ঢামেক চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
জরুরি বিভাগ বন্ধে চরম ভোগান্তি, বিচারের আশ্বাসে ফের চালু
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফের সংঘর্ষ এড়াতে বুধবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যারিকেড -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তুচ্ছ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় জরুরি বিভাগে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাসে রাতেই জরুরি সেবা চালু হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি গেট পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়। ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ফের জরুরি বিভাগ বন্ধ বা কমপ্লিট শাটডাউনের হুঁশিয়ারি দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৈঠক শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনা তদন্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. নাদিম আহম্মদকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
সূত্র জানায়, বিকালে ঢাবির অমর একুশে হলের এক শিক্ষার্থী (সানিম, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বোটানি বিভাগ) ঢামেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেন। তবে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত একটি ইনজেকশন হাসপাতালের সরবরাহে না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়। ওই শিক্ষার্থী বাইরে গিয়ে ওষুধটি না পেয়ে হাসপাতালে ফিরে এসে নতুন ওষুধ লিখে দিতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী হলে গিয়ে আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এসে চিকিৎসকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কয়েক দফা ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঢাবির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সানিম অভিযোগ করেন, ওষুধ পরিবর্তন করে দিতে বললে চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে ‘বাইরে ওষুধ না পেলে আমি কি করব’-এমন কথা বলেন। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডা হলে তার কাছে থাকা স্কেল দিয়ে মারতে উদ্যত হন। পরে তিনি হলে গিয়ে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে ওই চিকিৎসককে টেনে বাইরে নিয়ে যেতে যান। তখন অন্য চিকিৎসকরা এসে তাদের ওপর হামলা করে।
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসক্রাইব করা ইনজেকশনটি প্যাথেডিন জাতীয় হওয়ায় সম্ভবত বিক্রেতারা দিতে চান না। যদিও এ ধরনের ইনজেকশন বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহমান জানান, সংঘর্ষের পর রোগীরা হাসপাতালে ঢুকতে না পারায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকে। জরুরি বিভাগে প্রবেশের দুটি গেট বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঘটনার পর চিকিৎসকরা ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে অবস্থান করছেন আর বাইরে ঢাবি শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন। ভেতরে কোনো রোগী বা স্বজন প্রবেশ করতে পারছেন না। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে দূর-দূরন্ত থেকে আসা রোগীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণেও ঢুকতে পারছিলেন না। অনেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। রাত সাড়ে ৭টায় উভয়পক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসেন। ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসক, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ৮টার পর জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ থাকলেও টিকিট কেটে রোগীদের পেছন দিয়ে ভেতরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এ সময় উত্তেজনা কমাতে মেডিকেল এলাকা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়। জরুরি বিভাগের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী বলেন, টিকিট নেওয়ার পরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। পরে কয়েকবার অনুরোধ করেও ভেতরে ঢুকতে পারেননি। রফিক নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, তার ভাইকে অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে। অথচ ভেতরে যেতে চাইলে আনসার সদস্যরা ঢুকতে দেননি।
রাত পৌনে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগের সামনে ইন্টার্ন চিকিৎসক দীপ্ত নুর কল্লোল সাংবাদিকদের বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ফের জরুরি বিভাগ বন্ধ বা কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হবে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
