সময়ের সদ্ব্যবহারে ইসলামের নির্দেশনা
jugantor
সময়ের সদ্ব্যবহারে ইসলামের নির্দেশনা

  আবরার নাঈম  

২৫ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সময় আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। প্রিয়নবি (সা.)-ও উম্মতকে বুঝিয়েছেন সময়ের গুরুত্ব। সময়ের ব্যাপারে আমরা খুবই উদাসীন। সময়ের যথাযথ মূল্য আমরা দিতে জানি না। হেলায় খেলায় কেটে যায় আমাদের সময়।

আল্লাহতায়ালা সময়ের শপথ করে বলেন, সময়ের শপথ! অবশ্যই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে, সৎকাজ করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়, উপদেশ দেয় ধৈর্যধারণের। (সূরা আসর, আয়াত : ১-৩)।

অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, শপথ ফজরের। শপথ দশ রাতের। দশ রাত বলতে এখানে জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত উদ্দেশ্য। (সূরা আল-ফাজর.১-২)।

যারা সময়কে সঠিক পন্থায় কাজে লাগায় তারা সফলতার মুখ দেখতে পায়। আর যারা তার সঠিক ব্যবহার করে না তারা অনেক সময় নিজেদের দোষ-ত্রুটি ঢাকতে সময়কে দোষারোপ করে। রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা যুগকে গালি দিয়ো না। কারণ আল্লাহ-ই হলেন যুগের স্রষ্টা। (সহিহ মুসলিম-২২৪৬)।

মানুষের জীবন তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। শিশুকাল, যৌবনকাল ও বৃদ্ধকাল। এর মাঝে শিশুকাল ও বৃদ্ধকাল মানুষের দুর্বলতায় কেটে যায়। মাঝে বাকি থাকে যৌবনকাল। এ সময় শরীর সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে। কঠিন থেকে কঠিনতম কাজ এ সময় সমাধান করা যায় খুব সহজেই।

এ সময়ের ইবাদতও আল্লাহতায়ালার কাছে অনেক দামি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এ সময়ের ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ে যায়। মনে মনে ভাবতে থাকে সময় এখনো বাকি আছে। এখনই তো আর বুড়ো হয়ে যাইনি। অবশেষে এ উদাসীনতায় থাকাবস্থায় তার মৃত্যু চলে আসে। যেমনটা হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)- থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে মানুষ প্রবঞ্চিত হয়ে আছে। একটি হচ্ছে সুস্থতা; অন্যটি হচ্ছে অবসর সময়। (সহিহ বুখারি-৬৪১২)।

সুস্থতা আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ নিয়ামত। সুস্থতাকে সঠিক কাজে লাগনো বুদ্ধিমানের কাজ। পাশাপাশি অবসরতাও সব সময় আসে না। তাই এ দুটি মুহূর্তকে মূল্যায়ন করা উচিত। অবসরতা এবং সুস্থতার সময়টুকু কীভাবে কাটাতে হবে সে নির্দেশনা কুরআনে দেওয়া আছে সুস্পষ্টভাবে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, সুতরাং তুমি যখন অবসর পাও, তখন (ইবাদতে) নিজেকে পরিশ্রান্ত কর এবং নিজ প্রতিপালকের প্রতি মনোযোগী হও। (সূরা আল ইনশিরাহ, আয়াত ৭-৮)। আপনি হয়তো বা সারা দিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। ব্যস্ততা আপনাকে ঘিরে থাকে। তবে এসব কাজের ফাঁকে ফাঁকে যখন আপনি অবসর সময় পান, তখনই আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হয়ে যান। একান্তে নির্জনে কথা বলুন মহান আল্লাহর সঙ্গে।

প্রসিদ্ধ তাবেয়ি হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলতেন, প্রতিটি দিনই আদম-সন্তানকে ডেকে বলে যায়, আদম-সন্তান, আমি নতুন একটি দিন। আমার মাঝে মানুষ যে কাজ করে, আমি তার সাক্ষী হয়ে থাকি। যদি আমি চলে যাই, তবে পেছনে আর কখনো ফিরে আসি না। তাই তোমার যা ইচ্ছা, সামনে পাঠাও। ভবিষ্যৎ জীবনে তুমি তারই প্রতিদান পাবে। আর যার পেছানোর ইচ্ছা করে, তাকে পিছিয়ে রাখ। মনে রেখ, সময় কখনো ফিরে আসে না। (আল হাসানুল বসরি-১৪০)। ইয়াহইয়া বিন মুআজ কতই না চমৎকার বলেছেন, রাত হয় দীর্ঘ। ঘুমিয়ে রাতকে তুমি ছোট করে ফেলো না। দিন হয় স্বচ্ছ ও নির্মল। তাই তোমার পাপ দিয়ে দিনকে পঙ্কিল করো না।’ (সিফাতুস সাফওয়া-৪/৯৪)।

যদি কেউ সময়কে অবহেলা করে কাটিয়ে দেয় এবং সঠিক পথে ফিরে না আসে, তাহলে পরপারে আল্লাহতায়ালার কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এতটা দীর্ঘ সময় দান করিনি যে, কেউ সতর্ক হতে চাইলে অনায়াসে সতর্ক হতে পারত? তোমাদের কাছে তো সতর্ককারীও এসেছিল। (সূরা ফাতির-৩৭)। একটু চিন্তা করুন, যেদিন আল্লাহ আমাদের এ প্রশ্নটি করবেন, সেদিন জবাব দেওয়ার মতো আমাদের কী কোনো উত্তর থাকবে?

আল্লাহ আমাদের সময়ের গুরুত্ব বুঝে সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করুন আমিন।

সময়ের সদ্ব্যবহারে ইসলামের নির্দেশনা

 আবরার নাঈম 
২৫ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সময় আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। প্রিয়নবি (সা.)-ও উম্মতকে বুঝিয়েছেন সময়ের গুরুত্ব। সময়ের ব্যাপারে আমরা খুবই উদাসীন। সময়ের যথাযথ মূল্য আমরা দিতে জানি না। হেলায় খেলায় কেটে যায় আমাদের সময়।

আল্লাহতায়ালা সময়ের শপথ করে বলেন, সময়ের শপথ! অবশ্যই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে, সৎকাজ করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়, উপদেশ দেয় ধৈর্যধারণের। (সূরা আসর, আয়াত : ১-৩)।

অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, শপথ ফজরের। শপথ দশ রাতের। দশ রাত বলতে এখানে জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত উদ্দেশ্য। (সূরা আল-ফাজর.১-২)।

যারা সময়কে সঠিক পন্থায় কাজে লাগায় তারা সফলতার মুখ দেখতে পায়। আর যারা তার সঠিক ব্যবহার করে না তারা অনেক সময় নিজেদের দোষ-ত্রুটি ঢাকতে সময়কে দোষারোপ করে। রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা যুগকে গালি দিয়ো না। কারণ আল্লাহ-ই হলেন যুগের স্রষ্টা। (সহিহ মুসলিম-২২৪৬)।

মানুষের জীবন তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। শিশুকাল, যৌবনকাল ও বৃদ্ধকাল। এর মাঝে শিশুকাল ও বৃদ্ধকাল মানুষের দুর্বলতায় কেটে যায়। মাঝে বাকি থাকে যৌবনকাল। এ সময় শরীর সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে। কঠিন থেকে কঠিনতম কাজ এ সময় সমাধান করা যায় খুব সহজেই।

এ সময়ের ইবাদতও আল্লাহতায়ালার কাছে অনেক দামি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এ সময়ের ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ে যায়। মনে মনে ভাবতে থাকে সময় এখনো বাকি আছে। এখনই তো আর বুড়ো হয়ে যাইনি। অবশেষে এ উদাসীনতায় থাকাবস্থায় তার মৃত্যু চলে আসে। যেমনটা হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)- থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে মানুষ প্রবঞ্চিত হয়ে আছে। একটি হচ্ছে সুস্থতা; অন্যটি হচ্ছে অবসর সময়। (সহিহ বুখারি-৬৪১২)।

সুস্থতা আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ নিয়ামত। সুস্থতাকে সঠিক কাজে লাগনো বুদ্ধিমানের কাজ। পাশাপাশি অবসরতাও সব সময় আসে না। তাই এ দুটি মুহূর্তকে মূল্যায়ন করা উচিত। অবসরতা এবং সুস্থতার সময়টুকু কীভাবে কাটাতে হবে সে নির্দেশনা কুরআনে দেওয়া আছে সুস্পষ্টভাবে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, সুতরাং তুমি যখন অবসর পাও, তখন (ইবাদতে) নিজেকে পরিশ্রান্ত কর এবং নিজ প্রতিপালকের প্রতি মনোযোগী হও। (সূরা আল ইনশিরাহ, আয়াত ৭-৮)। আপনি হয়তো বা সারা দিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। ব্যস্ততা আপনাকে ঘিরে থাকে। তবে এসব কাজের ফাঁকে ফাঁকে যখন আপনি অবসর সময় পান, তখনই আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হয়ে যান। একান্তে নির্জনে কথা বলুন মহান আল্লাহর সঙ্গে।

প্রসিদ্ধ তাবেয়ি হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলতেন, প্রতিটি দিনই আদম-সন্তানকে ডেকে বলে যায়, আদম-সন্তান, আমি নতুন একটি দিন। আমার মাঝে মানুষ যে কাজ করে, আমি তার সাক্ষী হয়ে থাকি। যদি আমি চলে যাই, তবে পেছনে আর কখনো ফিরে আসি না। তাই তোমার যা ইচ্ছা, সামনে পাঠাও। ভবিষ্যৎ জীবনে তুমি তারই প্রতিদান পাবে। আর যার পেছানোর ইচ্ছা করে, তাকে পিছিয়ে রাখ। মনে রেখ, সময় কখনো ফিরে আসে না। (আল হাসানুল বসরি-১৪০)। ইয়াহইয়া বিন মুআজ কতই না চমৎকার বলেছেন, রাত হয় দীর্ঘ। ঘুমিয়ে রাতকে তুমি ছোট করে ফেলো না। দিন হয় স্বচ্ছ ও নির্মল। তাই তোমার পাপ দিয়ে দিনকে পঙ্কিল করো না।’ (সিফাতুস সাফওয়া-৪/৯৪)।

যদি কেউ সময়কে অবহেলা করে কাটিয়ে দেয় এবং সঠিক পথে ফিরে না আসে, তাহলে পরপারে আল্লাহতায়ালার কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এতটা দীর্ঘ সময় দান করিনি যে, কেউ সতর্ক হতে চাইলে অনায়াসে সতর্ক হতে পারত? তোমাদের কাছে তো সতর্ককারীও এসেছিল। (সূরা ফাতির-৩৭)। একটু চিন্তা করুন, যেদিন আল্লাহ আমাদের এ প্রশ্নটি করবেন, সেদিন জবাব দেওয়ার মতো আমাদের কী কোনো উত্তর থাকবে?

আল্লাহ আমাদের সময়ের গুরুত্ব বুঝে সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করুন আমিন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন