Logo
Logo
×

প্রথম পাতা

গণভোটে চার প্রশ্ন এক উত্তর

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘বিভ্রান্তিকর’

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গণভোটে চার প্রশ্ন এক উত্তর

জুলাই সনদের চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি দিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণ মতামত জানাবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, চারটি প্রশ্নের একটি উত্তর হয় না। এটি বিভ্রান্তিকর। সরকারকে এ বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা গতকাল তার ভাষণে বলেন, জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে প্রশ্নও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো-‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার-সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’

ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন। ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণভোটের প্রশ্নে এক ধরনের বিভ্রান্তি আছে। কারণ ৪টি প্রশ্নের সবগুলোয় সবাই একমত হবেন এমন নয়। হতে পারে কোনো একজনের একটি বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। কিন্তু তার এই দ্বিমত আলাদাভাবে প্রকাশের সুযোগ নেই। এছাড়াও ভোটের অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের কাছে এখনও পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে যুগান্তরে ফোন করে অনেকে মতামত ব্যক্ত করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম