Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

টাকা চোরদের শান্তিতে থাকতে দেব না : গভর্নর

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

টাকা চোরদের শান্তিতে থাকতে দেব না : গভর্নর

মো. মোস্তাকুর রহমান। ফাইল ছবি।

Advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশ চাপে রয়েছে এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কয়েকটি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। যারা টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গভর্নর বলেন, ‘ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমানত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুরো খাতকে স্থিতিশীল করতে সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

এসময় প্রথমবারের মতো নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপি অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন গভর্নর। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত চার মাসে অনেকবার ঋণখেলাপির অভিযোগ শুনেছি। বাস্তবতা হলো- একটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, যা ছিল সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি। সেই ফ্যাক্টরিতে প্রথম স্যাংশন ছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের আন্ডারে, যেখানে সুদের হার ছিল ৪%। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর ব্যাংক জানায়, ওই তহবিলটা শেষ হয়ে গেছে। এখন ৯ থেকে ১১% সুদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই হিসাব পালটে গেছে। পেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে হয়নি। ডিলে হয়েছে এবং সেখানে কোভিড এবং অন্যান্য প্রবলেমও ছিল।’

গভর্নর বলেন, ‘একটা হচ্ছে ওভারডিউ হওয়া, ডিলে হওয়া, সেটা এক জিনিস। আরেকটা হচ্ছে খেলাপি হয়ে যাওয়া, সেটা ভিন্ন জিনিস। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য বন্ধ হয়নি। একদিনের জন্য এক্সপোর্ট বন্ধ হয়নি। এক মাসের জন্য বেতন ডিলে হয়নি। ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি, উলটো ১০০ কোটি টাকার উপরে ব্যাংকে পরিশোধ করেছে। তবে একটা মিথ্যা অনেকবার বলতে বলতে সত্য হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘নির্মম সত্য হলো-পাচার করা টাকা ফেরত আনা কঠিন। বৈশ্বিকভাবে পাচারের টাকা ফেরতের হার ২%। আর এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লাগে ৭-১০ বছর। আমরাও চেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

গভর্নর জানান, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব গ্রাহক আমানতের টাকা তুলতে সমস্যায় ছিলেন, তারা ধীরে ধীরে টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।’

গভর্নর বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন বোর্ড গঠনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যে প্রথম বোর্ড সভা হয়েছে।’

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যাংককে ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় না, এমনকি বদলি বা পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তাই এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।’

ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর। তিনি বলেন, ‘এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক হওয়ায় বোর্ডে ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন নিয়োগ দিতে হয়েছে।’

গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নীতিগত উপকরণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো ব্যবহার করা হবে।’ তিনি আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গ্রাহকরা যে কোনো সময় তাদের টাকা তুলতে পারবেন।’

গভর্নর জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের এডি রেশিও ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা চলতি বছরের মার্চে ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছে যায়। এ হার কমিয়ে আনতে ব্যাংকটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হচ্ছে না। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তাও দেবে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, ১০ থেকে ১২ বছর ধরে যারা টাকা ফেরত পাননি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের জন্যও কার্যক্রম শুরু হবে। নগদবিহীন লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করতে চালু হচ্ছে বাংলা কিউ আর কোড। নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে এই লেনদেন করা হবে। ১ জুলাই থেকে এই লেনদেন সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সংবিধানে আসছে মৌলিক পরিবর্তন আবারও গণভোটের চিন্তা

আবারও গণভোটের চিন্তা

দুদিনে চার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা নতুন আতঙ্ক মধ্যরাতে হামলা

নতুন আতঙ্ক মধ্যরাতে হামলা

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠেন

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠেন

সালমানের স্টুডিওতে হামলা ভাঙচুর গুলি লুটপাট

সালমানের স্টুডিওতে হামলা ভাঙচুর গুলি লুটপাট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম