সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যু
সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ইস্যুতে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। এ আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারি দল বলেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কোনো সুযোগ নেই। অপরদিকে বিরোধীদলীয় সংসদ-সদস্যরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তারা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান চান উল্লেখ করে স্পিকারকে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে যে আলোচনা হয়েছে আপনি উত্তম মনে করলে তার ওপর একটি কমিটি গঠন করতে পারেন। তবে সেখানে দুদিক থেকে সমানসংখ্যক সদস্য থাকতে হবে। না হলে এখানে যেমন বিতর্ক হচ্ছে সেখানেও তাই হবে।
অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংশোধনে সর্বদলীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদ নেতার পক্ষে তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে, স্পিকারের তরফ থেকে কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত ছাড়াই অধিবেশন আজ বিকাল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাবের (বিধি-৬২) ওপর মঙ্গলবার ২ ঘণ্টার এ আলোচনা হয়। বিকাল পৌনে ৫টায় শুরু হয়ে মাগরিবের নামাজের বিরতি বাদে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত আলোচনা চলে। এতে ১১ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। এতে বিরোধী দলের বেশিসংখ্যক সদস্য অংশ নিলেও দুদলকে প্রায় সমান সময় দেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার প্রস্তাবের ওপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
জামায়াতের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এটা বৈধ আইন নয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি এমন আদেশ জারি করতে পারতেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ গঠিত হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রপতির এই এখতিয়ার আর নেই। ১৩৩টা অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ আনা হয়নি। কারণ এটা না অধ্যাদেশ না আইন। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি কিভাবে কোন বিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকবেন? যদি সংবিধান সংস্কার হয়ে যেত, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথের ফরম থাকত, কে শপথ পড়াবেন নির্ধারিত হতো তারপর এই শপথের প্রশ্ন আসতে পারত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না, জুলাই সনদ মানে না এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে তার প্রতিটি অক্ষর বিএনপি ধারণ করে। তিনি বলেন, প্রশ্ন উঠেছে তারা কেন গণভোট মানছেন না। ঐকমত্য কমিশনে গণভোটের প্রস্তাব তিনিই দিয়েছিলেন। জুলাই সনদে প্রত্যেক প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্টে বলা আছে, কোনো দল ইশতেহারে ভিন্নমতের উল্লেখ করে ম্যান্ডেট পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। তিনি বলেন, আমি রাষ্ট্রপতির কাছে জানতে চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি এমন আদেশ জারি করতে পারেন কিনা। রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, আমি তো পারি না। আমাকে পারাচ্ছে। রাজহংসকে জোরপূর্বক স্বর্ণের ডিম পাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনা। এখন সেটা অবৈধ ডিম্ব হয়েছে।
বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছে ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, তাহলে সংসদের, জনগণের সুপ্রিমিসি কোথায়? তিনি বলেন, প্রশ্ন এসেছে ৭০% ভোটের কী হবে? এটার ফয়সালা হবে। এ ৭০ শতাংশ ভোট এটা আসলে দেওয়ার দরকার ছিল জুলাই সনদের ওপর সমর্থন আছে কিনা। তিনি বলেন, গণভোটের প্রশ্নে নোট অব ডিসেন্টের অংশ কোথায়? ৪টা প্রশ্নের উত্তর ১টা কেন দেওয়া হলো। এটাকে জাতীয় প্রতারণার দলিল হিসাবে আখ্যা দেন তিনি। তিনি বলেন, পরবর্তী সংসদের এখতিয়ার খর্ব করতে পারে, পরবর্তী সংসদকে বাধ্য করতে পারে এমন কোনো নজির পৃথিবীতে নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির কোনো আদেশ সংসদের সার্বভৌমত্ব খর্ব করতে পারে না। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানের বিধান পরিবর্তন হয় এমন কোনো অধ্যাদেশও রাষ্ট্রপতি জারি করতে পারেন না। জুলাই বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ, এখতিয়ারবহির্ভূত। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ পড়ানোর মাধ্যমে সিইসি শপথ ভঙ্গ করেছেন, সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি সিইসিকে প্রশ্ন করতে পারতেন কে তাকে এই শপথের ফরম দিতে বলেছে। সিইসি সংসদে না থাকায় সেটা করা যাচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণ বিএনপির ইশতেহার সমর্থন করে ৫১ শতাংশ ম্যান্ডেট দিয়েছে। বিএনপি সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধনী আনতে চায়। সংসদ নেতার পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রস্তাব দেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের এবং স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করার এবং কমিটিতে সবাই মিলে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করার।
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো দল নয়, জনগণের অভিপ্রায় নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আজকের এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছি। আন্দালিব রহমান পার্থ ফায়ার করেছেন। কিন্তু ওনার কিছু ফায়ার ব্যাক ফায়ার করেছে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের লোক ছিলেন। আমরা ফ্যাসিবাদী আমলে এই আইনের নামে ভিকটিম হয়েছি। উনিও আরও বড় ভিকটিম হয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিয়াত্তর সালের পরে কোনো অর্ডার আইন নয়। কিন্তু এর পরেও বহু অর্ডার আইনে রূপ নিয়েছে। আজ এ বিষয় নিয়ে কথা বলে সেই সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি অশ্রদ্ধা জানাতে চাই না। সংবিধান ও আইন মানুষের জন্য। আইন কিংবা সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। কাউকে আক্রমণ করে কথা বলতে চাই না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আদেশকে অন্তহীন প্রতারণা বলেছেন। বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও রাষ্ট্রপতি মিলে এটা করেছেন। এটা তো নভেম্বর মাসের ১৩ তারিখে। আর ভোট হয়েছে ছাব্বিশের ১২ ফেব্রুয়ারি। উনাদের দাবির কারণে সংসদ ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাহলে গণভোট ওনাদেরও দাবি ছিল। গণভোটে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে তা কিন্তু আগেই নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এই সবকিছু দেখেশুনে আমিও বলেছি, প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ বলুন। তাহলে দোষটা কোথায়? আর আমাদের মধ্যে বিভক্তি কোথায়? আমরা তো এক হয়ে করেছি।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের জায়গায় আছি। জায়গা পরিবর্তন করিনি। জনগণকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বেশির ভাগ জনগণ সমর্থন করেছে। এখন মানার প্রশ্ন। যদি আমরা এটাকে অসাংবিধানিক বলি তাহলে অতীতের অনেক গণভোট নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আমরা সেদিকে যাব না। সংবিধানবহির্ভূত অনেক কাজই তো হয়েছে। সেই জায়গায় তো আপত্তি করিনি। দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে আমরা কেউ আপত্তি করিনি। আজ এই শপথটা নিয়ে সংকট তৈরি করা না হলে আলোচনার দরকারই ছিল না। ওই কাজটি হয়নি বলেই আজ সংসদের সময় নষ্ট করা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সংস্কার পরিষদের নির্বাচনের জন্য কোনো ব্যালট ছিল না। আমি বলব ব্যালট ছিল। গণভোটের ব্যালটই হচ্ছে সেই ব্যালট। আজকে আমরা ছোট অংশ। বিশাল অংশ মিলে ট্রেজারি বেঞ্চ। এখানে অনেক অভিজ্ঞ সদস্য রয়েছেন। এখানের অনেকেই সংস্কার কমিশনে ছিলেন। তারাই এটা তৈরি করেছেন। আজ তারা নিজেদের তৈরি করা জিনিসের স্ববিরোধিতা করতে পারেন না। এটা মেনে নেওয়া ছিল মহত্ত্বের লক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হতো তাদের।
জুলাই সনদকে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের তিন জোটের রূপরেখার সঙ্গে তুলনা করেন আইনমন্ত্রী। ওই রূপরেখা অনুযায়ী বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সংবিধান সংশোধন করেছিল। মন্ত্রী বলেন, এ অধ্যাদেশ সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা। সংবিধানে যে ক্ষমতা দেওয়া নাই, সেটি প্রয়োগ করা হয়েছে। সংসদ সার্বভৌম। কোনো আইন দিয়ে বাধ্য করা যায় না। সংবিধানে আদেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। যে ক্ষমতাবলে এনসিপির বর্তমান আহ্বায়ক উপদেষ্টা হিসাবে শপথ নিয়েছেন ওই ক্ষমতাবলে আমি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন আইনমন্ত্রী। বিরোধী দলের ‘৫০-৫০’ সদস্য দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২১৯ জন এমপির প্রতিনিধিরা ৫০% আর ৭৭ জনের প্রতিনিধিরা ৫০% পাবেন-এটা বৈষম্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক, যেখানে আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে জুলাই সনদের পথ ধরে এমন একটি সংশোধনী আনব যা ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
সরকারি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিপক্ষে নয় বলে সংসদে জানান বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ভোলা-১ আসনের সংসদ-সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়ে যাওয়ার একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি। ঠিক আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম, বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত? তারা বলত, যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই আচরণটা দেখতে পাচ্ছি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় (বাস্তবায়ন) করতে চাচ্ছেন? আমাদের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) আগ থেকেই দেওয়া। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আপনারা সেই সময় বিপ্লবী সরকার গঠন করেননি কেন? সাধারণ সরকারে গেলেন কেন? অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকর করতেন। ছিঁড়ে ফেলে দিতে সংবিধানকে। নতুন করে সংবিধান বানাতেন। পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন। এটা আসলে হয় না। বাহাত্তরে সংবিধান তৈরির সময়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করে পার্থ বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমাতে গিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিপরিষদের ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছি। এ কারণে আমরা অনুধাবন করেছি পরিবর্তনের। আমরা মনে করি, পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
এনসিপির উদ্দেশে পার্থ বলেন, এনসিপি যে আমাদের দল, আমাদের হিরোরা, যারা যুদ্ধ করেছেন, যারা এখানে আছেন, তাদের বলে দিই, আপনারা জেন জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যায়েন না। এনসিপি ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে আসবেন। জামায়াতের নীতি পরিবর্তনের সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান বলেন, আপনারা তো সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে শেষে এসে বলছেন, আপনারা শরিয়া আইন চান না। সেটা ভোটের জন্য। আজকে সমস্যা কী? সংবিধানটাকেও আমরা সম্মান করি, জুলাই সনদকেও আমরা সম্মান করি। আমরা ইতিবাচক ভালো কিছু নিয়ে আসব।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ১৭ বছর উন্নয়নের কথা বলে আমাদের নির্বাচনকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিগত দেড় বছর নির্বাচন বলে বলে বিচার ও সংস্কারকে ভুলিয়ে দিয়েছিলাম। এখন নখের কালি (ভোটের অমোচনীয় কালী) শুকাতে না শুকাতেই উন্নয়নের কথা বলে জুলাই সনদকে ভুলিয়ে দিয়েছি।
এনসিপির সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আমরা কোন প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে আজকের এই সংসদে এসেছি, তা সবাই জানি। সেই প্রেক্ষাপট যখন বাংলাদেশে সংঘটিত হলো, তারপরে ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো সরকার ছিল না। সেই সময়টাতে বাংলাদেশের সংবিধান কতটুকু কার্যকর ছিল? সে ব্যাপারে আমরা কি খোঁজখবর রেখেছি? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমান আইনমন্ত্রী তখন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে কিভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথের বর্ণনা সংবিধানের কোথাও নেই।
আখতার হোসেন বলেন, আগের (আওয়ামী লীগ) সরকার যে পদত্যাগ করেছে সেই পদত্যাগের ফর্মুলা কী? সংসদ যে ভেঙে দেওয়া হলো ৬ আগস্ট, সেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার ফর্মুলাটা কি সংবিধানে বর্ণনা করা ছিল? তার কোনো কিছুই সেই সময়ে সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। কারণ সেই সময় চব্বিশের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, হাজারো মানুষের জীবনের মধ্য দিয়ে নতুন এক বাংলাদেশের প্রত্যয়ে, জনগণের অভিপ্রায় ব্যক্ত হয়েছিল।
জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আগের মতো নিয়োগ হবে না মন্তব্য করে আখতার হোসেন বলেন, আপনারা যদি নতুন বাংলাদেশের কথা বলেন, আপনারা কি আবার আগের মতো করে নূরুল হুদার মতো একজনকে নির্বাচন কমিশনার বানাতে চান? নাকি আপনারা সেই ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো আপনাদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করে কে এম হাসানের মতো একজনকে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে গিয়ে ১৭ বছর বাংলাদেশকে মাসুল দিতে হয়েছিল, ইতিহাস আপনারা ভুলে গিয়েছেন।
