Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা

প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা

প্রতীকী ছবি

Advertisement

বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের যে বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে রাজধানীর মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ রোগী প্রাণীর কামড় নিয়ে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ের শিকার। বিশেষ করে শহুরে জীবনে বাসাবাড়িতে পোষা বিড়ালের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অসাবধানতাবশত কামড় বা আঁচড়ের ঘটনাও দ্রুত বাড়ছে। শুধু বিড়াল নয়, বেওয়ারিশ কুকুর, শিয়াল বা বেজির কামড়েও অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসেই লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও একটু সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রাণীর কামড়ের পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ভালোভাবে ধুতে হবে এবং সময়মতো টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে মাথা, মুখ বা ঘাড়ের কাছাকাছি ক্ষত বা রক্তপাতের ক্ষেত্রে মুহূর্তের জন্যও দেরি করা মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব রয়েছে, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনে।

রোগের বিস্তার রোধে কেবল চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না; বরং উৎস থেকেই রোগ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুর ও বিড়ালকে নিয়মিত টিকার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণের চক্র ভেঙে ফেলা সম্ভব। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, যারা শখের বশে বাড়িতে বিড়াল বা অন্যান্য পোষা প্রাণী লালন-পালন করেন, তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সময়মতো পোষা প্রাণীকে টিকা দিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন সরবরাহের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তা মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছানো এবং গণসচেতনতা তৈরির কাজটি আরও জোরালোভাবে করতে হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

হুমকিতে জননিরাপত্তা

হুমকিতে জননিরাপত্তা

প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা

প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা

ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

রাজধানীর নদী-খাল রক্ষা

রাজধানীর নদী-খাল রক্ষা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম