৬ মাসের মধ্যে ফের ঘূর্ণিঝড় জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল : ড. একেএম সাইফুল ইসলাম
jugantor
৬ মাসের মধ্যে ফের ঘূর্ণিঝড় জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল : ড. একেএম সাইফুল ইসলাম
মাদ্রিদ সম্মেলনে উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল
জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল। প্রতীকী ছবি

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘বুলবুল ক্যাটাগরি-২ ধরনের ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এখন পর্যন্ত এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার।

তবে সৌভাগ্য যে, এটি বাংলাদেশের খুব বেশি ভেতরে থাকবে না। সুন্দরবন এলাকা দিয়ে আঘাত হানতে পারে। তবে পূর্বাভাসকৃত সময়ের চেয়েও ৬ ঘণ্টা আগে আসছে। গতি বেড়ে গেছে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে আঘাত হানতে পারে বুলবুল। এ ঝড়কে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়।’ শুক্রবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে তিনি একথা বলেন।

অধ্যাপক সাইফুল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের একটি থাকে কেন্দ্র, আরেকটি অগ্রবর্তী অংশ। সামনের অংশের কারণে আকাশ মেঘলা ও ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। সেটা আজকেই (শুক্রবার) শুরু হয়েছে। এটাকে বলা যায় ঘূর্ণিঝড়ের আগাম প্রভাব। তবে ঘূর্ণিঝড়ের মূল প্রভাব শুরু হয়ে যাবে শনিবার (আজ) দুপুর নাগাদ। এরপর মূল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতটি আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নিয়ে কম্পিউটার মডেল করে দেখা যাচ্ছে খুলনা-বরগুনার উপকূল দিয়ে এটি অতিক্রম করতে পারে। এর একটি অংশ পটুয়াখালীর খেপুপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ঝড়ের বাতাস সিডরের মতোই ঢাকা পর্যন্ত আসবে। ঢাকায় ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।’

অধ্যাপক ইসলাম বলেন, ‘গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ফণি নামের অপর ঘূর্ণিঝড় এসেছিল বঙ্গোপসাগর থেকে। সেটি ওড়িষ্যায় আঘাত হানে। পরে স্থলভাগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম।

কিন্তু এবার আমরা সরাসরি আক্রান্ত। যদি ভারতের মধ্যে ঝড়টির বেশির ভাগ উঠে যায় তাহলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। তবে আরও আশঙ্কার দিক হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় গতিপথ পরিবর্তন করে। তাই ঠিক কোথায় আঘাত হানতে পারে তা বেশি আগে বলা কঠিন। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাস থাকে। এখন পর্যন্ত ৫-৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা আছে।’

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) প্রকাশিত ‘পরিবর্তিত জলবায়ুতে মহাসাগর এবং ক্রিস্টোফিয়ার (ভূভাগে বিভিন্ন রূপের পানি)’ সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। এগুলো বারবার আসবে। সেদিক থেকে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে দুটি ঘূর্ণিঝড় দেখা গেল।

এর আগে এত ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় আমরা দেখিনি। ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর সিডর আসে ২০০৭ সালে। কিন্তু এখন ঘনঘন আসছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, মোরা, ফণী ইত্যাদি এলো। এর মূল কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা। প্রত্যেকটা ঘূর্ণিঝড়ই শক্তিশালী হচ্ছে।

ড. ইসলাম বলেন, ‘এভাবে ঘূর্ণিঝড় আসতে থাকলে তা আমাদের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। উপকূলের জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে। গাছপালা, ফসল, ঘরবাড়ি নষ্ট হবে। ভূমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে।

কোনো কোনো জায়গায় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। মাছের ঘের ভেসে যেতে পারে। রাস্তাঘাট ভাঙবে। সবমিলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন বিঘ্নিত হবে। ৬ মাসের মধ্যে আসা এ ঘূর্ণিঝড়কে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়। তাই মাদ্রিদে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের জন্য জাতীয়ভাবে আমাদের জোরালো কথা বলতে হবে।’

৬ মাসের মধ্যে ফের ঘূর্ণিঝড় জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল : ড. একেএম সাইফুল ইসলাম

মাদ্রিদ সম্মেলনে উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল
জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল। প্রতীকী ছবি

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘বুলবুল ক্যাটাগরি-২ ধরনের ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এখন পর্যন্ত এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার।

তবে সৌভাগ্য যে, এটি বাংলাদেশের খুব বেশি ভেতরে থাকবে না। সুন্দরবন এলাকা দিয়ে আঘাত হানতে পারে। তবে পূর্বাভাসকৃত সময়ের চেয়েও ৬ ঘণ্টা আগে আসছে। গতি বেড়ে গেছে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে আঘাত হানতে পারে বুলবুল। এ ঝড়কে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়।’ শুক্রবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে তিনি একথা বলেন।

অধ্যাপক সাইফুল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের একটি থাকে কেন্দ্র, আরেকটি অগ্রবর্তী অংশ। সামনের অংশের কারণে আকাশ মেঘলা ও ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। সেটা আজকেই (শুক্রবার) শুরু হয়েছে। এটাকে বলা যায় ঘূর্ণিঝড়ের আগাম প্রভাব। তবে ঘূর্ণিঝড়ের মূল প্রভাব শুরু হয়ে যাবে শনিবার (আজ) দুপুর নাগাদ। এরপর মূল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতটি আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নিয়ে কম্পিউটার মডেল করে দেখা যাচ্ছে খুলনা-বরগুনার উপকূল দিয়ে এটি অতিক্রম করতে পারে। এর একটি অংশ পটুয়াখালীর খেপুপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ঝড়ের বাতাস সিডরের মতোই ঢাকা পর্যন্ত আসবে। ঢাকায় ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।’

অধ্যাপক ইসলাম বলেন, ‘গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ফণি নামের অপর ঘূর্ণিঝড় এসেছিল বঙ্গোপসাগর থেকে। সেটি ওড়িষ্যায় আঘাত হানে। পরে স্থলভাগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম।

কিন্তু এবার আমরা সরাসরি আক্রান্ত। যদি ভারতের মধ্যে ঝড়টির বেশির ভাগ উঠে যায় তাহলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। তবে আরও আশঙ্কার দিক হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় গতিপথ পরিবর্তন করে। তাই ঠিক কোথায় আঘাত হানতে পারে তা বেশি আগে বলা কঠিন। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাস থাকে। এখন পর্যন্ত ৫-৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা আছে।’

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) প্রকাশিত ‘পরিবর্তিত জলবায়ুতে মহাসাগর এবং ক্রিস্টোফিয়ার (ভূভাগে বিভিন্ন রূপের পানি)’ সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। এগুলো বারবার আসবে। সেদিক থেকে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে দুটি ঘূর্ণিঝড় দেখা গেল।

এর আগে এত ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় আমরা দেখিনি। ১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর সিডর আসে ২০০৭ সালে। কিন্তু এখন ঘনঘন আসছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, মোরা, ফণী ইত্যাদি এলো। এর মূল কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা। প্রত্যেকটা ঘূর্ণিঝড়ই শক্তিশালী হচ্ছে।

ড. ইসলাম বলেন, ‘এভাবে ঘূর্ণিঝড় আসতে থাকলে তা আমাদের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। উপকূলের জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে। গাছপালা, ফসল, ঘরবাড়ি নষ্ট হবে। ভূমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে।

কোনো কোনো জায়গায় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। মাছের ঘের ভেসে যেতে পারে। রাস্তাঘাট ভাঙবে। সবমিলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন বিঘ্নিত হবে। ৬ মাসের মধ্যে আসা এ ঘূর্ণিঝড়কে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়। তাই মাদ্রিদে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের জন্য জাতীয়ভাবে আমাদের জোরালো কথা বলতে হবে।’