Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

সিপিডির সেমিনারে ইকবাল হাসান মাহমুদ

আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং অর্ধেক কমে যাবে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং অর্ধেক কমে যাবে

Advertisement

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ দরকার ১৮ হাজার মেগাওয়াট। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটে নেমে আসবে। অর্থাৎ লোডশেডিং অর্ধেকে নেমে আসবে বলে ধারণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে ৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে। সম্ভব হলে আজ (সোমবার) থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সব উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। যাতে এ খাতের বিনিয়োগ সহজ হয়। সরকারের চিন্তা হচ্ছে, সোলার প্যানেল বসাতে অলস পড়ে থাকা সরকারি জমি বরাদ্দ দিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চলমান লোডশেডিং নিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমার কপাল খারাপ এবারও লোডশেডিং নিয়ে মন্ত্রিত্ব করতে হচ্ছে। গতবার যখন (২০০১-২০০৬) ক্ষমতায় ছিলাম, তখনো বেশ লোডশেডিং হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ২৯ হাজার মেগাওয়াটের মতো। এখন বাকি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পাওনা ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে এবার যুদ্ধের কারণে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে জ্বালানি তেল আমদানিতে।

তিনি বলেন, এ সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবকিছু করবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকল্পগুলো কেন বাতিল করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

সেমিনারে সিপিডির পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও আবরার আহমেদ ভুইয়া যৌথভাবে পেপার উপস্থাপন করেন। এ সময় বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রধান বাধা গ্যাস সংকট। ২০১৫-২০২৬ সাল থেকে এ সংকট শুরু হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আজ দেশে গ্যাসের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, বিডা প্রথমবার চীনে অফিস খুলছে। যাতে বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়াও নতুন নতুন প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে দেশে শিল্পায়ন করা যায়। বিজিএমইএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার বিদ্যা আমরিত খান বলেন, বায়ারদের শর্ত অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক রপ্তানিকারক ফ্যাক্টরিগুলোকে একটি বড় অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে ফ্যাক্টরি চালাতে হবে। এজন্য গার্মেন্টস মালিকরা সৌরবিদ্যুৎ বসাতে চান। কিন্তু মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ঠিক না হওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, মার্চেন্ট পাওয়ারের জন্য কোনোভাবেই ৭০ সেন্টের বেশি হুইলিং চার্জ নির্ধারণ করা যাবে না। গার্মেন্টস মালিকদের সোলারে ব্যবহার করা ব্যাটারির আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে বলে উল্লখ করেন তিনি।

সেমিনারে বিটিএমইএ-এর পরিচালক রাজিব হায়দার বলেন, ট্যাক্সটাইল সেক্টরে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ২৩ বিলিয়ন ডলার। এখন গ্যাসের কারণে এই শিল্প ২৭ শতাংশ কম উৎপাদন করতে পারছে। দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদন কমছে। এভাবে প্রতিবছর গ্যাস সরবরাহ কমলে দেশের শিল্পকারখানা লাটে উঠবে। এজন্য তিনি শিগ্গিরই আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসানোর সুপারিশ করেন। এটি ছাড়াও ভোলার গ্যাস খুলনা পর্যন্ত আনতে পারলে দেশের লাভ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকাস্থ চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সেমিনারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর বাংলাদেশ চীনের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। এই যুদ্ধ সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা তৈরি করা দরকার। যেমনটি চীন করেছে। চীনের বাসাবাড়ির অর্ধেক বিদ্যুৎ এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে তৈরি। বাংলাদেশকে চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে চায়না এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ-সিইএবির সভাপতি হাং কুন বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৯৮ কোটি ডলার এবং ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগের দরকার আছে। কিন্তু এখানে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও পিডিবির কাছ থেকে বিল পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। এগুলো দূর না করলে বড় বিনিয়োগ আসবে না।

সেমিনারে ইডকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর কবীর, ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ, মোস্তফা আল মাহমুদ, জাহিদুর রহমান, তানভীর দীপু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সংবিধানে আসছে মৌলিক পরিবর্তন আবারও গণভোটের ভাবনা

আবারও গণভোটের ভাবনা

দুদিনে চার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা নতুন আতঙ্ক মধ্যরাতে হামলা

নতুন আতঙ্ক মধ্যরাতে হামলা

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠেন

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠেন

সালমানের স্টুডিওতে হামলা ভাঙচুর গুলি লুটপাট

সালমানের স্টুডিওতে হামলা ভাঙচুর গুলি লুটপাট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম