Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীর চাঁদা দাবি

শিল্পপতির বাসায় ফের মুহুর্মুহু গুলি

Advertisement

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্পপতির বাসায় ফের মুহুর্মুহু গুলি

চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দপুরা এলাকায় শনিবার ভোরে শিল্পপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় ভারী অস্ত্র দিয়ে মুহুর্মুহু গুলি করছে দুর্বৃত্তরা -যুগান্তর

Advertisement

পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে চট্টগ্রামে পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি লক্ষ করে মুহুর্মুহু গুলি ছুড়েছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার ভোরে চকবাজার থানার চন্দপুরা এলাকার বাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি একই বাসা লক্ষ্য করে গুলি করেছিল দুর্বৃত্তরা। এর পর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। ভারতে পালিয়ে থাকা চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা চাঁদা না পেয়ে বাসাটি লক্ষ্য করে গুলি করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজে ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙে। পুলিশি পাহারা থাকা অবস্থায় এমন হামলার ঘটনাকে দুঃসাহসিক বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বাসায় মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও তার ভাই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানও বসবাস করেন। সন্ত্রাসীদের একের পর এক এমন হামলায় ওই শিল্পপতি পরিবারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পপতি মুজিবুর রহমান একের পর এক এমন ঘটনায় আক্ষেপ করে যুগান্তরকে বলেন, ‘এভাবে হলে আর দেশে থাকা যাবে না। ব্যাংক যে টাকাপয়সা পাবে, তা দিয়ে আমরা দেশের বাইরে চলে যাব।’

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চন্দনপুরা খালপাড় এলাকায় চারজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী আসে। প্রথমে তিনজন অস্ত্রধারী শিল্পপতির বাসার সামনে আসে। তাদের মধ্যে একজন একনাগাড়ে ১২ রাউন্ড গুলি করে। তিনজনের মধ্যে দুজনের হাতে ছিল চায়নিজ রাইফেলের মতো ভারী অস্ত্র। অপর একজনের দুই হাতে দুটি বিদেশি পিস্তল দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর অপর সন্ত্রাসী ভারী অস্ত্র নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ওই সন্ত্রাসীকে কিছুক্ষণ পর মুহুর্মুহু গুলি করতে দেখা যায়। ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও দেখলে মনে হয়, এটা যেন কোনো ফিল্মের দৃশ্য। ওই বাড়িতে পুলিশের পাহারাও ছিল। সেই পাহারার তোয়াক্কা না করেই সন্ত্রাসীরা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শিল্পপতির বাসার দুই তলায় দুটি এবং তিন তলার একটি জানালার কাচ ভেঙে খানখান হয়ে যায়। খবর পেয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের একটি দল।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রথমে ১২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে ৭ কোটি এবং সর্বশেষ ৫ কোটি টাকা দাবি করে সাজ্জাদ। চাঁদা না দেওয়ায় ২ জানুয়ারি ওই শিল্পপতির বাসায় একই কায়দায় সন্ত্রাসীরা গুলি করে। তখন পিস্তল দিয়ে গুলি করলেও এবার তারা এসেছে ভারী অস্ত্র নিয়ে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, ওই ঘটনায় অজ্ঞাতানামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও চকবাজার থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত বা গ্রেফতার করতে পারেনি। এ কারণে তারা একই বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় হামলা করল।

এর আগে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা দেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ। এতে লেখেন ‘ওয়েট অ্যান্ড সি।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার সকালে নামাজ পড়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা গুলি করতে থাকে। ৯ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি করেছে। সিকিউরিটি গার্ড সন্ত্রাসীদের দেখতে পেয়ে বাসার পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানান। পুলিশ বাসার দোতলায় উঠে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এর আগেই সন্ত্রাসীরা চলে যায়। সন্ত্রাসীদের হাতে ভারী ও আধুনিক অস্ত্র ছিল। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তারা তদন্ত করে দেখছেন।

স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পপতি মুজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রথম দফায় বিদেশি নম্বর থেকে সাজ্জাদ পরিচয়ে আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা ২ জানুয়ারি হামলা করে। পরে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদার জন্য মেসেজ দেয় সাজ্জাদ। এতে সাড়া না দেওয়ায় তারা শনিবার আবারও হামলা করল।’ তিনি বলেন, এভাবে হলে দেশে থাকা যাবে না। ব্যাংক যে টাকাপয়সা পায়, তা দিয়ে দেশের বাইরে চলে যাব।

ঘটনার সময় বাড়ির সামনে চার পুলিশ সদস্য পাহারায় ছিলেন। এছাড়া সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন আরও ৬ জন। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়েই সন্ত্রাসীরা ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে গুলি ছুড়ে পালিয়ে গেছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কিশোর গ্যাং-এর বড় ভাইয়েরা আড়ালে অভিযানেও মিলছে না সুফল

অভিযানেও মিলছে না সুফল

দিল্লিতে ফের বিক্ষোভ, উত্তেজনা পতাকা ওড়ানোর আগেই আটক দীপকে ও নেহা

পতাকা ওড়ানোর আগেই আটক দীপকে ও নেহা

উত্তরায় ‘দে লারা’ গ্রুপের মুখোমুখি যুগান্তর ‘একদিন পরই বাইর হইয়া গ্যাছে, ট্যাকায় কথা কয়’

‘একদিন পরই বাইর হইয়া গ্যাছে, ট্যাকায় কথা কয়’

জ্বালানির অজুহাতে চালের দামে সাগরচুরি পরিবহণ ব্যয়ের ১৫ গুণ বোঝা ক্রেতার কাঁধে

পরিবহণ ব্যয়ের ১৫ গুণ বোঝা ক্রেতার কাঁধে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম