Logo
Logo
×

Advertisement

আনন্দ নগর

সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য শাবনূরের দায় কতটুকু

Advertisement

Icon

সাহিদ আহমেদ

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য শাবনূরের দায় কতটুকু

Advertisement

একটি নাম, একটি জনপ্রিয় জুটি এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তিন দশকের অসংখ্য প্রশ্ন। ঢাকাই সিনেমার ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহর নাম উচ্চারিত হলেই যে কয়েকটি নাম অনিবার্যভাবে ফিরে আসে, শাবনূর তার অন্যতম। নব্বইয়ের দশকে পর্দায় তাদের জুটি ছিল তুমুল জনপ্রিয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর অকাল মৃত্যুর পর সেই জুটির নামই ঢুকে পড়ে দেশের অন্যতম আলোচিত মৃত্যুরহস্যের বিতর্কে। ৩০ বছর পরও প্রশ্নটি তাই ফিরে আসে, সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে শাবনূরের কোনো দায় ছিল কি? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আবেগ, গুঞ্জন, ব্যক্তিগত অভিযোগ, তদন্তের বক্তব্য এবং আদালতের নথি আলাদা করে দেখা জরুরি। কারণ কোনো তদন্তে বা কারও বক্তব্যে একটি নাম উঠে আসা এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।

বর্তমান আইনি অবস্থানও সেটিই বলছে। ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। ওই তদন্তে তার ব্যক্তিগত জীবন, দাম্পত্য টানাপোড়েন এবং শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের প্রসঙ্গ উঠে আসে। পরে সেই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আইনি লড়াই চলতে থাকে। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসাবে নতুন করে তদন্তের পর্যায়ে যায়। ওই মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হলেও শাবনূরের নাম নেই। সর্বশেষ, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন দশক পরও সালমান শাহর মৃত্যুর চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি হয়নি।

* যে মৃত্যু বদলে দিয়েছিল ঢাকাই সিনেমার ইতিহাস

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র ২৪ বছর বয়সে থেমে যায় জনপ্রিয় এ নায়কের জীবন। মৃত্যুর পর ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসাবে তদন্তের পথে এগোয়। শুরু থেকেই সালমানের পরিবার, ভক্ত ও সিনেমাঙ্গনে নানা প্রশ্ন ওঠে। একদিকে আত্মহত্যার কথা বলা হয়, অন্যদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগও সামনে আসে। এরপর একাধিক পর্যায়ে তদন্ত হয়েছে, আদালতে হয়েছে শুনানি, এসেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। কিন্তু মূল প্রশ্নটি থেকেই গেছে, সালমান শাহ কি আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছিল? এ প্রশ্নের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয় শাবনূরের নামও।

* শাবনূরের নাম কেন বারবার আসে

সালমান-শাবনূর জুটি ছিল নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। পর্দার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সালমান শাহর মৃত্যুর পর শাবনূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা দাবি সামনে আসে। তবে এসব দাবির সঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন, শাবনূর কখনো সালমান শাহর অপমৃত্যু কিংবা হত্যা মামলার আসামি ছিলেন না। ২০২০ সালের পিবিআই তদন্তে অবশ্য শাবনূরের নাম আসে। তদন্তে সালমানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। শাবনূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধও তদন্তের আলোচনায় আসে এবং সেটিকে আত্মহত্যার পেছনে থাকা সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তবে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন, তাকে হত্যা করা হয়নি। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাবনূরও প্রকাশ্যে এর ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন।

* মৃত্যুর আগে সালমান শাহ নিজেই কী বলেছিলেন

শাবনূরকে ঘিরে গুঞ্জনের গুরুত্বপূর্ণ একটি নথিভুক্ত পালটা বক্তব্য পাওয়া যায় সালমান শাহর নিজের কাছ থেকেই। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সালমান শাহ। সেখানে তাকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের পাশাপাশি শাবনূরকে বিয়ে করেছেন, এমন গুঞ্জন নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। সালমান সেই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেছিলেন, কয়েকটি ম্যাগাজিনে (সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা) তাদের বিয়ের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। শাবনূরকে তিনি ছোট বোনের মতো দেখেন ও স্নেহ করেন এবং তিনি নিজে বিবাহিত বলেও স্পষ্ট করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও শাবনূরকে নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করেন এবং ছেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা বলেন। এ বক্তব্যের গুরুত্ব হলো, এটি সালমান শাহর মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া কোনো ব্যাখ্যা নয়। মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জীবিত অবস্থায় তিনি নিজেই বক্তব্যটি দিয়েছিলেন।

* রাবেয়া সুলতানা রুবির বক্তব্য

সালমান শাহর মৃত্যু রহস্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করা ব্যক্তিদের একজন রাবেয়া সুলতানা রুবি।

তিনি ছিলেন সালমান শাহর তৎকালীন সময়ের প্রতিবেশী এবং সালমানের স্ত্রী সামিরার দূর সম্পর্কের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। তিনি একজন বিউটিশিয়ান ছিলেন এবং সালমানের বাসার কাছাকাছি ‘মেফেয়ার বিউটি পার্লার’ মে ফেয়ার বলে একটি বিউটি পার্লার চালাতেন। সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা হত্যা মামলায় রুবিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়। সালমানের মৃত্যুর কয়েক বছর পর তিনি দেশ ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২০১৭ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় রুবি দাবি করেন, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। তার সেই বক্তব্য ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। কিন্তু পরে নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি ভিন্ন বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে রুবি বলেন, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং আগের বক্তব্যের বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না। সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। এরপর আবারও সালমান শাহ ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে তিনি গুরুতর কিছু দাবি করেন। এর মধ্যে শাবনূরের গর্ভধারণ এবং সিঙ্গাপুরে গিয়ে গর্ভপাতের অভিযোগও ছিল। তার বক্তব্য সেসময় ব্যাপকভাবে প্রচার হলেও এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা চিকিৎসা নথি, ভ্রমণ নথি বা আদালতে প্রতিষ্ঠিত কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

* রিজভীর দাবি ছিল সালমানকে হত্যা করা হয়েছে

সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে এবং নিজেকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করে ১৯৯৭ সালে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ নামে এক ব্যক্তি। মূলত সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী বিল্টুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই রিজভী আহমেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি সালমান শাহর মৃত্যুকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং মামলার তথাকথিত রাজসাক্ষী হন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ১২ লাখ টাকার চুক্তির মাধ্যমে শাহকে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যার আগে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয় এবং হত্যার পর বাকি ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এ অর্থের ব্যবস্থা করেছিলেন শাহের শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। রিজভী তার জবানবন্দিতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিনেতা ডন ও ডেভিডসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলকে আত্মহত্যা হিসাবে দেখানোর জন্য সাজানো হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লোরোফর্ম ব্যবহার করে অভিনেতাকে অচেতন করা হয়, এরপর তাকে টেনে ড্রেসিংরুমে নিয়ে গিয়ে পা বেঁধে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করাতে শরীরে তেল মাখানো এবং ভেজা কাপড় ব্যবহার করা হয়। রিজভী আরও দাবি করেন, ষড়যন্ত্রকারীদের প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন বাড়ির গেটকিপার। পাশাপাশি বিষয়টি যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সেজন্য অভিনেতার পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অবশ্য পরবর্তী সময়ে তিনি তার আগের বক্তব্য থেকে সরে আসেন। একসময় জামিন পেয়ে তিনি লন্ডন পালিয়ে যান এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও তথ্য প্রকাশ করেন।

* সামিরার বক্তব্য বনাম নীলা চৌধুরীর অবস্থান

শাবনূরকে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বড় উৎস সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক এবং তার পরিবার, আর অন্যদিকে সালমানের মা নীলা চৌধুরীর পালটা বক্তব্য। সামিরা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, সালমান শাহ ও শাবনূরের মধ্যে গোপন প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেটি তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলেছিল। অন্যদিকে নীলা চৌধুরী এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত হননি। তার বক্তব্য ছিল, সালমান ও শাবনূরের মধ্যে কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল না; তাদের সম্পর্ক ছিল ভাইবোনের মতো। তার দাবি, সালমানের নিজের কোনো বোন না থাকায় শাবনূরকে তিনি ছোট বোনের মতো দেখতেন। নীলা চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, শাবনূরের কিছু আচরণ তার কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছিল এবং হত্যার ঘটনাকে আড়াল করতে এসব বিষয়কে ব্যবহার করা হতে পারে।

* শাবনূরের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন

সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুমও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শাবনূরের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, সালমানের মৃত্যুর পর শাবনূর কেন তার জানাজায় অংশ নেননি কিংবা সিলেটের বাসায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি, যা তাদের কাছে কষ্টের এবং প্রশ্নের বিষয় ছিল।

* ২০২০ সালের পিবিআই তদন্ত

দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলায় প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। পিবিআইয়ের সিদ্ধান্ত ছিল, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নানা বিষয়কে আত্মহত্যার পেছনের কারণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধও সেই তদন্তের আলোচনায় আসে। তবে এ তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েই সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। শুরু হয় নতুন আইনি লড়াই।

* ২০২৫ সালে মামলার গতিপথ বদলে যায়

পিবিআইয়ের আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের বিষয়টি শেষ হয়নি। সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে করা নারাজি আবেদন ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসাবে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন, ২১ অক্টোবর, সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। কিন্তু ওই আসামির তালিকায় শাবনূরের নাম নেই। এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তিন দশকের আলোচনায় শাবনূরের নাম বারবার উঠে এলেও বর্তমান হত্যা মামলায় তিনি আসামি নন।

* এখন কোথায় দাঁড়িয়ে তদন্ত

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া নতুন হত্যা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় তা জমা দেওয়া হয়নি। পরে আদালত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। ফলে সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর সময়ও মামলাটি তদন্তাধীন। তবে এর মধ্যে আদালত বেশ কজন আসামিকে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেন। তা অমান্য করে বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে মামলার আসামি ডনকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে আছেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপরাধমূলক দায় নির্ধারণ করা যায় না।

* তাহলে শাবনূরের দায় কতটুকু

প্রকাশ্য নথি, তদন্তের তথ্য এবং বর্তমান আইনি অবস্থান একসঙ্গে দেখলে উত্তরটি খুব সতর্কভাবেই দিতে হয়। শাবনূরের নাম এসেছে সালমান শাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন, বিভিন্ন ব্যক্তির অভিযোগ এবং ২০২০ সালের পিবিআই তদন্তের প্রসঙ্গে। পিবিআই তার সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক এবং তা ঘিরে পারিবারিক বিরোধকে তদন্তের অংশ হিসাবে বিবেচনা করেছিল। অন্যদিকে সালমান শাহ মৃত্যুর আগে প্রকাশ্যে তাদের বিয়ের গুঞ্জন অস্বীকার করেছিলেন এবং শাবনূরকে ছোট বোনের মতো দেখেন বলে জানিয়েছিলেন। শাবনূরও পরে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশে যে হত্যা মামলা নতুন করে তদন্ত হচ্ছে, সেখানে শাবনূর আসামি নন। তার বিরুদ্ধে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধমূলক দায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন কোনো আদালতস্বীকৃত প্রমাণও প্রকাশ্যে নেই। শাবনূরনকে ঘিরে প্রশ্ন থাকতে পারে। অভিযোগ থাকতে পারে। তদন্তে তার সঙ্গে সালমানের সম্পর্কের প্রসঙ্গও থাকতে পারে। কিন্তু অভিযোগ, সন্দেহ এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

* ৩০ বছর পরও উত্তর খুঁজছে একটি মৃত্যু

সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পূর্ণ হলেও রহস্যের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর হয়তো নতুন কিছু জানা যাবে, হয়তো বা না। শাবনূরকে ঘিরে এত বছরের আলোচনা, অভিযোগ ও পালটা বক্তব্যের মধ্যেও তাই মূল বিষয় একটাই, প্রমাণ। সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং এ ঘটনায় কারও অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তার উত্তর দিতে হবে যাচাইযোগ্য তথ্য ও তদন্তের ফলের ভিত্তিতে। শেষ পর্যন্ত কারও দায় নির্ধারণ করবে না গুঞ্জন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য কিংবা পুরোনো অভিযোগ। সেটি নির্ধারণ করবে প্রমাণ, তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্ত।

আমি কেন দায়ী হব : শাবনূর

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর অস্ট্র্রেলিয়া (বর্তমানে তার স্থায়ী আবাস) থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাবনূর বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করলেও তার জন্য তিনি কেন দায়ী হবেন? তিনি সালমানকে নিজের ভালো সহশিল্পী হিসাবে বর্ণনা করেন এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে তার নাম আসায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। অর্থাৎ, একই ঘটনায় দুটি ভিন্ন অবস্থান সামনে আসে। তদন্ত সংস্থা সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি বিবেচনা করেছে, আর শাবনূর সেই ব্যাখ্যাই প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখনো শাবনূর তার পুরোনো অবস্থানে অনঢ় আছেন। সালমানের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে কিছুদিন আগেও তিনি জানিয়েছেন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন ফের নামঞ্জুর

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন ফের নামঞ্জুর

সিডনির রাস্তায় শাবনূর-রবি চৌধুরী

সিডনির রাস্তায় শাবনূর-রবি চৌধুরী

ফের পেছাল সালমান শাহ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

ফের পেছাল সালমান শাহ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

জন্মদিনে সালমান শাহকে নিয়ে ‘মিথ্যা অপবাদ’ না ছড়ানোর আহ্বান শাবনূরের

জন্মদিনে সালমান শাহকে নিয়ে ‘মিথ্যা অপবাদ’ না ছড়ানোর আহ্বান শাবনূরের

সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

আরও পড়ুন

দাগী থেকে খলনায়ক দেড় বছর পর ফিরছেন তমা

দেড় বছর পর ফিরছেন তমা

আবারও সিনেমায় আগ্রহী শখ

আবারও সিনেমায় আগ্রহী শখ

‘খলনায়ক রিটার্নস’-এ সালমান-সঞ্জয় জুটি?

‘খলনায়ক রিটার্নস’-এ সালমান-সঞ্জয় জুটি?

অর্ধেক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছেন রিজ

অর্ধেক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছেন রিজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম