এ পানীয় অত্যন্ত সুস্বাদু ও রুচিকর। জান্নাতিদের চির যৌবনের সজীবতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করবে এ বিশেষ পানীয়। এ পানীয়তে মস্তিষ্ক বিকৃতি কিংবা জ্ঞান বিলোপ হবে না। বরং এর প্রভাবে সবার জন্য নির্ধারিত জান্নাতি স্ত্রীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসার আসক্তি বৃদ্ধি পাবে।

যানজিল নামক পানীয় : জান্নাতবাসী মুত্তাকিদের জন্য আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে বিশেষ পানীয় হলো ‘যানজিল’। ‘যানজিল’ নামক পানীয়টি বিভিন্ন উপকারী উপাদেয় উপাদানে ভরপুর। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ পানীয়ের মাধ্যমে জান্নাতিদের সম্মানিত করবেন। উল্লেখ্য, আরবি শব্দ ‘যানজিল’ দ্বারা ‘আদা’ নামক মসলাকে বোঝায়। আদার মধ্যে বিরাট ঔষধি গুণ রয়েছে। আদার রস বিভিন্ন দুরারোগ্য বাধ্যিতে ব্যবহার করা হয়। আদার রস নিষিক্ত বিশেষ পানি অনেক রোগজীবাণু বিদুরিত করে, রোগীকে রোগমুক্ত করে, রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পরিশেষে, আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তাঁর প্রকৃত বান্দাহ হিসাবে কবুল করুন। আমলের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাসিল করে জান্নাতে তাঁর মেহমান হয়ে জান্নাতের অমিয় সুধা, সব ধরনের নেয়ামত ভোগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর, মুহাদ্দিস, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসা, সোনাপুর, নোয়াখালী

জান্নাতের অমিয় সুধা শারাবান ত্বাহুরা

 মো. আবদুল গনী শিব্বীর 
২৫ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জান্নাত পরম সুখের জায়গা। সেখানে কেবল অনাবিল শান্তি আর শান্তি। প্রেম সোহাগ আর ভালোবাসায় ভরপুর সেখানকার সব বাসিন্দার হৃদয়। হাসি-খুশি আর পরম আনন্দে কাটবে জান্নাতিদের জীবন। এ জীবনের শুরু আছে, তবে শেষ নেই।

জান্নাতিরা যখন যা চাইবে তৎক্ষণাত তা হাজির হয়ে যাবে। হৃদয়ের সুখানুভূতির চূড়ান্ত স্বাদ কেবল জান্নাতে রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সবরের প্রতিদানে তাদের দেবেন জান্নাত ও রেশমি পোশাক। তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। তার বৃক্ষছায়া তাদের ওপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলগুলো তাদের আওতাধীন রাখা হবে।

তাদের পরিবেশন করা হবে রুপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মতো পানপাত্রে। রুপালি স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। তাদের সেখানে পান করানো হবে ‘যানজাবিল’ মিশ্রিত পানপাত্র। এটা জান্নাতস্থিত ‘সালসাবিল’ নামক একটি ঝরনা। তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা। আপনি তাদের দেখে মনে করবেন যেন, বিক্ষিপ্ত মণিমুক্তা। আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন।

তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদের পরিধান করোনো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকন এবং তাদের পালনকর্তা তাদের পান করাবেন ‘শারাবান ত্বাহুরা’। এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি লাভ করেছে। (সূরা ইনসান : আয়াত : ১২-২২)।

শারাবান ত্বাহুরার পরিচয়

‘শারাবান ত্বাহুরা’ জান্নাতবাসীদের বিশেষ পানীয়। এ পানীয় জান্নাতিদের প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, মূল্যবান প্রতিদান। জান্নাতবাসীরা জান্নাতে নিজেদের ইচ্ছানুসারে খাবে, পান করবে। জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশকালে জান্নাতের প্রবেশমুখে তাদের জন্য প্রথম পানীয় হিসাবে যে পানীয় দেওয়া হবে, সে পানীয়ই হলো ‘শারাবান ত্বাহুরা’। আলী (রা.) বলেন, ‘জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশের প্রাক্কালে দেখতে পাবে জান্নাতের প্রবেশমুখে একটি সুন্দর বৃক্ষ, উক্ত বৃক্ষের নিচ থেকে দুটি ঝরনা প্রবহমান রয়েছে।

ঝরনা দুটির প্রথমটি থেকে যখন তারা পানি পান করবে, তখন তাদের মনে পরম আনন্দের দোলা পরিলক্ষিত হবে। তাদের পরম আনন্দের আর কখনো পরিবর্তন হবে না, তাদের সুখে কখনো বিন্দু পরিমাণ ঘাটতি হবে না। প্রথম নহরের পানি পানে জান্নাতিরা ‘নদরাতুন নাঈম’ নামক নেয়ামত লাভে ধন্য হবে। এরপর তারা দ্বিতীয় ঝরনা থেকে পানি পান করবে, এ পানি পান করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অন্তর পবিত্র হয়ে যাবে।

তাদের অন্তরে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ, জিঘাংসা, কুটিলতা, প্রতিশোধপরায়ণতা ইত্যাদি বদ স্বভাব থাকবে না। এমনকি এ পানি পানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পেট এতই বিশুদ্ধ হয়ে যাবে যে, চিরদিনের জন্য পায়খানা ও পেশাবের আর প্রয়োজন হবে না। জান্নাতিরা জান্নাতের খাবার শেষে যখন ‘শারাবান ত্বাহুরা’ পান করবেন, তখন তাদের খাবার হজম হয়ে দেহে একপ্রকার ঘাম দেবে যেটি খুবই সুঘ্রাণ।’ (তাফসিরে কুরতুবি)।

এ প্রসঙ্গ পবিত্র হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতি লোকেরা সেখানে পানাহার করবে। তবে তারা পায়খানা করবে না এবং নাকও ঝাড়বে না, পেশাবও করবে না। তাদের (ঐ) খাদ্য (নিঃশেষ হয়ে যাবে) মিশকের সুঘ্রাণ বিচ্ছুরণের মতো ঢেঁকুর (দ্বারা)। (সহিহ মুসলিম : হাদিস : ৬৮৯১)।

তাদের জন্য ‘শারাবান ত্বাহুরা’ ছাড়া আরও পানীয় রয়েছে, এ সম্পর্কে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘পরহেজগারদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপ: তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্য আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। (সূরা মুহাম্মদ : আয়াত : ১৫)।

জান্নাতিরা যেসব পানীয় পান করবে

সালসাবিল নামক পানীয় : জান্নাবাসীরা সালসাবিল নামক পানীয় পান করবে। এ পানির বৈশিষ্ট্য হলো ইহা একেবারে স্বচ্ছ, সুমিষ্ট ও শীতল। জান্নাতবাসীরা এ পানি পান করার সময় গলনালিতে মিষ্টতা অনুভব করবে। এ পানি যখন পেটে গিয়ে পৌঁছবে, তখন নিদারুণ স্বাদ আস্বাদন করবে। মুফাসসিররা বলেন, সালসাবিল নামক এ সুপেয় পানির উৎস হলো ‘জান্নাতুল আদন’। এ পানি জান্নাতের সব স্তরে পাওয়া যায় বিধায় এ পানিকে সালসাবিল বলা হয়।

কাফুরমিশ্রিত পানীয় : পবিত্র কুরআন মাজিদে বর্ণিত ‘আবরার’ খ্যাতি লাভকারী পুণ্যবান জান্নাতিদের জন্য বিশেষায়িত পানীয় হলো কাফুরমিশ্রিত পানীয়। এ পানির বৈশিষ্ট্য হলো ইহা অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত। মুফাসসিরদের মতে, এ পানির গুণাগুণ বর্ণনাতীত। এ পানি পানের পর জান্নাতিদের মুখ থেকে এমন এক ধরনের সুঘ্রাণ ছড়াবে, যাতে অপরাপর জান্নাতিরা বিমোহিত হয়ে যাবে। এ ধরনের আবহ সব নেককার জান্নাতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তাসনীম নামক পানীয় : তাসনীম হলো জান্নাতের একটি বিখ্যাত ঝরনা। আরশে পাক থেকে উৎসারিত এ ঝরনার পানীয়কে ‘তাসনীম’ হিসাবে পবিত্র কুরআন বর্ণনা করেছে। এ ঝরনার পানির বৈশিষ্ট্য হলো জান্নাতের অন্য সব ঝরনার পানির চোয়েও শ্রেষ্ঠতর। এ পানি পানের সৌভাগ্যবান কেবল ‘মুর্কারাবিন’খ্যাত বান্দারা। যেসব বান্দা নেক আমল করার মধ্য দিয়ে আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভ করেছেন তাদের মুকাররাবিন বলা হয়।

খামর নামক পানীয় : জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহপাক ‘খামর’ নামক বিশেষ পানীয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন। দুনিয়াবি খামর-এর মধ্যে নেশার প্রভাব বিদ্যমান। খামর পানকারী ব্যক্তি নেশার প্রভাবে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, ভালো মন্দ কোনোটিই বুঝতে পারে না। জান্নাতের ‘খামর’ বৈশিষ্ট্য হলো এ পানীয় অত্যন্ত সুস্বাদু ও রুচিকর। জান্নাতিদের চির যৌবনের সজীবতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করবে এ বিশেষ পানীয়। এ পানীয়তে মস্তিষ্ক বিকৃতি কিংবা জ্ঞান বিলোপ হবে না। বরং এর প্রভাবে সবার জন্য নির্ধারিত জান্নাতি স্ত্রীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসার আসক্তি বৃদ্ধি পাবে।

যানজিল নামক পানীয় : জান্নাতবাসী মুত্তাকিদের জন্য আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে বিশেষ পানীয় হলো ‘যানজিল’। ‘যানজিল’ নামক পানীয়টি বিভিন্ন উপকারী উপাদেয় উপাদানে ভরপুর। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ পানীয়ের মাধ্যমে জান্নাতিদের সম্মানিত করবেন। উল্লেখ্য, আরবি শব্দ ‘যানজিল’ দ্বারা ‘আদা’ নামক মসলাকে বোঝায়। আদার মধ্যে বিরাট ঔষধি গুণ রয়েছে। আদার রস বিভিন্ন দুরারোগ্য বাধ্যিতে ব্যবহার করা হয়। আদার রস নিষিক্ত বিশেষ পানি অনেক রোগজীবাণু বিদুরিত করে, রোগীকে রোগমুক্ত করে, রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পরিশেষে, আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তাঁর প্রকৃত বান্দাহ হিসাবে কবুল করুন। আমলের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাসিল করে জান্নাতে তাঁর মেহমান হয়ে জান্নাতের অমিয় সুধা, সব ধরনের নেয়ামত ভোগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর, মুহাদ্দিস, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসা, সোনাপুর, নোয়াখালী

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন